একেই বলে মার্কেটিং পলিসি। রাহাত ফতেহ আলি খান ও বাংলাদেশের তার কনসার্টের আয়োজকরা পিলিসিতেই করছেন বাজিমাত। তিন দিনের ব্যবধানে বাংলাদেশে পাকিস্তানি শিল্পী রাহাতের দুটি কনসার্ট করছেন। গত রাতে হয়ে গেছে প্রথমটি, দ্বিতীয়টি হবে সোমবার।
আর্মি স্টেডিয়ামে অন্তর্বর্তী সরকার ‘স্পিরিট কনসার্টের’ আয়োজন করে। যেখান থেকে প্রাপ্ত অর্থ দিয়ে জুলাই-আগস্টের সরকারবিরোধী আন্দোলনে হতাহতের সহায়তা করা হবে। এটি তাই চ্যারেটি কনসার্ট। এই স্পিরিট কনসার্টের জন্য রাহাত কোন অর্থ নিচ্ছেন না বলে জানানো হয়। এতে তার মহৎ ও আয়োজকদের মুনশিয়ানা এক পক্ষের কাছে পায় ব্যাপক প্রশংসা।
কিন্তু সোমবার মিরপুর শেরে বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বিপিএলের উদ্বোধনী কনসার্টে আবার বিপুল অঙ্কের পারিশ্রমিক নিচ্ছেন রাহাত। মধুমতী ব্যাংকের স্পন্সরে এই কনসার্টের বাজেট ৪ কোটি টাকা বলে জানিয়েছেন বিসিবি সভাপতি ফারুক আহমেদ। যার মধ্যে রাহাতই নিচ্ছেন ৩ কোটি ৪০ লাখ টাকা।
রাহাতের কনসার্ট আয়োজনে যুক্ত ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানির এক কর্মকর্তা সূত্রে জানা গেছে, পাকিস্তানে একটি কনসার্ট করতে রাহাতের পারিশ্রমিক বাংলাদেশের টাকায় ৫০ লাখ। সেই হিসেবে বাংলাদেশে কনসার্টের জন্য প্রায় ছয়গুণ বেশি টাকা নিচ্ছেন এই শিল্পী। ঘনিষ্ঠ এক সূত্রে জানা গেছে, মূলত বাংলাদেশের দুটি কনসার্টের যেহেতু সরকারি কর্তৃপক্ষ জড়িত, অর্থ ও সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা যেহেতু সরকারিভাবেই হচ্ছে কাজেই প্রচারণায় গিমিগ তৈরি করতে ‘স্পিরিট কনসার্ট’ বিনামূল্যে রাহাত করছেন বলে প্রচার করা হয়। এতে লাভ দুই পক্ষেরই। রাহাত যেহেতু বিপিএলের কনসার্ট থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ পাচ্ছেনই, কাজেই এটা একটা প্যাকেজ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। আর সরকারও তাদের রাজনৈতিক প্রচারণায় কাজে লাগাতে পারছে এই ইস্যু।
এদিকে রাহাতের আর্মি স্টেডিয়ামের কনসার্টে গিয়ে বৈষ্যম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা সার্জিস আলম, শেখ হাসিনার ফাঁসি চান বলে স্লোগান দেন। তার স্লোগানে সাধারণ মানুষ তেমন সাড়া দেয়নি। কনসার্টে এমন রাজনৈতিক স্লোগানে আয়োজনে সংশ্লিষ্ট অনেকেই বিরক্ত বলে জানা গেছে। তবে সার্জিস আলমরা বিপিএলের কনসার্টেও একই রকম স্লোগান, রাজনৈতিক প্রচারণা চালাবেন বলে জানা গেছে।
যথেষ্ট সাড়া না পাওয়ায় কমেছে টিকেটের দাম
মিরপুরে রাহাত ফতেহ আলির কনসার্টের জন্য শুরুতে টিকেটের যে মূল্য ঠিক করা হয়েছিলো তাতে যথেষ্ট পাওয়া যাচ্ছিল না। ফলে কনসার্টের টিকেটের দাম অনেকটাই কমানো হয়েছে। প্লাটিনাম ক্যাটাগরির টিকেট ১২ হাজারের বদলে এখন ৮ হাজার। গোল্ড ক্যাটাগরি ৮ হাজার থেকে ৬ হাজার, সিলবার ক্যাটাগরি ৬ হাজার থেকে ৪ হাজার, গ্র্যান্ড স্ট্যান্ড ৪ হাজার থেকে কমিয়ে দেড় হাজার করা হয়েছে। এছাড়া জুয়েল ও মুশতাক স্ট্যান্ডের জন্য ৫০০ টাকা দামের টিকেট রাখা হয়েছে।
