রাজধানীর আগারগাঁওয়ে গত বুধবার (২২ জানুয়ারি) তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশের অনুমোদিত খসড়ায় কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ও সংযোজন ঘোষণা করা হয়েছে। নতুন খসড়ায় সাইবার নিরাপত্তা আইন ২০২৩ থেকে বেশকিছু বিতর্কিত ধারা বাতিল এবং চারটি অপরাধকে অজামিনযোগ্য হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
আইসিটি নীতি উপদেষ্টা ফাইয়াজ আহমেদ তৈয়্যব জানান, আগের সরকারের সাইবার সিকিউরিটি আইনে দায়ের করা মামলার ৯০-৯৫ শতাংশ আসামি শিগগিরই খালাস পেতে পারেন। তিনি বলেন, নতুন অধ্যাদেশটি গণমাধ্যমসহ সব পেশাজীবীর মত প্রকাশের স্বাধীনতা সুরক্ষা করবে। তবে চারটি অপরাধকে জামিন অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে। এগুলো হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিকাঠামোতে বে-আইনি প্রবেশ, কম্পিউটটার ও কম্পিউটার সিস্টেমে ক্ষতি, সাইবার সন্ত্রাসী কার্যক্রম এবং হ্যাকিং সংক্রান্ত অপরাধ।
ফাইয়াজ আহমেদ আরও বলেন, এই অধ্যাদেশটি পূর্ববর্তী নিপীড়নমূলক আইনের অপরাধবোধের দায়মুক্তি দিতে সক্ষম হবে। ভবিষ্যতে যাতে কোনো সরকার এই আইনকে কালাকানুন হিসেবে ব্যবহার না করতে পারে, সেদিকে নজর রাখা হয়েছে। নতুন আইনে সাইবার অপরাধের ক্ষেত্রে এআই, মেশিন লার্নিং এবং ম্যালওয়ার এজেন্সিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা প্রযুক্তিনিরপেক্ষতা নিশ্চিত করবে। এছাড়া, “রিভেঞ্জ পর্ন” কে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।
আইসিটি নীতিবিষয়ক উপদেষ্টা আরও জানান, সরকারের অনুরোধে যদি কোনো কন্টেন্ট ব্লক করা হয়, তবে তার তথ্য প্রকাশের বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে। নতুন আইনে বাংলাদেশের সব পেশাজীবীকে সুরক্ষা প্রদান করা হয়েছে এবং বিতর্কিত শব্দ চয়ন নিয়ে সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে শীষ হায়দার চৌধুরী জানান, অধ্যাদেশটি সম্পর্কে যদি কারো কোনো অভিযোগ থাকে, তবে তা সংশোধন বা পরিমার্জনের জন্য আইন পাসের আগে সুযোগ থাকবে। তিনি বলেন, “দেশে সুপ্রশস্ত সাইবার স্পেসকে সুরক্ষায় অধ্যাদেশ যাতে নিবর্তনমূলক না হয়, সে বিষয়ে লক্ষ রাখা হয়েছে। তবে সংস্কারের মানসিকতায় এটি নিয়মিত হালনাগাদ হতে পারবে।”
বাতিল হওয়া ৯টি ধারার মধ্যে রয়েছে:
- ২০ ধারায় কম্পিউটার সোর্স কোড পরিবর্তন সংক্রান্ত অপরাধ ও দণ্ড
- ২১ ধারায় মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সম্পর্কে বিদ্বেষ ও কুৎসা প্রচারণা
- ২৪ ধারায় পরিচয় প্রতারণা বা ছদ্মবেশ ধারণ
- ২৫ ধারায় আক্রমণাত্মক, মিথ বা ভীতি প্রদর্শক তথ্য প্রেরণ
- ২৬ ধারায় অনুমতি ছাড়া পরিচিতি তথ্য সংগ্রহ
- ২৯ ধারায় মানহানিকর তথ্য প্রকাশ
- ৩১ ধারায় আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটানো
- ৩২ ধারায় হ্যাকিং সংক্রান্ত অপরাধ
- ৫৫ ধারায় মহাপরিচালকের ক্ষমতা অর্পণ
এছাড়া, সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন আইসিটি বিভাগের অতিরিক্ত সচিব কামরুন নাহার সিদ্দীকা।
আইসিটি বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, ৬ ফেব্রুয়ারির মধ্যে যারা এই অধ্যাদেশ সম্পর্কে মতামত দিতে চান, তারা [email protected] এবং [email protected] ই-মেইলে তাদের মতামত পাঠাতে পারবেন।
