– পদ্মাসেতু
– মেট্রোরেল
– বঙ্গবন্ধু টানেল
– এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে
– শত শত কিলোমিটার নূতন রেলপথ
– শত শত কিলোমিটার একপ্রেসওয়ে, মহাসড়কগুলোতে লেনের সংখ্যা বৃদ্ধি করা
– মাত্র তিনহাজার কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষমতা বহুগুন বৃদ্ধি করা।
– সত্যিকার অর্থেই ডিজিটাল বিপ্লব করা (যার বলে প্রত্যন্ত অঞ্চলের একজন শাড়ি বিক্রেতা তরুণীও যুক্তরাষ্ট্র এবং ক্যানাডায় ক্রেতাদের সরাসরি সংস্পর্শে আসতে পারেন – একটি উদাহরণ মাত্র)
– যমুনা রেলওয়ে সেতু (সমাপ্তপ্রায়)
– রূপপুর আণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র (সমাপ্তপ্রায়)
– কয়েকশত নূতন রেল ইঞ্জিন এবং যাত্রী বহনকারী কোচ কেনা
– প্রতি বৎসর দ্রুততম সময়ের মধ্যে ৩৫ কোটি পাঠ্যপুস্তক ছাত্র-ছাত্রদের হাতে বিনামূল্যে পৌঁছে দেওয়া
– নতুন নতুন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এবং মেডিকেল কলেজ স্থাপন করা
– বিমান বন্দরের অত্যাধুনিক তৃতীয় টার্মিনাল
– পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে কক্সবাজারের উন্নয়নের জন্য রেল-সংযোগ স্থাপন করা, যশোরের সাথে রেলসংযোগও শেষ হওয়ার পথে।
– নতুন নতুন টিভি চ্যানেলের অনুমোদন দিয়ে বাক-স্বাধীনতার নামে সরকারের শ্রাদ্ধ করার সুযোগ করে দেওয়া (এখন অবশ্য এদের মুখে বাক-বাকুম ছাড়া বুলি নেই)।
– ভারতের সাথে ছিটমহল সমস্যার সমাধান করা
– ৬০ বিলিয়ন ডলারের জিডিপিকে ৪৬০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা, মাথাপিছু আয় বহুগুন বৃদ্ধি করা, দেশকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে উন্নীত করা।
– অধিকাংশ সামাজিক সূচকে বিরাট উন্নতি করা, কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রতিবেশী রাষ্ট্রসমূহকে ছাড়িয়ে যাওয়া
– রফতানির পরিমান এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বহুগুন বৃদ্ধি পাওয়া, কভিড এবং রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট বিশ্বব্যাপী আর্থিক সংকট না হলে এর অবস্থা আরো অনেক ভালো থাকতো।
– সুস্থ অর্থনৈতিক প্রব্বৃদ্ধির ধারা বজায় রাখার জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো এবং ভোক্তা সক্ষমতা ও অভ্যন্তরীণ বাজার সৃষ্টি করা।
– আশ্রয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে বহু গৃহহীনকে বাসস্থানের ব্যবস্থা করা
– আন্তর্জাতিক আদালতে যেয়ে বাংলাদেশের সমুদ্রসীমায় বিশাল এলাকা অন্তর্ভুক্ত করা।
– কৃষিজ পণ্য এবং মৎস্য উৎপাদন বহুগুন বৃদ্ধি করা
– প্রলয়ঙ্করী বন্যা (যখন বিবিসি কোটির অধিক মানুষের অনাহারে মৃত্যুর ভবিষ্যৎবাণী করেছিল) ও অন্যান্য দুর্যোগ সফলভাবে মোকাবিলা করা, দুর্যোগ মোকাবেলার সক্ষমতা বৃদ্ধি করা।
লিখে শেষ করা যাবে না।
(‘সেনাপ্রিয়’ তকমাধারী এক সুবিধাবাদী কুলাঙ্গার ‘শ্বেতপত্র’ নামে এক জঞ্জালে উল্লেখ করেছেন পনেরো বছরের বাজেটের বিরাট অংশই নাকি পাচার হয়ে গেছে। তারপরেও এতো উন্নয়ন এবং অর্থনীতির এতটা বৃদ্ধি কিভাবে হলো? তাহলে কি পাচারের অর্থনীতিই আমাদের প্রয়োজন?)
ব্রিটিশরা চলে যাওয়ার পরে পাকিস্তানের অধীনে চব্বিশ বছর এবং স্বাধীন বাংলাদেশের তিপ্পান্ন বছর, এই মোট সাতাত্তুর বছরের মাঝে বিশ বছরের কিছু বেশি রাষ্ট্রক্ষমতার শীর্ষে ছিলেন শেখ হাসিনা। মোট সময়কালের এক-চতুর্থাংশের কিছু বেশি সময় রাষ্ট্র-পরিচালনার দায়িত্বে থাকলেও এই ভূখণ্ডের অবকাঠামোগত উন্নয়নের সিংহভাগই তাঁর নেতৃত্বেই করা।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সংগ্রামের শুরুটা করে বহুবৎসর সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের শুরু করে দিয়ে গিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তাঁর অবর্তমানে তাঁর নামেই মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার নেতৃত্ব দিয়েছিলো তাঁরই দল আওয়ামী লীগ। হাল ধরেছিলেন তাঁরই সুযোগ্য সহযোগী তাজউদ্দীন আহমদ এবং অন্যান্যরা। আর স্বাধীন বাংলাদেশকে অর্থনৈতিক মুক্তির খুব কাছাকাছি নিয়ে গিয়েছেন তাঁরই সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনা। ছিয়াত্তর বছর বয়সে এসে তাঁর হয়তো আর কিছুই দেওয়ার ছিল না, আর মহাশক্তিধর সাম্রাজ্যবাদী পরাশক্তি আর তার দেশীয় দোসরদের চক্রান্ত মোকাবেলা করার সামর্থ্যও তাঁর হয়তো আর অবশিস্ট ছিল না।
শেখ হাসিনার কয়েকটি বিরাট ব্যর্থতাও ছিল। প্রথমতঃ তাঁর অবর্তমানে উন্নয়নের লাইনে তুলে দেওয়া উন্নয়নের ইঞ্জিনটি সক্ষমতার সাথে পরিচালনা করার মতো একজন (কিংবা একাধিক) যোগ্য উত্তরসূরি গড়ে তোলা। তাঁর বয়সে অধিকাংশ মানুষ বেঁচে থাকলেও কর্মক্ষমতা হারিয়ে ফেলে।
দ্বিতীয়ত, তিনি সুশাসনের দিকে পরিপূর্ণ দৃষ্টি দেন নি।
তৃতীয়তঃ, তাঁর নেওয়া ‘carrot and chop’ নীতি দেশের জন্য ক্ষতিকর হয়েছে। নূতন একটি প্রজন্ম নির্দ্বিধায় গড়ে উঠেছে প্রকৃত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত,স্বার্থলোভী, হিংস্র এক ফ্যাসিস্ট প্রজন্ম হিসেবে। এরা কেবলমাত্র বিরোধীদের মাঝেই নয়, ছড়িয়ে ছিল তাঁর দলের অনুগামী ছাত্র এবং যুব সংগঠনের মাঝেও। এই ব্যর্থতাটিকেই আমি সবচাইতে বিপদজনক অশনি-সংকেত হিসেবে দেখছি।
গত চারমাসেই প্রমাণ হয়ে গেছে ‘আওয়ামী লীগ হারলে বাংলাদেশ হেরে যায়’। চারমাসের ফিরিস্তিতে আর যাচ্ছি না।(অন্য একদিন আবার লেখা যাবে – আগেও লিখেছি কিছুটা ইতিহাসের আলোকে বিশ্লেষণ করে) একাধিক পোস্টে লিখেছি এটি দ্বিতীয় মাৎস্যন্যায়ের কাল। ঘুরে না দাঁড়ালে বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রটি ধ্বংস হয়ে যাবে, এখনই ব্যর্থরাষ্ট্র হওয়ার দ্বারপ্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছে।
খুব কাছাকাছি থেকে ইতিহাসের ঘটনাপ্রবাহ বিচার করা যায় না। তবে আমি নিশ্চিত ভুলভ্রান্তি ও ব্যর্থতা থাকলেও শেখ হাসিনার শাসনকাল ইতিহাসের বিচারে উন্নয়নের স্বর্ণযুগ হিসেবে ভবিষ্যতে বিবেচ্য হবে।
জয় বাংলা! জয় বঙ্গবন্ধু!! জয় উন্নয়নের রূপকার শেখ হাসিনা!!
(লিখেছেন মাহবুব কামাল, টরেন্ট, কেন্যাডা।)
Visited 89 times, 1 visit(s) today
