যুবলীগ নেতা ছেলেকে জ্যান্ত পুড়িয়ে হত্যাচেষ্টা, মামলা করতে গিয়ে ৬৮ বছরের বৃদ্ধা মা বিএনপি অফিস ভাঙার মামলায় কারাগারে!

যুবলীগ নেতা ছেলেকে জ্যান্ত পুড়িয়ে হত্যাচেষ্টা, মামলা করতে গিয়ে ৬৮ বছরের বৃদ্ধা মা বিএনপি অফিস ভাঙার মামলায় কারাগারে!
শেয়ার করুন

❐ নিজস্ব সংবাদদাতা


জমি-জমা নিয়ে বিরোধ নিয়ে মব সন্ত্রাসের মাধ্যমে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার যুবলীগ নেতা রুহুল আমিনের বাড়িতে একদল লোক হামলা-ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। আওয়ামী লীগের রাজনীতি করে বলে রুহুল আমিনকে পিটিয়ে জ্যান্ত আগুনে পুড়িয়ে হত্যাচেষ্টা চালানো হয়।

সেই ঘটনার জেরে রুহুল আমিনের মা নূরজাহান বেগম ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানায় মামলা করতে যান। পুলিশ মামলা না নেওয়ায় তিনি আদালতে মামলা করেন। মামলার পরদিন রোববার পুলিশ ৬৮ বছরের বৃদ্ধ নূরজাহান বেগমকে মামলার বিষয়ে কথা বলতে থানায় ডেকে নেয়।

পরে নূরজাহান বেগমের পরিবার জানতে পারে, তাকে বিএনপি কার্যালয় ভাঙার মামলায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

কিন্তু ওই মামলার আসামি নূরজাহান বেগম নন। মামলাটিতে আসামি করা হয়েছিল তার ছেলে, যুবলীগ নেতা রুহুল আমিনকে।

পুলিশের বক্তব্য, তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সন্দেহভাজন হিসেবে নূরজাহানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

নূরজাহান বেগমের মেয়ে নাসিমা খাতুন ও সেলিনা খাতুন জানালেন বিষয়টি। তাদের বাড়ি উপজেলার পাটিকাবাড়ি ইউনিয়নের নলকুলা গ্রামে।

রুহুল আমিন নলকুলা গ্রামের পাটিকাবাড়ি ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সহসভাপতি। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সহিংসতার আশঙ্কায় তিনি এখন এলাকার বাইরে রয়েছেন।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম মামুনুর রশীদ দাবি করেন, ১৫ই সেপ্টেম্বর রাতে যুবলীগ নেতা রুহুল আমীনের নেতৃত্বে স্থানীয় বিএনপি কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগে করা মামলায় সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে তার ৬৮ বছর বয়সী মা নূরজাহান বেগমকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

সন্ধ্যায় আমলি আদালতের বিচারক সানা খাতুন তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

কৃষকদল কার্যালয়ে হামলার মামলাটির বাদী হাবিবুর রহমান। তিনি কৃষকদলের নেতা হিসেবে পরিচিত।

নূরজাহান বেগমের মেয়ে নাসিমা খাতুনের ভাষ্য, হাবিবুর রহমানের সঙ্গে তাদের পরিবারের জমি নিয়ে বিরোধ রয়েছে। সেই বিরোধের জেরেই মামলায় রুহুল আমিনকে ফাঁসানো হয়েছে।

যুবলীগ নেতা রুহুল আমিনের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা যেদিন ঘটে, হাবিবুর রহমানের করা কৃষকদল কার্যালয়ে হামলা-ভাঙচুরের মামলাতেও একই দিনের কথা উল্লেখ রয়েছে।

১৬ই সেপ্টেম্বর দায়ের করা ওই মামলায় অভিযোগ করা হয়, ১৫ই সেপ্টেম্বর সন্ধ্যার পর নলকুলা গ্রামের ১ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত কৃষকদল কার্যালয়ে ভাঙচুর করা হয় এবং ভেতরে থাকা ব্যক্তিদের মারধর করা হয়। মামলায় ৭৫ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ১০০ থেকে ১২০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

নাসিমা খাতুন জানান, ১৫ই সেপ্টেম্বর রাতে আওয়ামী লীগ নেতার বাড়ি- উল্লেখ করে তাদের বাড়িতে বিএনপি-জামায়াতসহ রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের কয়েক শ লোক মব হামলা করে। তারা রুহুল আমীনের নাম ধরে হুমকি ধমকি দেয়। একপর্যায়ে রুহুল আমিন বেরিয়ে এলে তাকে নির্মমভাবে পেটানো হয়। রুহুল আমিন প্রাণ বাঁচাতে পাটের গুদামে গিয়ে আশ্রয় নিলে সেখানে তাকে জ্যান্ত পুড়িয়ে মারতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

এ সময় পরিবারের সদস্যরাও গুরুতর আহত হন।

নাসিমা বলেন, ঘটনার পরদিন তার মা নূরজাহান বেগম মামলা করতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানায় গিয়েছিলেন। কিন্তু থানা মামলা নিতে গড়িমসি করে। পরে উপায় না দেখে ২১শে সেপ্টেম্বর আদালতে মামলা করা হয়।

বৃদ্ধা নূরজাহান বেগমের ছোট মেয়ে সেলিনা বলেন, “রোববার সকালে পুলিশ বাড়িতে এসে আমার মাকে জিজ্ঞেস করে, আদালতে মামলা করেছেন কি না। ওসি তার সঙ্গে কথা বলবেন, তাই থানায় যেতে হবে বলে জানায়। মা পুলিশের সঙ্গে থানায় যান। দুপুরেও তাকে ছেড়ে না দেওয়ায় আমরা কারণ জানতে চাই। তখন পুলিশ জানায়, তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং আদালতে পাঠানো হবে।”

সেলিনা খাতুন আরও বলেন, “আমার ভাই রুহুল আমিন আওয়ামী লীগের রাজনীতি করে। প্রাণের ভয়ে সে এখন এলাকাছাড়া। ছেলের কারণে বৃদ্ধ মাকেই জেলে যেতে হলো। থানা মামলা না নিলে আদালতে মামলা করা কি অপরাধ?”

এ বিষয়ে কথা বলার জন্য কৃষকদল নেতা হাবিবুর রহমানকে ফোন করা হয়েছিল। তবে তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

Visited 77 times, 1 visit(s) today