হামজার কাছে শিকড়ের প্রতিনিধিত্ব করার গর্ব আলাদা

হামজার কাছে শিকড়ের প্রতিনিধিত্ব করার গর্ব আলাদা
শেয়ার করুন

এক দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে হামজা দেওয়ান চৌধুরী বাংলাদেশের জাতীয় দলে খেলার জন্য ফিফার অনুমতি পেয়েছেন। বিশ্বের শীর্ষ ফুটবল লিগ- ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের দল লেস্টার সিটির হয়ে বেশ কয়েকবছর ধরেই খেলছেন এই মিডফিল্ডার। যুক্তরাজ্যে জন্ম নেওয়া বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত তারকা খেলেছেন ইংল্যান্ডের যুব দলেও। যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘ভার্সেস’-এর সঙ্গে সম্প্রতি কথা বলেছেন হামজা। শুনিয়েছেন তার বাংলাদেশের ফুটবলে জড়িয়ে যাওয়ার গল্প।

প্রশ্ন: কখন বুঝতে পারলেন, আপনি বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে চান? এমন কোনো বিশেষ মুহূর্ত কি আছে, যা আপনাকে অনুপ্রাণিত করেছে?
হামজা:
না, সত্যি বলতে তেমন কোনো বিশেষ মুহূর্ত ছিল না। অবশ্যই বাংলাদেশের সঙ্গে আমার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে এবং ছোট থাকতে বেশ কয়েকবার সেখানে গিয়েছি। তবে এটা বলতে পারব না, সে সময় আন্তর্জাতিক ফুটবল নিয়ে খুব একটা ভেবেছি আমি। অনেকের কাছে, বিশেষ করে যারা ফুটবল খেলে বেড়ে ওঠে, তাদের স্বপ্ন থাকে জন্মভূমিকে প্রতিনিধিত্ব করার এবং আমার জন্য তা ছিল ইংল্যান্ড। তাই যুবদলে খেলার সময় থেকেই ইংল্যান্ডের হয়ে খেলার লক্ষ্য স্থির করলাম। বয়সভিত্তিক পর্যায়ে ইংল্যান্ডকে প্রতিনিধিত্ব করাটাও অবশ্য সম্মানের। বছরের পর বছর কেটে যাওয়ার পর বাংলাদেশের হয়ে খেলার সম্ভাবনা নিয়ে গুঞ্জন শুরু হয় এবং আমি সেটা নিয়ে ভাবতে শুরু করি।

প্রশ্ন: বাংলাদেশে ফুটবলের পরিধি কতটা বড়?
হামজা:
অনেকেই মনে করে, ক্রিকেট তাদের (বাংলাদেশের) সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা। কিন্তু আমি মনে করি, এটা ভুল ধারণা। হয়তো এর কারণ হলো, জাতিগতভাবে ক্রিকেটেই তারা বেশি সাফল্য পেয়েছে। তবে আমি মনে করি, যে খেলাটির প্রতি তাদের সবচেয়ে বেশি ভালোবাসা রয়েছে, সেটা নিঃসন্দেহে ফুটবল। এখন পর্যন্ত জাতীয় দল তেমন কোনো সাফল্য পায়নি। কিন্তু বিশ্বকাপের সময় বাংলাদেশে গেলে দেখা যাবে অর্ধেক বাংলাদেশি আর্জেন্টিনাকে সমর্থন করছে, বাকি অর্ধেক ব্রাজিলকে। তখন চারদিকে যে উত্তেজনা ও প্রতিন্দ্বন্দ্বিতা বিরাজ করে, তা বলতে গেলে এক অন্যরকম পরিবেশ। এটা আমার কাছে অবাক করার মতো। তবে যেমনটা বলেছি, ফুটবলের প্রতি ভালোবাসার মাত্রাটা সেখানে বিশাল।

প্রশ্ন: বাংলাদেশি পাসপোর্ট হাতে পাওয়ার পর প্রথমে কী ভাবলেন?
হামজা:
আমার সঙ্গে লন্ডনের দূতাবাসে বাবা-মা গিয়েছিলেন পাসপোর্ট নিতে। তারা এতে ভীষণ আনন্দিত হয়েছিলেন। কারণ অতীতে ভিসার জন্য অনেক ঝামেলায় যেতে হয়েছে তাদের।

প্রশ্ন: বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করার দায়িত্ব সম্পর্কে বলুন…
হামজা
: এর দায়িত্ব ও গুরুত্ব বুঝতে আমাকে একাধিকবার বোঝানোর চেষ্টা করেছিল আমার পরিবার। তাই এটা এমন কিছু নয়, যা নিয়ে আমি আগে ভাবিনি। তা সব সময়ই আমার মাথায় ছিল এবং এটি নিয়ে অনেক দিন দ্বিধায় ছিলাম। শেষমেশ ইংল্যান্ড ও বাংলাদেশে থাকা আমার পরিবারের সঙ্গে কথা বলার পর আনুষ্ঠানিকভাবে এ সিদ্ধান্ত নিই। তা নিয়ে আমি সত্যিই গর্বিত এবং ভবিষ্যতে কী অপেক্ষা করছে, তা দেখার জন্য আমি মুখিয়ে আছি।

প্রশ্ন: বাংলাদেশে ছোটবেলার কোনো স্মৃতি মনে পড়ে?
হামজা:
১৬ বছর বয়স পর্যন্ত আমি প্রতিবছরই পরিবারের সঙ্গে বাংলাদেশে যেতাম। মাঝেমধ্যে বছরে দুইবারও গিয়েছি। দুঃখজনক হলো, গত ১০ বছর বা এর বেশি সময় ধরে সেখানে যাওয়া হয়নি। একজন ফুটবলারের জীবন অনেক ব্যস্ততায় ভরপুর এবং সবার জন্য সময় বের করাটা কঠিন। এখন আমার তিনটি সন্তান রয়েছে, যারা খুবই ছোট এবং ফুটবলের বাইরে তারা আমাকে যথেষ্ট ব্যস্ত রাখে। তবে আমার অনেক শৈশবের স্মৃতি রয়েছে। যখনই বাংলাদেশে যেতাম, তখন কিছু পোশাক নিয়ে যেতাম। লাগেজ থাকায় অবশ্য বিমানবন্দরে প্রচুর ঝামেলা হতো। তবে যে উদারতা ও প্রচেষ্টা সেই জিনিসগুলা নিয়ে আমরা করতাম, সেসব লোকে খুব গুরুত্বের সঙ্গে নিত। আমরা সৌভাগ্যবান যে যুক্তরাজ্যে বড় হয়েছি।

প্রশ্ন: আপনার কেন মনে হয় অন্য খেলোয়াড়রা তাদের শিকড়ের প্রতিনিধিত্ব করতে চান?
হামজা
: নিজের দেশের লোকদের প্রতিনিধিত্ব করার ক্ষেত্রে যে গর্ব অনুভূত হয়- আমার মনে হয় না, এর সঙ্গে কোনো কিছু মেলানো সম্ভব হবে। ইংলিশ ফুটবলে আফ্রিকান বংশোদ্ভূত অনেক ফুটবলার আছে। যাদের জন্ম ও বেড়ে ওঠাটা যুক্তরাজ্যেই। কিন্তু তারা নিজের দেশকে প্রতিনিধিত্ব করতে চান, কারণ তাদের শিকড় অনেক শক্তিশালী।

প্রশ্ন: শীর্ষ পর্যায়ে আরও বাংলাদেশি খেলোয়াড়কে দেখার আশা করেন?
হামজা:
অবশ্যই! এক মিলিয়ন ভাগ দেখতে চাই।

Visited 31 times, 1 visit(s) today