আবারও ঘোষণা দিয়ে হাওরে দুই জলমহালের মাছ লুট

আবারও ঘোষণা দিয়ে হাওরে দুই জলমহালের মাছ লুট
শেয়ার করুন
নিজস্ব প্রতিবেদক

হাওরে ঘোষণা দিয়ে পুলিশ-সেনা সদস্যদের সামনেই আরো দুটি জলমহালের মাছ লুট করেছে এলাকাবাসী।

৫ই মার্চ ভোর থেকে দেশিয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে উচ্ছুঙ্খল জনতা মাছধরার নানা সরঞ্জাম নিয়ে গিয়ে জলমহালে উৎসব করে মাছ ধরতে শুরু করে। সেনাবাহিনী, পুলিশ ও প্রশাসন অসহায়ের মতো দেখেছে মাছ লুটের এই দৃশ্য।

ইজারাদার ও প্রত্যক্ষদর্শী এলাকাবাসী জানান, ৪ঠা মার্চ দিরাই উপজেলার বেথুর নদীর প্রথম খণ্ড ও দ্বিতীয় খণ্ড জলমহালের মাছ লুট করতে স্থানীয় ৫-৬টি গ্রামের বাসিন্দারা ঘোষণা দেন। ৫ই মার্চ ভোররাত থেকেই তারা মাছ ধরার সরঞ্জাম ও দেশিয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে জলমহালে মাছ ধরতে যান।

ইজারাদাররা খবর পেয়ে প্রশাসনের শরণাপন্ন হলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, থানার ওসি ও সেনা কর্মকর্তার নেতৃত্বে প্রশাসনের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে যান। সেখানে গিয়ে দেখেন বিশাল জলাশয়ের চারদিকে হাজার হাজার মানুষ জড়ো হয়েছে মাছ লুট করছে।

প্রশাসনের লোকজন মাইকিং করে এলাকাবাসীকে বারণ করলেও কেউ তা শোনেননি। প্রশাসনের বাধা উপেক্ষা করে হাজার হাজার মানুষ জলমহালের মাছ লুট করে।

এই দৃশ্য অসহায়ের মতো সকাল ১০টা পর্যন্ত প্রত্যক্ষ করে ফিরে যান পুলিশ, সেনা ও প্রশাসনের লোকজন। হাজার হাজার লোক নির্বিঘ্নে মাছ লুট করে চলে যায়।

এই জলমহালের প্রথম অংশের ইজারাদার যুবজমিয়ত ইসলামের নেতা উবায়দুল হক চৌধুরী ও দ্বিতীয় অংশের ইজারাদার উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব কিরণ হাসান চৌধুরী বলেন, এটা মব সংস্কৃতির অংশ। ঘোষণা দিয়ে ৫-৬টি গ্রামের বাসিন্দারা আমাদের জলমহালের মাছ লুট করে নিয়ে গেছে। প্রশাসন নিয়ে এসেও আমি রক্ষা করতে পারিনি। প্রশাসনের সঙ্গে আমরাও চেয়ে চেয়ে লুটপাটের দৃশ্য দেখেছি।

এই দুইটি বিলের প্রায় ১ কোটি টাকার মাছ লুট হয়েছে বলে জানান তারা।

এদিকে ৫ই মার্চ ভোরে জামালগঞ্জ উপজেলার আয়লা ছাদাইয়া গ্রুপ জলমহালের মাছও লুট করেছে জামালগঞ্জ ও দিরাই উপজেলার কয়েকটি গ্রামের লোকজন। জামালগঞ্জ উপজেলার নাজিমনগর, হটামারা এবং দিরাই উপজেলার খাগাউড়া, সিচনি, রফিনগর, মির্জাপুর, বাংলাবাজার, খাগাউড়াসহ বিভিন্ন গ্রামের কয়েকজ হাজার লোক জলমহালে এসে মাছ লুট করে নিয়ে যায়। বিকেলে জলমহালটির ইজারাদার জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করেছে।

জলমহালের ইজারাদার প্রীতুষ বর্মণ বলেন, কয়েকটি গ্রামের হাজার হাজার দুষ্কৃতিকারী আমাদের বিলটির মাছ, কাঁটাসহ সবকিছু লুট করে নিয়ে গেছে। আমাদের প্রহরীরা বাধা দিলে তাদেরকেও লাঞ্ছিত করেছে। আমি প্রশাসনকে অনুরোধ করেও বিলটি রক্ষা করতে পারিনি। পরে জেলা প্রশাসক বরাবরে লিখিত আবেদন করেছি।

দিরাই থানার ওসি আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ঘোষণা দিয়ে মাছ লুট করার খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনীসহ আমরা স্পটে গিয়ে দেখি হাজার হাজার লোক। বিশাল জলাশয়ের একদিকে আমরা, আরেকদিকে হাজার হাজার লোক। আমরা বারণ করলেও কেউ কথা শোনেনি। তারা আমাদের আদেশ অমান্য করে জলাশয়ে মাছ ধরে নিয়ে যায়।

Visited 41 times, 1 visit(s) today