বিনোদন
দেশ নিয়ে স্বপ্ন দেখেছিলেন তিনি, স্বপ্ন দেখেছিলেন একটি সুন্দর, ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশের। সেই স্বপ্ন থেকেই নিজ অবস্থান থেকে লড়াইয়ে নেমেছিলেন অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। তবে সময়ের ব্যবধানে সেই স্বপ্নই এখন পরিণত হয়েছে গভীর হতাশায়। কণ্ঠে আর আশার সুর নেই, বরং ঝরে পড়ছে ক্ষোভের আগুন।
তার ভাষায়, “আমি শুধু হৃদয় ভাঙা নই, আমি ক্ষুব্ধ, লজ্জিত।”
এক সময় লাক্স তারকা থেকে বলিউড অব্দি পৌঁছানোর যে পথ পাড়ি দিয়েছেন বাঁধন, তার প্রতিটি ধাপে ছিল সামাজিক দায়বদ্ধতা ও দেশের প্রতি ভালোবাসা। সেই জায়গা থেকেই অংশ নিয়েছিলেন ২০২৩ সালের জুলাই-আগস্টের সরকারবিরোধী আন্দোলনে।
আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সর্বোচ্চ সুবিধা উপভোগ করে হঠাৎ সহিংসতাকারীদের সপক্ষে মুক্তকচ্ছ হয়ে রাস্তায় নামা এই অভিনেত্রীর ‘ইউটার্ন’ ছিল রাজনৈতিক অঙ্গনে এক চমক। বাঘা বাঘা রাজনৈতিক নেতাদের ডিঙিয়ে অভিনেত্রী থেকে পুরোদস্তর রাজনীতিবিদের ভূমিকা নেন তিনি।
একসময় তার বিতর্কিত জীবন নিয়ে ধর্ম ব্যবসায়ীদের চরম আপত্তি ও সমালোচনা থাকলেও, তারাই বাঁধনের পেছনে একাট্টা হয়েছিলেন সরকারবিরোধী সহিংসতায়।
অথচ, এক বছর না যেতেই সেই আন্দোলনের ফল না পেয়ে মন ভেঙেছে তার। গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বাঁধন জানান, তখন তার মনে ছিল প্রচণ্ড আশাবাদ, প্রবল উত্তেজনা। তিনি বিশ্বাস করতেন, এবার সত্যিই বড় কোনো পরিবর্তন আসবে। কিন্তু বাস্তবতা ছিল ভিন্ন।
বাঁধন বলেন, “একই দুর্নীতিগ্রস্ত, পচে যাওয়া ব্যবস্থা এখনো রয়ে গেছে, যা প্রকৃত পরিবর্তনের সব আশা দমন করে ফেলছে।”
এই হতাশা শুধু তার রাজনৈতিক চেতনায় নয়, ছড়িয়ে পড়েছে ব্যক্তিজীবনেও। মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে বরাবরই খোলামেলা কথা বলেন বাঁধন। এবারও তিনি জানান, তীব্র বিষণ্নতায় ভুগছেন, ওজন বেড়েছে, সবকিছুর মাঝেই জমেছে একরকম ক্লান্তি।
আগামী ঈদে মুক্তি পাচ্ছে তার নতুন চলচ্চিত্র ‘এশা মার্ডার: কর্মফল’। ২০০৯ সালে আজিমপুরে ঘটে যাওয়া একটি আলোচিত খুনের সত্য ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত এই সিনেমায় বাঁধন অভিনয় করেছেন এক পুলিশ তদন্ত কর্মকর্তার চরিত্রে।
