❐ নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকার সাভারে ১৩ বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে তোহফাতুল জান্নাহ মহিলা মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান শিক্ষক মাওলানা আব্দুল বারীর (৫০) বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় স্বামীকে সহযোগিতা এবং ভুক্তভোগীকে ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগে তার স্ত্রী তোহফাতুল জান্নাহকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
অভিযুক্ত শিক্ষক পলাতক রয়েছেন।
২১শে অক্টোবর, বুধবার সাভারের বিরুলিয়া ইউনিয়নের ছোট কালিয়াকৈর এলাকায় অবস্থিত ওই মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটে বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
২২শে অক্টোবর, বৃহস্পতিবার গ্রেপ্তার শিক্ষকের স্ত্রীকে আদালতে পাঠানো হয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী ছাত্রী মাদ্রাসার দ্বিতীয় তলার একটি ফ্ল্যাটে অন্য ছাত্রীদের সঙ্গে থাকত। মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান শিক্ষক আব্দুল বারী এবং তার স্ত্রী পাশের একটি ফ্ল্যাটে বসবাস করতেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, বুধবার সকাল ১০টার দিকে জুতা আনতে নিচতলায় গেলে আব্দুল বারী ওই ছাত্রীকে মাদ্রাসার অফিসকক্ষের পাশের একটি কক্ষে নিয়ে ধর্ষণ করেন। পরে তার স্ত্রী তোহফাতুল জান্নাহ ছাত্রীকে ঘটনা কাউকে না জানানোর জন্য ভয়ভীতি দেখান।
অভিযুক্ত শিক্ষকও বিষয়টি প্রকাশ করলে হত্যার হুমকি দেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
একপর্যায়ে মাদ্রাসার বাবুর্চির সহযোগিতায় সেখান থেকে বের হয়ে বাড়িতে ফিরে পরিবারের সদস্যদের কাছে ঘটনার কথা জানায় মেয়েটি। পরে ছাত্রীর পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় লোকজন মাদ্রাসায় গিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষকের স্ত্রীকে আটক করেন।
এ সময় অভিযুক্ত শিক্ষক পালিয়ে যান।
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী মাদ্রাসা ও শিক্ষকের বাসভবন ঘেরাও করেন। একপর্যায়ে তারা মাদ্রাসা ও বাসভবনে ভাঙচুর চালান।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে শিক্ষকের স্ত্রী ও ছেলেকে উদ্ধারের সময় পুলিশ সদস্যরাও অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। পরে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করেন।
সাভার মডেল থানা পুলিশ জানিয়েছে, ভুক্তভোগী ছাত্রীর দাদার করা মামলায় শিক্ষকের স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শারীরিক পরীক্ষার জন্য ভুক্তভোগীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে পাঠানো হয়েছে।
অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

