ক্রিকেটের বাইশ গজের তীব্র লড়াই কখনো কখনো সম্পর্কের এমন এক অদৃশ্য সুতো তৈরি করে, যা রাজনীতি বা সীমান্তের দেয়াল টপকে যায়। পাকিস্তান ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ইমরান খান দীর্ঘদিন ধরে কারাবন্দী। চিকিৎসাসেবা ও মানবিক আচরণের অভাব নিয়ে যখন নানা আলোচনা চলছে, ঠিক তখনই সাবেক ক্রিকেট মহাতারকাদের একটি উদ্যোগ ক্রীড়াজগতে এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করল।
অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়ক গ্রেগ চ্যাপেল, ভারতের ক্রিকেট কিংবদন্তি সুনিল গাভাস্কার ও কপিল দেবের সঙ্গে এক হয়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের কাছে একটি যৌথ চিঠি পাঠান। তাদের সঙ্গে যুক্ত হন বিশ্বের আরো ২১ জন সাবেক আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অধিনায়ক। চিঠির মূল বক্তব্য ছিল অত্যন্ত স্পষ্ট—রাজনৈতিক ভেদাভেদ ভুলে ইমরান খানের জন্য সুচিকিৎসা ও মানবিক আচরণ নিশ্চিত করা।
তারা প্রধানমন্ত্রীকে স্মরণ করিয়ে দেন যে, মাঠের লড়াইয়ে তারা পরস্পর প্রতিদ্বন্দ্বী থাকলেও খেলার মাঠের তৈরি হওয়া এই পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সৌহার্দ্য রাজনৈতিক সীমানা ছাড়িয়ে বহু দূর পর্যন্ত বিস্তৃত। ৭৩ বছর বয়সী সাবেক এই বিশ্বজয়ী অধিনায়কের শারীরিক পরিস্থিতি, বিশেষ করে তার ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি নিয়ে তৈরি হওয়া উদ্বেগজনক খবরের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়।
আদালত যে মেডিকেল বোর্ড গঠনের নির্দেশনা দিয়েছিল, তাতে ইমরান খানের নিজস্ব চিকিৎসকের উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং পরিবারকে নিয়মিত সাক্ষাতের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানান তারা।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও তাকে পূর্ণাঙ্গ পরীক্ষা ছাড়াই দ্রুত কারাগারে ফেরত পাঠানোর ঘটনায় সাবেক ক্রিকেটাররা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। তারা রাজনৈতিক খেলায় হস্তক্ষেপ করতে চান না, কিন্তু মাঠের একজন পুরনো সহযোদ্ধার মৌলিক মানবিক অধিকারটুকু রক্ষা হোক—এটাই তাদের একমাত্র আকুল আবেদন।
ক্রিকেট শুধু একটি খেলাই নয়, এটি খেলোয়াড়দের মধ্যে এমন এক আত্মিক বন্ধন তৈরি করে যা জীবনের কঠিনতম সময়েও অপরকে আগলে রাখতে শেখায়। রাজনীতি যখন সম্পর্কের মাঝে শক্ত প্রাচীর তুলে দাঁড় করায়, তখন বিশ্ব ক্রিকেটের এই মহানায়কদের সহানুভূতিশীল উদ্যোগ প্রমান করে—খেলার স্পিরিট ও মানবিকতা দিনশেষে সব বিভেদের ঊর্ধ্বে।
