আন্তর্জাতিক ডেস্ক
কোয়েটা, ২৭ এপ্রিল ২০২৫: পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশের রাজধানী কোয়েটার উপকণ্ঠ মারগাট এলাকায় একটি রিমোট-নিয়ন্ত্রিত ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি) হামলায় পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর ১০ জন সৈন্য নিহত হয়েছে। বালুচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ) এই হামলার দায় স্বীকার করেছে, যারা পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে “দখলদার” হিসেবে অভিহিত করে তাদের বিরুদ্ধে সশস্ত্র প্রতিরোধ চালিয়ে আসছে।
বিএলএ-এর মুখপাত্র জিয়ান্দ বালুচ এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, “বালুচ মুক্তি সংগ্রামীরা কোয়েটার মারগাটে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর একটি কনভয়কে লক্ষ্য করে রিমোট-নিয়ন্ত্রিত আইইডি হামলা চালিয়েছে। এই অভিযানে শত্রুপক্ষের একটি গাড়ি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে এবং এতে থাকা সকল ১০ জন সৈন্য নিহত হয়েছে।” নিহত সৈন্যদের মধ্যে সুবেদার শাহজাদ আমিন এবং নায়েব সুবেদার আব্বাসের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে জানা গেছে, এই হামলাটি শুক্রবার (২৫ এপ্রিল) সংঘটিত হয়েছে, এবং বিএলএ হামলার একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে, যেখানে একটি পাহাড়ি এলাকায় বিস্ফোরণের দৃশ্য দেখা যায়। বিএলএ তাদের বিবৃতিতে আরও জানিয়েছে যে, পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে তাদের এই ধরনের হামলা “তীব্রতার সঙ্গে” অব্যাহত থাকবে।

এই হামলা বালুচিস্তানে চলমান বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনের অংশ, যেখানে বিএলএ এবং অন্যান্য বালুচ জাতীয়তাবাদী গোষ্ঠী পাকিস্তান সরকারের বিরুদ্ধে প্রাকৃতিক সম্পদের শোষণ, জোরপূর্বক গুম, নির্যাতন এবং নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুলে স্বাধীন বালুচ রাষ্ট্রের দাবিতে সংগ্রাম চালিয়ে আসছে।
গত মাসে বিএলএ জাফর এক্সপ্রেস ট্রেন হাইজ্যাকের মতো উল্লেখযোগ্য হামলা চালিয়েছিল, যেখানে প্রায় ৪৪০ যাত্রীকে জিম্মি করা হয় এবং ২১ জন নিহত হয়। বিশ্লেষকদের মতে, ২০১৭ সাল থেকে বালুচ বিদ্রোহের তীব্রতা, জটিলতা এবং ভৌগোলিক বিস্তৃতি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ এখনও এই হামলার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করেনি। তবে, এই ঘটনা পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা দুর্বলতাকে আরও প্রকট করে তুলেছে। এই হামলার পর ভারতের একজন সাংসদ, নিশিকান্ত দুবে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পাকিস্তানের অখণ্ডতা নিয়ে মন্তব্য করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন।
