৫০ বিচারকের ভারতে প্রশিক্ষণের সিদ্ধান্ত বাতিল

৫০ বিচারকের ভারতে প্রশিক্ষণের সিদ্ধান্ত বাতিল
শেয়ার করুন

ভারতের ভূপালে অবস্থিত ন্যাশনাল জুডিসিয়াল একাডেমি এবং স্টেট জুডিসিয়াল একাডেমিতে অধস্তন আদালতের ৫০ জন বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তার প্রশিক্ষণের সিদ্ধান্ত বাতিল করা হয়েছে।

রোববার (৫ জানুয়ারি) আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের উপসচিব (প্রশিক্ষণ) ড. আবুল হাসানাতের স্বাক্ষর করা এক প্রজ্ঞাপন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

এতে বলা হয়, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা মোতাবেক ভারতের ভূপালে অবস্থিত ন্যাশনাল জুডিসিয়াল একাডেমি এবং স্টেট জুডিসিয়াল একাডেমিতে আগামী ১০ থেকে ২০ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের জন্য ৫০ জন বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাকে অনুমতি দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। তবে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা মোতাবেক এ প্রজ্ঞাপনটি বাতিল করা হলো।

ভারতের মধ্যপ্রদেশের ভুপালে ন্যাশনাল জুডিশিয়াল অ্যাকাডেমি এবং স্টেট জুডিশিয়াল অ্যাকাডেমিতে প্রশিক্ষণ নেওয়ার কথা ছিল বাংলাদেশের ৫০ জন বিচারকের। বিভিন্ন পত্রিকার খবর অনুসারে, বাংলাদেশের অধস্তন আদালতের ৫০ জন বিচারবিভাগীয় কর্মকর্তাকে গত ৩০ ডিসেম্বর এই বিষয়ে অনুমতি দেওয়া হয়। বাংলাদেশের সরকারি সংবাদ সংস্থা ‘বাসস’-র এক রিপোর্টে শনিবার জানা গিয়েছিল যে, বাংলাদেশের আইন মন্ত্রনালয় দেশের ৫০ জন বিচারককে ভারতে গিয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণের অনুমতি দিয়েছিল। এই ইস্যুতে একটি বিজ্ঞপ্তিও প্রকাশিত হয়। বাংলাদেশের আইন মন্ত্রনালয়ের উপসচিব (প্রশিক্ষন) আবুল হাসানাতের স্বাক্ষরও ছিল সেই অনুমতিপত্রের বিজ্ঞপ্তিতে।

এই নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেক সমালোচনা হয় যে, ভারতের প্রতি আবার নতজানু হয়ে পরছে ড ইউনুসের সরকার। অনেক ক্ষেত্রে হাস্যরসের সৃষ্টি হয় যে গত ৫ মাসে ভারত বিদ্বেষ এর প্রচারণা করে, সেই ভারতেই পাঠাতে হচ্ছে বিচারকদের প্রশিক্ষন নিতে। যদিও চাল, আলু, মেট্রো রেলের কার্ড সহ সহ নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য ভারতে থেকে আনা থেমে নেই মোটেও। ধারনা করা যায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সমালোচনার কারনেই ভারতীয় সরকারের অর্থায়নে বিশ্বের নামকরা জুডিশিয়ারি প্রশিক্ষন কেন্দ্রের প্রশিক্ষন থেকে বঞ্চিত হলো অধস্থন বিচারকরা।

বাংলাদেশের বিচার বিভাগের যে ৫০ জনের ভারতে আসার কথা ছিল প্রশিক্ষণের জন্য, সেই তালিকায় সহকারী জজ, সিনিয়র সহকারী জজ, যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ, অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ, জেলা ও দায়রা জজ এবং সমপর্যায়ের কর্মকর্তাদের মনোনয় জমা পড়ে। এই প্রশিক্ষণ ভারতেরই খরচে হওয়ার কথা ছিল। আর তা ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে ২০ ফেব্রেুয়ারির মধ্যে হওয়ার কথা ছিল। ‘বাসস’-র এক রিপোর্টে জানানো হয় যে, প্রশিক্ষণের খরচ ভারতের ছিল। এতে বাংলাদেশ সরকারের কোনও আর্থিক সংযুক্তি ছিল না।

উল্লেখ্য, সদ্য বাংলাদেশে বিগত বছরের মাঝে ছাত্র-গণ অভ্যুত্থানের জেরে শেখ হাসিনা সরকারের পরিবর্তন হয়ে নপ্তুন অন্তবর্তীকালীন সরকার ক্ষমতাভার গ্রহন করে। তার পর থেকে একাধিক ঘটনা ক্রমে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সখ্যতায় বেশ কিছুটা প্রভাব দেখা গিয়েছে। ভারতের কাছে বাংলাদেশের আবেদন শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য। এরই মাঝে বাংলাদেশে হিন্দু সন্ন্যাসীর গ্রেফতারির ঘটনা, সারাদেশব্যাপি সংখ্যালঘু নির্যাতন, ভারতের প্রতিবাদ এবং ফলপ্রসুতে বাংলাদেশে বাড়তে থাকা ভারত বিদ্বেষ বেশ চাঞ্চল্য ফেলেছে। ঘটনার পর সদ্য ঢাকায় পৌঁছে ছিলেন ভারতের বিদেশ সচিব বিক্রম মিশ্রি। এরপর নানান ঘটনা পরম্পরার পর ভারতে প্রশিক্ষণের জন্য আসার কথা ছিল ৫০ জন বাংলাদেশি বিচারকের। তবে তাতে অনুমতি নেই ইউনুস সরকারের।

 

Visited 44 times, 1 visit(s) today