সিমলা চুক্তি স্থগিত: ভারতের ওপর কতটা প্রভাব ফেলবে পাকিস্তানের সিদ্ধান্ত

সিমলা চুক্তি স্থগিত: ভারতের ওপর কতটা প্রভাব ফেলবে পাকিস্তানের সিদ্ধান্ত
শেয়ার করুন

আন্তর্জাতিক

পাহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলায় ২৬ জন নিহত হওয়ার পর ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনা চরমে উঠেছে। একে অপরকে দোষারোপ করে উভয় দেশ পাল্টাপাল্টি সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। ভারত সিন্ধু জল চুক্তি স্থগিত করেছে, সীমান্ত বন্ধসহ কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্নের পথে এগিয়েছে। জবাবে পাকিস্তানও ভারতীয় পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করেছে, আকাশসীমা ব্যবহার বন্ধ করেছে এবং ১৯৭২ সালের সিমলা চুক্তি স্থগিত ঘোষণা করেছে।

এই সিদ্ধান্ত পাকিস্তানের অভ্যন্তরে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক সমর্থন পেয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, সিমলা চুক্তি পাকিস্তানকে কাশ্মীর ইস্যু আন্তর্জাতিক ফোরামে তোলা থেকে বিরত রেখেছে। এখন তা স্থগিত হওয়ায় পাকিস্তান কাশ্মীর ইস্যু নিয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে আরও সোচ্চার হতে পারবে বলে মনে করছেন তারা।

তবে ভারতের কৌশলগত বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সিমলা চুক্তি থেকে পাকিস্তান বেরিয়ে যাওয়ায় ভারতের ওপর কোনো প্রভাব পড়বে না। দিল্লিভিত্তিক বিশ্লেষক সুশান্ত সারিন বলেছেন, “সিমলা চুক্তি অনেক আগেই কার্যত মৃত হয়ে গেছে। পাকিস্তান কখনও চুক্তিটি মানেনি। তারা কারগিল যুদ্ধ করেছে, সন্ত্রাসীদের আশ্রয় দিয়েছে। কাজেই এখন এটিকে বাতিল করে ‘সৎকার’ করলেই বরং ভালো।”

অন্যদিকে, জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মহেন্দ্র লামা বলেছেন, “সিমলা চুক্তি স্থগিতের কোনো কূটনৈতিক মূল্য নেই। কিন্তু সিন্ধু জল চুক্তি কার্যকর একটি চুক্তি, যা ভাঙলে পাকিস্তানের কৃষি ও জনগণ সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”

১৯৭২ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে স্বাক্ষরিত সিমলা চুক্তি মূলত ভারত-পাকিস্তান দ্বিপাক্ষিক আলোচনার ভিত্তিতে সমস্যা সমাধানের পথ উন্মুক্ত করে। এর মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ রেখা (এলওসি) নির্ধারিত হয় এবং একতরফা সিদ্ধান্ত না নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয় দুই দেশ।

কিন্তু বিশ্লেষকদের মতে, বাস্তবে দুই দেশই এলওসি লঙ্ঘনের অভিযোগ করে আসছে এবং চুক্তির মৌলিক রূপটি অনেক আগেই ভেঙে পড়েছে।

জাতিসংঘ সব পক্ষকে “সর্বোচ্চ সংযম” দেখানোর আহ্বান জানিয়েছে। তবে এখনো পর্যন্ত পরিস্থিতি যেদিকে যাচ্ছে, তাতে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কাই জোরালো হচ্ছে।

Visited 91 times, 1 visit(s) today