আন্তর্জাতিক
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাফ জানিয়ে দিয়েছেন দিয়েছেন, ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা আত্মসমর্পণ করলেই কেবল তাদের ওপর সামরিক হামলা বন্ধ করা হবে।
এদিকে, ওমান জানিয়েছে তারা ইরান-সমর্থিত এই বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সঙ্গে একটি সমঝোতা চুক্তি করিয়েছে, যার মাধ্যমে হুতিরা লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা বন্ধ করতে সম্মত হয়েছে।
“তারা আর লড়াই করতে চায় না,” হোয়াইট হাউজে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন। “আমরা তাদের ইচ্ছার প্রতি সম্মান দেখাবো। আমরা বোমাবর্ষণ বন্ধ করব। তারা আত্মসমর্পণ করেছে।”
ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আল-বুসাইদি জানান, এই চুক্তির ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও হুতি গোষ্ঠী একে অপরকে আক্রমণ করবে না, ফলে লোহিত সাগর ও বাব আল-মানদেব প্রণালীতে নিরাপদ নৌ-চলাচল ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সচল থাকবে।
তবে এ ব্যাপারে হুতিদের পক্ষ থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি আসেনি।
মার্চ থেকে যুক্তরাষ্ট্র হুতিদের ওপর হামলা বাড়িয়েছে। এখন পর্যন্ত এক হাজারেরও বেশি স্থাপনায় হামলা করা হয়েছে বলে মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, হুতিরা জানিয়েছে তারা আর জাহাজে হামলা চালাবে না। “এটাই ছিল আমাদের অভিযানের মূল উদ্দেশ্য,” তিনি বলেন। “তারা বলেছে, আর কোনো জাহাজ ধ্বংস করবে না।”
২০২৩ সালের শেষ দিকে গাজায় ইসরায়েলের হামলার বিরুদ্ধে সংহতি জানিয়ে হুতিরা লোহিত সাগরে পণ্যবাহী জাহাজে হামলা শুরু করে। এ পর্যন্ত তারা ডজনখানেক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে, দুটি জাহাজ ডুবিয়েছে, একটি জাহাজ দখল করেছে এবং ৪ জন নাবিককে হত্যা করেছে।
এই হামলাগুলো বাণিজ্যিক নৌ-চলাচলে ভয়াবহ ব্যাঘাত ঘটিয়েছে, ফলে অনেক শিপিং কোম্পানি লোহিত সাগরের পরিবর্তে দীর্ঘ পথ ঘুরে আফ্রিকার দক্ষিণ প্রান্ত দিয়ে যাতায়াত করতে বাধ্য হয়েছে।
প্রথমে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এবং পরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুতিদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান জোরদার করেন বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিরাপদ করার স্বার্থে।
তবে এই হামলাগুলো নিয়ে বিতর্কও রয়েছে। গত মাসে হুতিরা অভিযোগ করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিমান হামলায় উত্তর-পশ্চিম ইয়েমেনের একটি বন্দিশিবিরে অন্তত ৬৮ জন আফ্রিকান অভিবাসী নিহত হয়েছেন।
যদিও হামলা বন্ধে চুক্তি হয়েছে, কিন্তু উত্তেজনা এখনও প্রশমিত হয়নি। হুতিরা এখনও ইসরায়েলের দিকে নিয়মিত ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ছে। রোববার একটি ক্ষেপণাস্ত্র তেলআবিবের কাছে বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরের কাছে আঘাত হানে।
এর জবাবে মঙ্গলবার ইসরায়েল ইয়েমেনের রাজধানী সানার প্রধান বিমানবন্দরে ব্যাপক বিমান হামলা চালায়, যা “সম্পূর্ণ ধ্বংস” হয়ে গেছে বলে ইতিমধ্যে সংবাদমাধ্যমে এসেছে। বিমানবন্দরের একজন কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এএফপিকে। এছাড়াও বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং সিমেন্ট কারখানাতেও হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল।
