এমবাপে ও ইয়ামালকে হারিয়ে ‘ব্যালনের ডি’অর’ জিতলেন হ্যারি কেইন

এমবাপে ও ইয়ামালকে হারিয়ে ‘ব্যালনের ডি’অর’ জিতলেন হ্যারি কেইন
শেয়ার করুন

কিলিয়ান এমবাপে ও লামিনে ইয়ামালের মতো তারকাদের পেছনে ফেলে নিজের জন্মশহর লন্ডনে প্রথমবারের মতো ফুটবল বিশ্বের মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার ‘ব্যালনের ডি’অর’ জয় করলেন হ্যারি কেইন। এর মাধ্যমে ২৫ বছর পর প্রথম কোনো ইংলিশ ফুটবলার হিসেবে এই শ্রেষ্ঠত্বের স্মারক অর্জন করলেন ৩৩ বছর বয়সী এই বায়ার্ন মিউনিখ ফরোয়ার্ড।

অন্যদের মধ্যে স্প্যানিশ ক্লাব বার্সেলোনা থেকে ইংলিশ ক্লাব লন্ডন সিটি লায়নেসসে পাড়ি জমানো আলেক্সিয়া পুতেয়াস ক্যারিয়ারে তৃতীয়বারের মতো সেরা নারী ফুটবলারের পুরস্কার ‘ব্যালনের ডি’অর’ জিতেছেন।
সোমবার রাতে ইংলিশদের মাটিতে প্রথমবারের মতো বসেছিল ব্যালনের ডি’অরের এই জমকালো আসর।

লন্ডনের তীব্র যানজটের কারণে অনুষ্ঠান নির্ধারিত সময়ের প্রায় এক ঘণ্টা পর শুরু হয়। বিলম্বের কারণে অনেক তারকা ফুটবলারকেই ট্রাফিকে আটকে থেকে বিলম্বে পৌঁছাতে দেখা যায়। তবে সব বাধা অতিক্রম করে শেষ পর্যন্ত কেইনের ট্রফি উঁচিয়ে ধরার মাধ্যমে এক সুন্দর সমাপ্তি ঘটে অনুষ্ঠানটির।

গত মৌসুমে ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে দারুণ সময় কাটিয়েছেন কেইন। বায়ার্ন মিউনিখ ও ইংল্যান্ডের হয়ে ৬৫ ম্যাচে সর্বমোট ৭৩টি গোল করেন তিনি। বায়ার্ন মিউনিখকে জার্মানির ঘরোয়া লিগ ও কাপ ডাবল জেতাতে মূল ভূমিকা রাখেন এই তারকা। এছাড়া ২০২৬ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের তৃতীয় স্থান অর্জনে তার পা থেকে আসে ৬টি গোল।

পুরস্কার গ্রহণের পর কেইন বলেন, ‘বায়ার্ন মিউনিখের সতীর্থদের ছাড়া এটি কোনোভাবেই সম্ভব হতো না। তারা যেভাবে আমাকে প্রতিনিয়ত উৎসাহিত করেছে এবং আমরা যেভাবে লড়াই করেছি, তার জন্য সবাইকে অনেক ধন্যবাদ।’

২০২৩ সালে বায়ার্নে যোগ দেওয়ার পর ক্লাব পর্যায়ে জার্মান ঘরোয়া ট্রফিগুলোই কেবল ছিল কেইনের ঝুলিতে। এর আগে ২০১৯ সালে টটেনহ্যামের হয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে লিভারপুলের কাছে পরাজিত হন তিনি। এছাড়া ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপে ইংল্যান্ডের হয়ে দুবার রানার্সআপ হয়ে মাঠ ছাড়তে হয় তাকে। তবে ফুটবলে তার গোল করার এই ধারাবাহিক পারফরম্যান্স তাকে এনে দিল সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত স্বীকৃতি।

সংবাদসংস্থাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কেইন বলেন, ‘বায়ার্ন মিউনিখে আসাটা আমার ক্যারিয়ারের একটি বড় পদক্ষেপ ছিল। অনেকে একে ঝুঁকিপূর্ণ মনে করলেও আমার কাছে লক্ষ্য ছিল নিজের খেলায় আরও উন্নতি করা। বিশ্বের অন্যতম সেরা ক্লাব ও সতীর্থদের সঙ্গে খেলা আমাকে ভিন্ন এক উচ্চতায় নিয়ে গেছে। বায়ার্ন ও ইংল্যান্ডের নম্বর নাইন হিসেবে আমার কাছে গোল প্রত্যাশা করা স্বাভাবিক। গত বছর যেভাবে গোল করতে পেরেছি, তাতে আমি সত্যি গর্বিত।’

অন্যদিকে, সেরা নারী ফুটবলারের ট্রফি হাতে তুলে নিয়ে নিজের পুরোনো আধিপত্য পুনরুদ্ধার করেছেন আলেক্সিয়া পুতেয়াস। চার বছর আগে এসিএল (অ্যান্টেরিও ক্রুসিয়েট লিগামেন্ট) ইনজুরির কারণে দীর্ঘদিন মাঠের বাইরে থাকতে হয়েছিল তাকে। এর আগে ২০২১ ও ২০২২ সালেও তিনি এই পুরস্কার পেয়েছিলেন। বিগত তিন বছরের বিজয়ী ও তার স্প্যানিশ সতীর্থ আইতানা বোনমাতি চোটের কারণে পুরো মৌসুমের সিংহভাগ সময় মাঠের বাইরে থাকায়, এবার পুতেয়াস নিজের শ্রেষ্ঠত্ব ফিরে পান।

অন্যান্য বিভাগে পুরস্কার পেলেন যারা:
* বর্ষসেরা তরুণ ফুটবলার (কোপা ট্রফি): বার্সেলোনার ১৯ বছর বয়সী উইঙ্গার লামিনে ইয়ামাল টানা তৃতীয়বারের মতো এই পুরস্কার জিতেছেন।
* বর্ষসেরা পুরুষ কোচ (ইয়োহান ক্রুইফ ট্রফি): স্পেনকে বিশ্বকাপ জেতানোর স্বীকৃতিস্বরূপ লুইস দে লা ফুয়েন্তে সেরা কোচের পুরস্কার পান। দৌড়ে তিনি পিএসজির লুইস এনরিকে ও আর্সেনাল কোচ মিকেল আর্তেতাকে পেছনে ফেলেন।
* বর্ষসেরা নারী কোচ: বার্সেলোনার নারী দলের কোচ পের রমেউ সেরা নারী দলের কোচ নির্বাচিত হন।
* সক্রেটিস অ্যাওয়ার্ড: মানবিক কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ আর্সেনাল তারকা বুকায়ো সাকা এই পুরস্কার লাভ করেন।
* বর্ষসেরা পুরুষ ক্লাব: টানা দ্বিতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতা ফরাসি ক্লাব প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি) বর্ষসেরা ক্লাবের সম্মাননা লাভ করে।
* বর্ষসেরা গোলরক্ষক (ইয়াসিন ট্রফি): পুরুষ বিভাগে স্পেনের উনাই সিমন এবং নারী বিভাগে কাতা কোল সেরা গোলরক্ষকের পুরস্কার পান।

Visited 5 times, 5 visit(s) today