৯’শ কোটির বোর্ড বিসিবি’র সঞ্চয়ে হাত

৯’শ কোটির বোর্ড বিসিবি’র সঞ্চয়ে হাত
শেয়ার করুন

স্পোর্টস ডেস্ক

ঢাকা, ২৪ এপ্রিল ২০২৫: বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) তাদের সঞ্চিত ফিক্সড ডিপোজিট থেকে ১২০ কোটি টাকা উত্তোলন করেছে, যা নিয়ে জনমনে প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। জানা গেছে, বিগত আমলে বিভিন্ন ব্যাংকে বিসিবির সঞ্চিত ডিপোজিটের পরিমাণ ছিল প্রায় ৯০০ কোটি টাকা, সম্পদ ছিলো ১২০০ কোটি টাকার উপর। এই তহবিলের সুদ থেকে প্রাপ্ত অর্থ দিয়েই মূলত বিসিবি তাদের নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনা করত। তবে এই বড় অঙ্কের টাকা উত্তোলনের কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা না পাওয়ায় নানা জল্পনা তৈরি হয়েছে।

বিসিবি প্রেসিডেন্ট ফারুক আহমেদ নির্বাহী ক্ষমতাবলে এই তহবিল স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে এই অর্থ কোথায় ব্যয় করা হচ্ছে বা কী উদ্দেশ্যে উত্তোলন করা হয়েছে, তা স্পষ্ট নয়। বিসিবির অভ্যন্তরীণ সূত্র জানায়, বোর্ডের অনেক সদস্যই এই সিদ্ধান্ত সম্পর্কে অবগত ছিলেন না, যা সংগঠনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

জনমনে প্রশ্ন উঠেছে, বিসিবি কি তাদের নিয়মিত খরচ চালাতে এই গচ্ছিত তহবিল ভাঙছে? নাকি অন্য কোনো বড় প্রকল্প বা বিনিয়োগের জন্য এই অর্থের প্রয়োজন পড়েছে? ক্রিকেটপ্রেমী ও বিশ্লেষকদের মধ্যে এ নিয়ে তীব্র আলোচনা চলছে।

বিসিবির আয় কমছে কেন?

বিসিবির আয়ের প্রধান উৎসগুলোর মধ্যে রয়েছে আন্তর্জাতিক ম্যাচের সম্প্রচার স্বত্ব, স্পনসরশিপ, টিকিট বিক্রি এবং আইসিসি থেকে প্রাপ্ত তহবিল। সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কয়েকটি কারণে এই আয় কমে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রথমত, বাংলাদেশ ম্যাচের সম্প্রচার স্বত্ব বিক্রি করতে ব্যার্থ হচ্ছে বিসিবি। বর্তমানের জিম্বাবুয়ে সিরিজ সম্প্রচারের জন্য কোন চ্যানেল অর্থ দিতে রাজি হয় নাই। তাই শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে রাষ্ট্রায়ত্ত্ব চ্যানেল বিটিভিতে বিনে পয়সায় খেলা সম্প্রচার করছে বিসিবি। দ্বিতীয়ত, বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে দর্শকদের উপস্থিতি কমে যাওয়ায় টিকিট বিক্রির আয়ও কমেছে। এছাড়া, আন্তর্জাতিক ম্যাচের সংখ্যা এবং বড় দলগুলোর সঙ্গে সিরিজের সুযোগ কম থাকায় সম্প্রচার স্বত্ব থেকে প্রত্যাশিত আয় অর্জন সম্ভব হয়নি।

এদিকে, বিসিবির ব্যয় বেড়েছে। খেলোয়াড়দের বেতন, কোচিং স্টাফের খরচ, স্টেডিয়াম রক্ষণাবেক্ষণ এবং ঘরোয়া ক্রিকেটের আয়োজনের ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সঞ্চিত তহবিলের উপর নির্ভরতা বাড়ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

বিসিবির এই সিদ্ধান্ত নিয়ে ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন, বিসিবির আর্থিক ব্যবস্থাপনা কতটা স্বচ্ছ? কেউ কেউ এই তহবিল উত্তোলনের বিষয়ে স্বাধীন তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। একজন ক্রিকেট ভক্ত বলেন, “৯০০ কোটি টাকার ডিপোজিট থেকে যদি এত বড় অঙ্কের টাকা তুলতে হয়, তাহলে বিসিবির আর্থিক স্বাস্থ্য নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।”

বিসিবি এখনো এই তহবিল উত্তোলনের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি দেয়নি। তবে আগামী বোর্ড সভায় এই ইস্যুটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্যসূচি হিসেবে উঠে আসতে পারে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিসিবির আয় বাড়াতে নতুন স্পনসরশিপ চুক্তি, ঘরোয়া ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজনের সংখ্যা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।

বিসিবির পক্ষ থেকে বিস্তারিত ব্যাখ্যা না পাওয়া পর্যন্ত এই ঘটনা নিয়ে জল্পনা অব্যাহত থাকবে। ক্রিকেটপ্রেমীরা এখন অপেক্ষায় আছেন, বিসিবি তাদের আর্থিক স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা প্রমাণ করতে পারবে কি না।

 

Visited 302 times, 1 visit(s) today