বাংলাদেশের বাহাত্তর সালের সংবিধানে এখন পর্যন্ত ১৭ বার সংশোধনী আনা হয়েছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, জিয়াউর রহমান, হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ, খালেদা জিয়া, এবং শেখ হাসিনা—দেশের স্বার্থে, রাষ্ট্র পরিচালনার স্বার্থে কিংবা নিজ নিজ শাসনব্যবস্থার সুবিধার জন্য বিভিন্ন সময়ে এই সংশোধনী এনেছেন।
সংবিধানের বর্তমান অবস্থা এমন যে, ১৮তম সংশোধনী এনে কিছু পরিবর্তন করলেও এটি কার্যকর রাখা সম্ভব। তবে, কেন বাহাত্তরের সংবিধান বাতিল করতেই হবে? কেন এটি ছুঁড়ে ফেলতে হবে? বাহাত্তরের সংবিধানের প্রতি এত আক্রোশ বা ঘৃণার কারণ কী? কাদের জন্য বাহাত্তরের সংবিধান প্রতিশোধের কারণ হয়ে দাঁড়াল?
এই আক্রোশ বা ঘৃণার প্রধান উৎস ১৯৭৩ সালের সংবিধানের প্রথম সংশোধনী। এই সংশোধনীর মাধ্যমে যুদ্ধাপরাধের বিচারের জন্য আইন প্রণয়নের সুযোগ তৈরি হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৭৩ সালে পাশ করা আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন অনুযায়ী, গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধসহ আন্তর্জাতিক আইনে অন্তর্ভুক্ত সকল সশস্ত্রবাহিনী ও এর সহায়ক বাহিনীর সদস্যদের আটক ও ফৌজদারি আইনের অধীনে দণ্ডিত করা যায়। পরবর্তীতে ২০০৯ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (বাংলাদেশ) গঠনের মাধ্যমে ১৯৭১ সালের গণহত্যার বিচার শুরু হয়, তারপরের ইতিহাস সকলেই জানে।
২০২৪ সালে এসে ১৯৭১-এর ইতিহাস মুছে ফেলার চেষ্টা হচ্ছে, যা নিখুঁত পরিকল্পনার অংশ। এর মাধ্যমে “দ্বিতীয় স্বাধীনতা,” “দ্বিতীয় শহীদ,” “দ্বিতীয় গণহত্যা,” “দ্বিতীয় গণহত্যাকারী,” “দ্বিতীয় সংবিধান,” “দ্বিতীয় জাতীয় সংগীত” ইত্যাদি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ চলছে। এর নেতৃত্বে রয়েছে ১৯৭১-এর পরাজিত শক্তি, যারা ২০২৪-এ বিজয়ী হয়ে ১৯৭১-এর বিজয়ীদের উপর গণহত্যার দায় চাপানোর পরিকল্পনায় সংকল্পবদ্ধ। শতাধিক বা সহস্র হত্যাকাণ্ডের পেছনে তারাই ছিল; যখন ১৫৩ জন সমন্বয়কের মধ্যে ১০৮ জন শিবিরের, তখন তাদের উদ্দেশ্য সহজেই বোঝা যায়। ৫ আগস্টের পর প্রায় ৩ হাজার পুলিশ নিখোঁজ হয়েছে, ধারণা করা হচ্ছে এদের বেশিরভাগই ভয়ানক হত্যাকাণ্ডের শিকার। কথিত প্রথম শহীদ আবু সাইদ, আত্মস্বীকৃত শিবিরকর্মী, তার মৃত্যুও পরিকল্পিত—সুইসাইড স্কোয়াডের আত্মাহুতির মাধ্যমে নিরীহ আন্দোলনকে রক্তক্ষয়ী আন্দোলনে রূপ দেওয়ার ষড়যন্ত্র। স্নাইপার শটে কপালে সমান্তরাল গুলি, ৭.৬২ স্নাইপার রাইফেলের ব্যবহার, প্রাক্তন সেনাবাহিনীর পদচ্যুত অফিসারদের অংশগ্রহণ, শিবির ও হিজবুতের সক্রিয় অংশগ্রহণে জুলাইতে ছাত্রদের হত্যা করা হয়েছে। পুলিশের পোশাক পরে মাঠে ছিল এরা, যা শক্তভাবে বলা যায়; সম্প্রতি বিভিন্ন ডাকাতির ঘটনায় তিন বাহিনীর চাকরিচ্যুত অফিসারদের ইউনিফর্ম পরিহিত অবস্থায় দেখা গেছে।
এই ষড়যন্ত্র একাত্তরের পরাজিত শক্তিরই ষড়যন্ত্র। পুলিশ আর ছাত্রদের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে পুলিশকে গুলি চালাতে বাধ্য করা হয়েছে। শিবির, হিজবুত এবং চাকরিচ্যুত সেনা কর্মকর্তারা আন্দোলনকারীদের মধ্যে থেকে হত্যা চালিয়েছে। ২০২৪-এর সকল হত্যাকাণ্ড পরিকল্পিত পরিস্থিতি তৈরি করে সংগঠিত হয়েছে, যাতে সরকার সাধারণ ছাত্রদের নিরাপত্তা এবং দেশের সম্পদ রক্ষার জন্য পুলিশকে মাঠে নামালেও পরিস্থিতি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যার দায় সরকারের উপরই পড়ে। পরেছেও তাই……
Visited 10 times, 1 visit(s) today
