আওয়ামীলীগ সরকার পতনের আন্দোলনে সমর্থন দিয়ে লাইমলাইটে এসেছিলেন নাজমুল আবেদিন ফাহিম। এই ক্রিকেট কোচ আন্দোলনরতদের পক্ষ নিয়ে ঘটনাচক্রে হয়ে যান বিসিবি পরিচালক। তবে দায়িত্ব পালনের পাঁচ মাসের মধ্যেই হাঁপিয়ে উঠেছেন তিনি। কাজের পরিবেশ না দেখে দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। বিসিবি সভাপতি ফারুক আহমেদের সঙ্গেও তার সম্পর্কের চরম অবনতি ঘটেছে। দুজনে একটি সভায় উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় করেছেন বলে জানা গেছে।
আওয়ামীলীগ সরকারের পতনের পর ক্রীড়া পরিষদের মনোনয়নে বিসিবিতে পরিচালক হয়ে আসেন ফাহিম ও ফারুক আহমেদ। ফারুক এরপর হন সভাপতি। নতুন পরিচালক হওয়া ফাহিমকে বিসিবির প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়েই এরপর মুখর ছিলেন। তাকে মনে করা হচ্ছিলো ফারুকের পরই এই সময়ে বিসিবির সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তি।
নতুন আসা দুই পরিচালকের মধ্যেই এখন দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে। রোববার একাধিক গণমাধ্যমে পদত্যাগের ইচ্ছা জানান ফাহিম, ‘হ্যাঁ, কাজ যদি আমার সন্তোষজনক না হয় সেক্ষেত্রে হয়ত সরে যেতে পারি।’
‘সব মিলিয়ে যদি যা চেয়েছিলাম না হয়, সেটা যদি অসন্তোষজনক হয় তাহলে থাকা যাবে না।।’ ঘনিষ্ঠজনের কাছে ফাহিম তার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়েছে বলে জানিয়েছিলেন। যদিও আনুষ্ঠানিক বক্তব্যে তিনি তা স্বীকার করেননি।
এদিকে ফাহিমের সঙ্গে কি হয়েছে জানতে চাইলে একটি গণমাধ্যমে ফারুক বলেন, ‘৩০ ডিসেম্বরের ঘটনা এতোদিন পর উনার মন খারাপ হবে, এটা বুঝতে পারিনি। বোর্ড সভায় কলিগদের মধ্যে বাক্য বিনিময় হতেই পারে, তবে মিডিয়ায় না বলে আমাকে আগে বললে ভালো হতো। ব্যাপারটা উল্টো হয়ে গেল।’
এদিকে সিলেটে এই ব্যাপারে গণমাধ্যমে কথা বলেন ফারুক। তাদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে বলে জানান, ‘যখন কাজের মাত্রা বেশি আর লোক সংখ্যা কম তখন অনেক দিকে নজর দিতে হয়। তখন ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হতে পারে। ঐ জিনিস থেকেই উনি হয়ত চিন্তা করেছেন কাজ ঠিকমতো করতে পারছেন না।’
‘টিকিটের চাপ ছিল, প্রেসিডেন্ট বক্সেও একটা ঘটনা ঘটেছে (ফারুকের সঙ্গে ক্রীড়া উপদেষ্টার পিএসের উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়) । সব মিলে দিনটা আমার সেরা দিন ছিল না। তখন একটা কথা এসেছে। কার সাথে কী বলেছি হয়ত আমার মনেও নেই। মতের অমিল খুব স্বাভাবিক। এখানে দোষের কিছু দেখি না। এগুলো আগে নিজেরা সমাধানের চেষ্টা করা উচিৎ।’
‘ফাহিম ভাই আমার বয়োজ্যেষ্ঠ, সিনিয়র মানুষ। আমারও সিনিয়র প্লেয়ার। আমার অনেক সিনিয়র। সেদিক বিবেচনা করে উনি হয়ত মনঃক্ষুণ্ণ হয়েছেন।’
নাজমুল হাসান পাপন সরে যাওয়ার পর ফারুকের নেতৃত্বে বিসিবির অনেক কার্যক্রমই স্থবির। তৈরি হচ্ছে নানান জটিলতা। সম্প্রতি বিপিএলের টিকিট নিয়ে দর্শকরা তিন দফায় বিক্ষোভ জানান। প্রধান ফটক ও টিকিট বুথে আগুন ধরানোর ঘটনাও ঘটে।
ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের ব্যক্তিগত সহকারী মাহফুল আলম এসেও বিসিবি সভাপতিকে শাসিয়ে যান। সব মিলিয়ে বেশ অগোছালো অবস্থায় আছে বিসিবি।
