নোয়াখালীতে একদিনে দুই মৃত্যু: চুরির অভিযোগে যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ, সোনাইমুড়ীতে মাঠে মিলল প্রবাসীর মরদেহ

নোয়াখালীতে একদিনে দুই মৃত্যু: চুরির অভিযোগে যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ, সোনাইমুড়ীতে মাঠে মিলল প্রবাসীর মরদেহ
শেয়ার করুন

নোয়াখালী প্রতিনিধি | ১৪ অক্টোবর, ২০২৬


নোয়াখালীতে মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুটি পৃথক স্থানে দুজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সদর উপজেলায় চুরির অভিযোগে মো. কবির হোসেন (৩৫) নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পুলিশ চারজনকে আটক করেছে। অন্যদিকে সোনাইমুড়ী উপজেলায় সজীব নামে এক প্রবাসীর মরদেহ মাঠ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। দুটি ঘটনাই পুলিশ আলাদাভাবে তদন্ত করছে।

 

সদর উপজেলা: চুরির অভিযোগে মারধর, পরে মৃত্যু

সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে সদর উপজেলার নেয়াজপুর ইউনিয়নের দেবীপুর গ্রামে বেলালের দোকানের সামনে থেকে কবির হোসেনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। কবির নোয়ান্নই ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইসলামগঞ্জ বাজার এলাকার গাইনেগো বাড়ির বাসিন্দা। স্থানীয় কয়েকজন জানান, তিনি প্রতিবন্ধী ছিলেন।

স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, সোমবার নোয়াখালী শহরের সোনাপুর পেট্রলপাম্প-সংলগ্ন হাসিব ওয়ার্কশপ থেকে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা চুরির দাবি করেন ওয়ার্কশপের মালিক মো. হোসেন। তিনি সিসিটিভি ফুটেজ ফেসবুকে প্রকাশ করে অভিযুক্তকে শনাক্তে সহায়তা চান। মঙ্গলবার বেলা আড়াইটার দিকে ইসলামগঞ্জ বাজার এলাকার এক ব্যক্তি হোসেনকে ফোন করে জানান, চুরির সন্দেহে কবিরকে শনাক্ত ও আটক করা হয়েছে। খবর পেয়ে হোসেন লোকজন নিয়ে সেখানে যান। সেখানে কবিরকে মারধর করা হয়, এতে তিনি গুরুতর আহত হন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, আহত কবিরকে ইসলামগঞ্জ বাজার থেকে ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরে দেবীপুর এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁর মৃত্যু হলে বেলালের দোকানের সামনে মরদেহ ফেলে রাখা হয়।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ৮ মিনিট ১৭ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে কবিরকে আহত অবস্থায় খুঁটির সঙ্গে বাঁধা দেখা যায়। ভিডিওতে তাঁকে টাকা চুরির বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতেও দেখা গেছে। মঙ্গলবার বিকেলে ভিডিওটি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।

সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম বলেন, চুরির অভিযোগে মারধরের পর কবিরের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় তিন থেকে চারজনকে আটক করা হয়েছে। নিহতের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

সোনাইমুড়ী: মাঠে গুরুতর আহত অবস্থায় মিলল সজীবকে, হাসপাতালে মৃত্যু

একই দিনে সোনাইমুড়ী উপজেলার আমিশাপাড়া ইউনিয়নের আবিরপাড়া এলাকায় সামছুল হক মেম্বারের পুরোনো বাড়ির সামনের মাঠ থেকে সজীবের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি ওই এলাকার মৃত মো. মালেক ও সেলিনা আক্তারের ছেলে।

পরিবারের সদস্যদের বরাতে জানা যায়, মঙ্গলবার দুপুরে খাবার খেয়ে সজীব বাড়ি থেকে বের হন। বিকেল ৫টার দিকে স্থানীয়রা তাঁকে মাঠে গুরুতর আহত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। উদ্ধার করে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

সজীবের চাচাতো ভাই রিয়াদ অভিযোগ করেন, দুই দিন আগে স্থানীয় একটি কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা সজীবকে “দেখে নেওয়ার” হুমকি দিয়েছিল। এ ঘটনায় তাদের সম্পৃক্ততা থাকতে পারে বলে তাঁর সন্দেহ।

সোনাইমুড়ী থানার ওসি কবির হোসেন জানান, প্রবাসী সজীবের মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সজীবের মৃত্যুর কারণ এবং তাঁর চাচাতো ভাইয়ের অভিযোগের সত্যতা তদন্তের আগে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

Visited 2 times, 3 visit(s) today