শিবির উপস্থিত কোন সভায় যেতে রাজী নয় প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠনগুলো

শিবির উপস্থিত কোন সভায় যেতে রাজী নয় প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠনগুলো
শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০টি ছাত্র সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। তবে ছাত্রদল এবং ছাত্র ইউনিয়নের কোনো প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন না।

‘জাতীয় ছাত্র সংহতি সপ্তাহ’ উদযাপনের লক্ষ্যে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান অনুষদের সম্মেলন কক্ষে মতবিনিময় সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।

চবি শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নোমান উপস্থিত না থাকার কারণ হিসেবে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। অন্যদিকে, চবি ছাত্র ইউনিয়ন সংসদের সভাপতি সুদীপ্ত চাকমা বলেন, “আমাদের সংগঠনের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের কারণে আমরা সেখানে যাইনি। কেন্দ্রের নীতিগত সিদ্ধান্ত হলো, ছাত্রশিবির যেসব প্রোগ্রামে থাকবে, আমরা সেখানে যাবো না।”

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক খান তালাত মাহমুদ রাফি বলেন, “অনেকে বলছেন, আমরা জুলাই আন্দোলনে ছাত্র সংগঠনগুলোর অবদান অস্বীকার করছি। কিন্তু আমরা কখনো কারও অবদান অস্বীকার করি না। তবে আজকে বৃহৎ একটি ছাত্র সংগঠনসহ অন্যান্য ক্রিয়াশীল সংগঠনের উপস্থিতি না দেখে খুবই দুঃখিত। আপনাদের রাগ-অভিমান থাকতে পারে, তবে এগুলো আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে হবে। কিন্তু আপনি যদি না আসেন, তাহলে সমাধানের সুযোগ তৈরি হবে না।”

নাগরিক কমিটির কেন্দ্রীয় সদস্য জোবায়রুল হাসান আরিফ বলেন, “জাতীয় নাগরিক কমিটির দুটি বিষয়ে চিন্তা রয়েছে। প্রথমটি হলো, জুলাই গণহত্যার বিচার। আমরা লক্ষ্য করছি, জুলাইয়ের বিচার সঠিকভাবে হচ্ছে না। আবার মবেরও আমরা পক্ষপাতী নই। আমরা চাই, আইন অনুযায়ী এমনভাবে বিচার হোক যাতে কেউ বলতে না পারে যে ক্যাঙারু কোর্টের মাধ্যমে খুনিদের বিচার করা হয়েছে। দ্বিতীয় চিন্তা হলো, সংবিধান সংস্কার। আমাদের সংবিধানের ক্ষমতার কাঠামো এমন যে কেউ স্বৈরাচারী হতে বাধ্য। আমরা এমন একটি সংস্কার চাই যাতে সাংবিধানিকভাবে কেউ আর নতুন হাসিনা হয়ে উঠতে না পারে।”

ছাত্রশিবিরের চবি শাখার সেক্রেটারি মুহাম্মদ ইব্রাহীম বলেন, “৫ আগস্টের পর ১০০ দিন পেরিয়ে গেছে, কিন্তু এখনো শিক্ষার্থীদের মাঠে থাকতে হচ্ছে। প্রতিদিন নতুন নতুন সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে এবং প্রতিবিপ্লব ঠেকানোর দায়িত্ব শিক্ষার্থীদের ওপর এসে পড়ছে। অথচ, এখন তাদের রাষ্ট্র গঠনে সভা, সেমিনার ও সিম্পোজিয়াম করার কথা ছিল, এবং সংস্কার প্রক্রিয়া কেমন হওয়া উচিত তা দেখানোর কথা।”

Visited 41 times, 1 visit(s) today