দলের নারী নেত্রীরা এমন হলে তাদের পুরুষ নেতাদের কী অবস্থা- প্রশ্ন মামুনুল হকের

দলের নারী নেত্রীরা এমন হলে তাদের পুরুষ নেতাদের কী অবস্থা- প্রশ্ন মামুনুল হকের
শেয়ার করুন

❐ নিজস্ব প্রতিবেদক


উগ্রবাদী সংগঠন খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক বলেছেন, ‘রাড্ডা কাণ্ডের দায় শুধু একজন নারী সংসদ সদস্যের নয়; এর দায় প্রধানমন্ত্রীকেও নিতে হবে। আপনাদের দলীয় ফোরাম নিয়ন্ত্রণ করুন। গণভোটে জনগণের দেওয়া রায় কার্যকর করুন। তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও অন্যান্য সমস্যা সমাধানে জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা গড়ে তুলুন। সিন্ডিকেট প্রথা ভেঙে দিন। দলীয়করণমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার উদ্যোগ নিন।’

২রা অক্টোবর, শুক্রবার সন্ধ্যায় সিদ্ধিরগঞ্জে এক নাগরিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া, গ্যাস-বিদ্যুৎ ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রতিবাদ এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে খেলাফত মজলিসের সিদ্ধিরগঞ্জ থানা শাখা এ সমাবেশের আয়োজন করে।

মামুনুল হকের অভিযোগ, ‘মহিলা এমপি দখলদারি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করেছেন। তাঁকে সরিয়ে দলকে শুদ্ধ করতে চায়।’

তিনি এ প্রসঙ্গে মহিলা সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির নাম উল্লেখ করেন।

তারেক রহমানের উদ্দেশে মামুনুল হক বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীকে বলতে চাই, এই ব্যবস্থা তৈরির জন্য মূলত আপনিই দায়ী। বিরোধী দলের প্রতিটি আসনে আপনার দলের নারী সংসদ সদস্যদের দায়িত্ব দিয়ে বিরোধীদলীয় এমপিদের অকার্যকর করার ষড়যন্ত্র করেছেন। আর বিরোধী দলের এমপিদের আসনে আপনার নারী এমপিরা সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও ভাঙচুর করবেন। যে দলের নারী নেত্রীদের অবস্থা এমন, সেই দলের পুরুষ চাঁদাবাজ ও দখলদারদের অবস্থা কী—তা সহজেই বোঝা যায়।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা রাজপথে নামতে ছয় মাস সময় নিয়েছি। অথচ গণভোটের রায় কার্যকর না করে তার সঙ্গে গাদ্দারি করতে আপনারা ছয় মিনিটও দেরি করেননি। সংসদ সদস্যের শপথ নিয়েছেন, কারণ সেই শপথ নিয়ে সরকার গঠন ও মন্ত্রী হওয়া যায়। এরপর শুরু করেছেন চেয়ারের ভাগ-বাঁটোয়ারা ও চাঁদাবাজি।’

খেলাফত মজলিসের এই নেতা বলেন, ‘একই দিনে, একই নির্বাচন কমিশনের অধীনে সারা দেশে দুটি ভোট হয়েছে। এক ভোটে ইঞ্জিনিয়ারিং করে আমাদের নিশ্চিত আসনের বিজয় ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে—বাংলাদেশের মানুষ এর সাক্ষী। আমরা সংসদে গিয়ে আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে কথা বলব, সে কারণেই আমাদের নিশ্চিত বিজয় ছিনতাই করা হয়েছে। আমরা সব সহ্য করেছি।’

মামুনুল হক বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষকে হাইকোর্ট দেখানোর নতুন চিন্তা করছেন আপনারা। অনুরোধ করি, বাঙালিকে হাইকোর্ট দেখানোর চেষ্টা করবেন না। তা করলে বাঙালি রাজপথ দেখিয়ে ছাড়বে। আপনারা শেখ হাসিনার মতো হতে পারবেন না। শেখ হাসিনাকে তাঁর বিদেশি প্রভুরাও টিকিয়ে রাখতে পারেনি।’

সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব জালালুদ্দিন আহমদ, নায়েবে আমির মাহবুবুল হক, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুর রহমান হেলাল ও এনামুল হক মুসা, কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ মহানগর শাখার সভাপতি মামুনুর রশীদ, কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য হোসাইন আহমদ, নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি ওবায়দুল কাদের নদভী, মহানগর শাখার সহসভাপতি খন্দকার আনোয়ার এবং সাধারণ সম্পাদক আল আমিন রাকিবসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

Visited 3 times, 3 visit(s) today