নিজস্ব প্রতিবেদক
২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে মেডিকেল কলেজ, ডেন্টাল কলেজ ও ইউনিটগুলোয় মুক্তিযোদ্ধা, শহিদ মুক্তিযোদ্ধা এবং বীরাঙ্গনার সন্তানদের সংরক্ষিত ৫ শতাংশ আসনে শিক্ষার্থী ভর্তির সিদ্ধান্ত নিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ।
বৃহস্পতিবার উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল কলেজ, ডেন্টাল কলেজ ও ইউনিটগুলোয় মুক্তিযোদ্ধা, শহিদ মুক্তিযোদ্ধা এবং বীরাঙ্গনার সন্তানদের জন্য সংরক্ষিত ৫ শতাংশ আসনে শিক্ষার্থী ভর্তির বিষয়টি বাস্তবায়ন করবে স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ।
উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকের আলোচনা অনুযায়ী, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ, আইন ও বিচার বিভাগ, শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করবে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে বর্তমান প্রেক্ষাপটে কোটা পদ্ধতির প্রয়োগ বিষয়ে মতামত ও সুপারিশসহ সারসংক্ষেপ উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে উপস্থাপন করতে বলা হয়েছে।
এ ছাড়া, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ ভর্তির ক্ষেত্রে বর্তমান প্রেক্ষাপটে কোটা পদ্ধতির প্রয়োগ বিষয়ে মতামত ও সুপারিশসহ সারসংক্ষেপ উপদেষ্টা পরিষদ-বৈঠকে উপস্থাপন করবে।
যদিও মুক্তিযোদ্ধা সন্তানদের জন্য কোটা সংরক্ষণের এই বিষয়টিকে ‘আইওয়াশ’ বলছেন নেটিজেনরা। কারণ, মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানদের যে বয়স এখন, তাতে শিক্ষার্থী হিসেবে থাকার কথা নয় কারো সে হিসেবে এটাকে অন্তর্বর্তী সরকারের স্টান্টবাজি বলছেন মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যরা।
এর আগে গত বছর মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজে এমবিবিএস এবং বিডিএস কোর্সে নতুন শিক্ষার্থী ভর্তি নীতিমালা-২০২৪ এ মুক্তিযোদ্ধা কোটায় ৫ শতাংশ আসন সংরক্ষণ করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। এ নীতিমালায় থাকা ২ শতাংশ কোটা রাখার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে এক রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে আদালত এ আদেশ দেন।
আদালতে আবেদন করেন অহিদুল ইসলাম নামের এক মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও প্রজন্ম কাউন্সিলের নেতা। রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মুনতাসীর উদ্দিন আহমেদ।
নীতিমালায় উল্লেখ রয়েছে, মুক্তিযোদ্ধা সন্তান-সন্তানাদির জন্য মোট আসনের ২ শতাংশ সংরক্ষিত থাকবে। তবে এই কোটার আসন শূন্য থাকলে সাধারণ কোটা থেকে মেধাক্রমের ভিত্তিতে শিক্ষার্থী ভর্তির মাধ্যমে এই আসন পূরণ করা যাবে।
তবে আইনজীবীর বক্তব্য হচ্ছে, মুক্তিযোদ্ধা কোটা ৫ শতাংশ রাখার গাইডলাইন সুপ্রিম কোর্টের রায় রয়েছে, তা লঙ্ঘন করে ভর্তি নীতিমালায় দুই শতাংশ রাখা হয়েছে। আদালত নির্দেশনা দিয়েছেন ৫ শতাংশ কোটা সংরক্ষণ করে যেন ফল দেওয়া হয়।
