জেলা প্রতিনিধি
শরীয়তপুরের কীর্তিনাশা নদীতে বাল্কহেডে ডাকাতির চেষ্টার সময় গণপিটুনিতে দুইজন নিহত হয়েছেন। এ সময় ডাকাতদের ছোড়া হাতবোমা ও গুলিতে অন্তত ৫ জন আহত হয়েছেন।
শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে শরীয়তপুরের ডোমসার ইউনিয়নের তেঁতুলিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার নজরুল ইসলাম।
তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের নাম-পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ।
তবে ডাকাতদের গুলিতে আহতদের মধ্যে রয়েছেন— শরীয়তপুরের পালং থানার ডোমসার মোল্লাকান্দি এলাকার তোতা মিয়া (৩৫), পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলার বাল্কহেড শ্রমিক মাসুম মিয়া (৩০) এবং একই জেলার নাজিরপুর উপজেলার কালিকাঠী এলাকার বাল্কহেড শ্রমিক আলামিন (১৯)।
আহতদের মধ্যে আশঙ্কাজনক অবস্থায় দুজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে, বাকিরা শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গভীর রাতে একদল ডাকাত মাদারীপুরের রাজারচর এলাকায় একটি বাল্কহেডে ডাকাতির চেষ্টা করে। বিষয়টি টের পেয়ে স্থানীয়রা তাদের ধাওয়া দেয়। ডাকাতরা পালিয়ে শরীয়তপুরের তেঁতুলিয়া এলাকায় এলে স্থানীয়রা বাল্কহেড চালিয়ে তাদের স্পিডবোটের পথ আটকে দেন।
ডাকাতির খবর দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় মসজিদে মসজিদে মাইকিং করে সবাইকে সতর্ক করা হয়। মুহূর্তের মধ্যেই শত শত মানুষ জড়ো হয়ে ডাকাতদলকে ঘিরে ফেলে। এ সময় ডাকাতরা আতঙ্ক ছড়াতে হাতবোমা নিক্ষেপ ও এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। এতে বেশ কয়েকজন আহত হন।
পুলিশ সুপার নজরুল ইসলাম বলেন, “স্থানীয়দের প্রতিরোধের মুখে ডাকাতরা স্পিডবোট ফেলে পালানোর চেষ্টা করে। তবে স্থানীয়রা তাদের আটকে ফেলে এবং ৭ জনকে ধরে গণপিটুনি দিয়ে পালং মডেল থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।”
শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের চিকিৎসক মুনতাসির খান জানান, আহতদের মধ্যে দুজনকে মৃত ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া গুলিবিদ্ধ তিনজন হাসপাতালের চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং আশঙ্কাজনক অবস্থায় দুইজনকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
এ ঘটনায় একটি আগ্নেয়াস্ত্র ও স্পিডবোট জব্দ করেছে পুলিশ।
পুলিশ সুপার নজরুল ইসলাম জানান, ডাকাতির ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
