টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে আখেরি মোনাজাত চলাকালে হঠাৎ একটি ড্রোন নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ভূপাতিত হলে মুসল্লিদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। মুহুর্তেই জঙ্গিদের বোমা হামলা গুজব ছড়িয়ে পড়ে। মুসল্লিরা মোনাজাত ফেলে দিকবিদিক ছুটতে থাকেন।
ধাক্কাধাক্কি ও হুড়োহুড়ির ফলে পদদলিত হয়ে অন্তত ৭০ জন মুসল্লি আহত হয়েছেন। আহতদের দ্রুত গাজীপুরের শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
রোববার, ২রা ফেব্রুয়ারি সকাল ৯টা ১১ মিনিটে শুরু হয়ে ৯টা ৩৫ মিনিটে শেষ হয় আখেরি মোনাজাত। মোনাজাত পরিচালনা করেন কাকরাইল মসজিদের ইমাম ও খতিব মাওলানা জুবায়ের। ইজতেমা ময়দানের বিদেশি নিবাসের পূর্বপাশে বিশেষভাবে নির্মিত মঞ্চ থেকে এই মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
আয়োজকদের দাবি, প্রায় ২০ লাখ মুসল্লি এতে অংশ নিয়েছিলেন।
আহতদের কয়েকজন: ঢাকার দক্ষিণখানের আবুল কালাম (৬০), রামপুরার আব্দুল করিম (২৮), বাড্ডার সাইদুল ইসলাম (৩৮), নারায়ণগঞ্জের আল-আমীন (৩২), আনোয়ার হোসেন (৪৩), আমজাদ (৩০), টঙ্গীর ওবায়দুল্লাহ (৫২), কবির হোসেন (৪৬), নাজিম উদ্দিন (৪০), বাসেত (১৩), খোকন (৪৩), মোবিন (১৮), আয়নাল হক (২২), জহুরুল (২৮), টঙ্গীর পাগাড় এলাকার জাফর উদ্দিন (৩১), আরিচপুরের কবির হোসেন (৩০), আউচপাড়ার মকবুল হোসেন (৩৬), আব্দুল্লাহপুরের রায়হান (২৭), সোহাগ বানু (৬০), গাজীপুরের জয়নাল (৫৪), কাওসারুল আলম (২৮),
গাজীপুরের তারগাছ এলাকার রাতুল (১৮), জয়দবেপুরের জয়নাল আবদেীন (২৪), জয়দবেপুর চৌরাস্তা এলাকার মোশারফ (৩০), মাছিমপুর এলাকার কোরবান আলী (২৫), হবিগঞ্জেরে সিজিল (৬০), টাঙ্গাইলের গোপালপুরের সাইফুল ইসলাম (৩০), সালামত (১৮), মোস্তাকিম (১০), গাজীপুরের শ্রীপুরের মাওনার আমজাদ সরকারের ছেলে জুয়েল (২৫), সিলেটের গোলাপগঞ্জের জহুরুল ইসলাম (৩১), ময়মনসিংহের ধোবাউড়ার আলী নেওয়াজ (৩৮), নাটোরের আফতাব উদ্দিন (৪৩), নাটোরের মামুন হোসেন (২৯), নবাবজঞ্জের আমান (২২) প্রমুখ।
বোমা হামলা ভেবে আতঙ্কে লোকজন চারদিকে ছুটতে গিয়ে আহত হন উল্লেখ করে টাঙ্গাইল থেকে আসা ফরিদ উদ্দিন বলেন, আমরা ভেবেছি জঙ্গিরা বোমা হামলা করেছে। লোকজন সেটাই বলছিল। দৌড়ে পালাতে গিয়ে আমার পা মচকে যায়। পড়ে গেলে কয়েকজন আমার ওপর পড়ে। আমার কোমর এবং পিঠে জখম হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ পুলিশ লাইন এলাকার আয়রন মার্কেটের ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন বলেন, আমরা প্রস্তুত ছিলাম না। জঙ্গি হামলা ভেবে সবাই দৌড়াদৌড়ি শুরু করলে আমিও পালানোর চেষ্টা করি। কিন্তু ধাক্কায় পড়ে গিয়ে মারাত্মক আঘাত পাই।
আহতদের মধ্যে টঙ্গীর জাফর উদ্দিন বলেন, আমি মোনাজাত করছিলাম। হঠাৎ সামনে হৈচৈ শুরু হলে সবাই দৌড়াতে শুরু করে। ধাক্কাধাক্কির মধ্যে পড়ে গিয়ে আমি আহত হই।
অপর এক মুসল্লি মকবুল হোসেন জানান, আমি টিনশেড মসজিদের ভেতরে ছিলাম। হঠাৎ দেখি চারপাশে হুড়োহুড়ি শুরু হয়েছে। দৌড়ানোর সময় পড়ে গেলে অন্যরা আমার ওপর দিয়ে চলে যায়, এতে গুরুতর আঘাত পাই।
টঙ্গী শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক শাকিল বিন সিরাজ জানান, এখন পর্যন্ত ৫০/৬০ জন আহতকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে, এদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের টঙ্গী পূর্ব থানার ওসি ফরিদ হোসেন বলেন, ড্রোনটি নিচে পড়ার পর আতঙ্কে মুসল্লিরা দৌড়াদৌড়ি শুরু করেন, এতে পড়ে গিয়ে অনেকেই আহত হয়েছেন।
