সংবাদ প্রতিবেদন
চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানার সাবেক ওসি নেজাম উদ্দিনকে বিএনপিকর্মীরা মারধর ও হেনস্তা করার পর তাকে নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।
আজ ৬ই জানুয়ারি, সোমবার বেলা আড়াইটার দিকে নগরীর পাঁচলাইশ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস সংলগ্ন একটি স্কুলের সামনে নেজাম উদ্দিনকে দেখার পর স্থানীয় বিএনপি ও স্বেচ্ছাসেবক দলের কর্মীরা তার ওপর চড়াও হন।
এসময় বিএনপি নেতারা দাবি করেন, অতীতে তাদের নেতা ডা. শাহাদতকে এবং বিএনপির নেতাকর্মীদের অনেক ‘পেইন’ দিয়েছেন ওসি নেজাম, সেজন্য আজ তারা তার শোধ নিচ্ছেন।
একপর্যায়ে খবর পেয়ে পাঁচলাইশ থানার পুলিশ সেখানে হাজির হয়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের ‘নিবৃত্ত’ করেন।
এ বিষয়ে পাঁচলাইশ থানার ওসি মোহাম্মদ সোলায়মান বলেন, উনাকে (ওসি নেজাম উদ্দিন) ওই এলাকা থেকে পুলিশ থানায় নিয়ে এসেছে। উনি এখন আমাদের হেফাজতে আছেন।
কিন্তু থানায় নিয়ে যাবার পরেও স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা জড়ো হয়ে বিক্ষোভ দেখান এবং পুলিশ কর্মকর্তা নেজামকে গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
বর্তমানে কুমিল্লা জেলা সিআইডিতে পরিদর্শক হিসেবে কর্মরত নেজাম উদ্দিন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে চট্টগ্রামের কোতোয়ালি ছাড়াও সদরঘাট ও বাকলিয়া থানায় ওসির দায়িত্ব পালন করেন। সর্বশেষ ২০২৩ সালের ডিসেম্বর তিনি পটিয়া থানার ওসির হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন।
নগর পুলিশের উপ-কমিশনার (উত্তর) মুহাম্মদ ফয়সাল আহম্মেদ বলেন, সাবেক ওসি নেজামকে পাঁচলাইশ এলাকায় কিছু লোক ‘হেনস্তা’ করেছে। তাকে আমরা উদ্ধার করে হেফাজতে নিয়ে এসেছি। শুনেছি তিনি পাঁচলাইশে তার ছেলেকে স্কুল থেকে আনতে গিয়েছিলেন।
এদিকে পুলিশ কর্মকর্তা নেজামকে হেনস্তার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে তাকে ‘স্বৈরাচারের দোসর’ আখ্যা দিয়ে ঘিরে ধরা নেতাকর্মীরা বলছিলেন, গত ১৫ বছর তাদেরকে এবং তাদের নেতা ‘শাহাদাত ভাইকে’ কষ্ট দিয়েছেন তিনি। এসময় টানাহেঁচড়ায় নেজামের শার্ট ছিঁড়ে যায়।
এছাড়া চকবাজার থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব শহীদুল আলমকে দলীয় নেতাকর্মীদের পাঁচলাইশ পাসপোর্ট অফিসের সামনে জড়ো হওয়ার আহ্বান জানাতেও দেখা গেছে ভিডিওতে।
