মতামত।। ফেরা হলোনা আর, বাংলাদেশের প্রথম নির্বাসিত কবি দাউদ হায়দার এর

মতামত।। ফেরা হলোনা আর, বাংলাদেশের প্রথম নির্বাসিত কবি দাউদ হায়দার এর
শেয়ার করুন

বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচে আলোচিত কবিতাটা একটা রহস্যময় কবিতা। চল্লিশ বছরের বেশি সময় ধরে এ কবিতা আলোচনার শীর্ষে রয়েছে। কবির নাম সবাই জানে। কিন্তু অদ্ভুত ব্যাপার হচ্ছে কবিতার নামটা প্রায় কেউ-ই জানে না। কবিতার নামই যেখানে কেউ জানে না, সেখানে কবিতাটা জানার প্রশ্নই আসে না।

এই কবিতা ব্যাপকভাবে আলোচিত তার কাব্য মূল্যের জন্য নয়। এর মূল তাৎপর্য রাজনৈতিক। স্বাধীন বাংলাদেশে কবিতা লিখে নির্বাসিত হবার দূর্ভাগ্য এই কবিতার কারণে তার জনকেরই হয়েছিল। একটা ধর্ম নিরপেক্ষ দেশের মোল্লাতন্ত্রের হাতে নিক্ষেপিত হবার সেটাই প্রথম পদক্ষেপ। এ কারণেও এর গুরুত্ব অপরিসীম সকলের কাছে। সেই এক পদক্ষেপ থেকে আজ আমরা কোন চোরাবালিতে নিক্ষেপিত হয়েছি, সে সকলেরই জানা কথা।

এই কবির নাম দাউদ হায়দার। ১৯৭৪ সালে অল্পবয়েসী এক তরুণ তিনি। এই বছরের শুরুর দিকে একটা কবিতা লেখেন তারুণ্যের প্রবল উচ্ছ্বাসে। নাম ‘কালো সূর্যের কালো জ্যোৎস্নায় কালো বন্যায়’। ২৪শে ফেব্রুয়ারি সেটা ছাপা হয়ে যায় দৈনিক সংবাদে।

কবিতার মাধ্যমে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়া হয়েছে, এই অভিযোগে মোল্লাদের প্রবল রোষানলে পড়েন তিনি। বাধ্য হয়ে সরকার তাঁকে গ্রেফতার করে। কিন্তু, পরবর্তীতে সরকারী সহযোগিতাতেই তিনি কোলকাতায় পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। দেশে থাকলে মোল্লাদের রোষ থেকে তাঁকে বাঁচাতে পারবে না বলে শেখ মুজিবের প্রত্যক্ষ হস্তক্ষেপে বাংলাদেশ সরকার তাঁকে কারাগার থেকে বের করে নিয়ে কোলকাতাগামী প্লেনে তুলে দেয়। সেখান থেকে পরবর্তীতে তাঁর আবাস হয় জার্মানি। আজ, এতো বছর পরেও কবি দাউদ হায়দার দেশে যেতে পারেন না। হয়ে আছেন চির-নির্বাসিত একজন।

এ প্রসঙ্গে নোনাগন্ধী নামে একজন তাঁর “উপমহাদেশে ধর্মীয় মৌলবাদঃ কিছু বৈঠকী গল্পগুজব”- এ লিখেছেনঃ

“১৯৭৩ সালের শেষ নাগাদ দাউদ হায়দার ‘কালো সূর্যের কালো জ্যোৎস্নয় কালো বন্যায়’ নামে একটি কবিতা লেখেন। কবিতাতে তিনি বুদ্ধ, যীশু ও মোহাম্মদকে ভণ্ডামি ও রাজনীতি করার জন্য সমালোচনা করেন। এরপর ‘ঢাকা কলেজ’-এর এক শিক্ষক ‘ধর্মানুভূতি’তে আঘাত হানার দায়ে তাঁর নামে আদালতে মামলা ঠুকে দেন। এবং কী আশ্চর্য! ধর্মনিরপেক্ষ বাংলাদেশের প্রথম সরকার তাঁকে ১৯৭৪ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি গ্রেপ্তার করে। ঘটনা এখানেই শেষ নয়, ওই বছর ২০ মে তাকে মুক্তি দিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশে সরাসরি কোলকাতাগামী একটি বিমানে তুলে দেয়া হয়। ওই বিমানে একমাত্র যাত্রী ছিলেন দাউদ হায়দার। তিনি কোলকাতায় নেমে দেখতে পান তার কাছে টাকা বলতে আছে মাত্র ৬০ পয়সা। ১৯৭৭ সালে বাংলাদেশী পাসপোর্ট নবায়ন করতে গেলে কোলকাতা উপদূতাবাস তাঁর পাসপোর্ট জব্দ করে নেয়। বস্তুত তখন থেকে তিনি হয়ে যান দেশহীন মানুষ, যেমন তিনি জার্মানিতে আছেন আজও। নোবেল পুরস্কারপ্রাপ্ত সাহিত্যিক গুন্টার গ্রাস তাকে জাতিসঙ্ঘের বিশেষ পাস সংগ্রহ করে দেন। সেটিই তার পরিচয় এখন।”

দাউদ হায়দারের এই কবিতাটা বহু খুঁজেও পাওয়া যায়না।কবিতাটা বিশাল। বাংলা এবং ইংরেজি মিশ্রিত। বাংলা ৭৭ লাইন, ইংরেজি ১৬ লাইন, সর্বমোট ৯৩ লাইন। সামু ব্লগের এক পোস্টে পাওয়া যায়। থাক সেটা আলোচনার বাইরে।

Visited 138 times, 1 visit(s) today