মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও বুয়েটের প্রচুর ছাত্র আমেরিকায় পড়তে আসার জন্য স্টুডেন্ট ভিসার আবেদন করে। অধিকাংশেরই ফুল ফান্ডেড স্কলারশিপ থাকে। ভিসা রিফিউজাল হার নেই বললেই চলে। কিন্তু গত কয়েক মাসে শতাধিক ছাত্র ‘রহস্যজনক’ কারণে ফুল-ফান্ডেড স্কলারশিপ থাকার পরও ভিসা রিফিউজড হয়েছে। অনেক ভেবেও তারা কারণ বুঝতে পারছে না। পরশু এরকম একটি ছাত্র আমাকে তার ঘটনা জানায়, ও করণীয় কী, সে-ব্যাপারে পরামর্শ চায়।
আমি ছেলেটির ফেসবুকে আইডি ঘেঁটে দেখলাম, সে বুয়েটের EEE বিভাগ থেকে পাশ করেছে, কিন্তু ফেসবুকের টাইমলাইন ভরা নানা উগ্রবাদী ওয়াজের ভিডিও, মিম, ও নাস্তিক-ইহুদীবিরোধী পোস্টে।
আমার ধারণা, এবং সেটা এখন ছেলেটারও ধারণা, যে এটাই তার ভিসা রিফিউজালের কারণ। আমেরিকান ভিসা আবেদনের সময় ফেসবুক প্রোফাইলের আইডি লিংক দিতে হয়।
একজন সাবেক মার্কিন ভিসা অফিসার থেকে জেনেছি, ইন্টারভিউ তারিখের ৪-৫ দিন আগে ভিসা আবেদনকারীর যাবতীয় অনলাইন এক্টিভিটির একটি ‘আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স’ ভিত্তিক রিপোর্ট প্রস্তুত করা হয়, যা দেখে অনুমান করা হয়, ছাত্রটি আমেরিকার জাতীয় নিরাপত্তার জন্য, বা আমেরিকার কোনো বন্ধু রাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য হুমকি কি না। তারা ১ থেকে ১০০ স্কেলে একটি স্কোরিং করে থাকে। কোনো ছাত্রের পোটেনশিয়াল রিস্ক স্কোর ৪০ এর বেশি হলে তারা ভিসা দেয় না।
ছাত্ররা সাবধান। বাবা-মা অনেক স্বপ্ন নিয়ে তোমাদেরকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েট, মেডিক্যাল প্রভৃতি প্রতিষ্ঠানে পড়ায়। তোমরা অনেকেই নিজ মেধায় ইউরোপ-আমেরিকায় ভালো প্রতিষ্ঠানে পড়ছো, চাকরি করছো। অসাবধানতা বা ঝোঁকের বশে ফেসবুকে এমন কিছু করো না, যেন সারা জীবনের স্বপ্ন সামান্য একটি ফেসবুক পোস্ট বা কমেন্টের জন্য ধূলিস্যাৎ হয়ে যায়।
সম্ভবত ইউরোপ অস্ট্রেলিয়াও একই পদ্ধতি অবলম্বন করছে। চীন নাকি এয়ারপোর্ট থেকে অনেক বাংলাদেশী যাত্রীকে ডিপোর্ট করছে। কয়েক সপ্তাহ আগে সান ফ্রান্সিসকো বিমান বন্দর থেকে বৈধ আমেরিকান ভিসা থাকার পরও এক বাংলাদেশী ছাত্রকে ডিপোর্ট করা হয়েছে।
লেখকের ফেসবুক পোস্ট
