শেখ হাসিনার বক্তব্য নিয়ে অসন্তোষের মাঝেই ভারত থেকে পাইপলাইনে আরও বেশি ডিজেল চাইল বাংলাদেশ

শেখ হাসিনার বক্তব্য নিয়ে অসন্তোষের মাঝেই ভারত থেকে পাইপলাইনে আরও বেশি ডিজেল চাইল বাংলাদেশ
শেয়ার করুন

❐ নিজস্ব প্রতিবেদক


গতকাল দিল্লিতে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলনের পর বিএনপি সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তীব্র অসন্তোষ জানিয়ে বিবৃতি দেয়। যার প্রেক্ষিতে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠার সম্ভাবনা দেখছিল রাজনৈতিক মহল। কিন্তু বাস্তবতা হলো, নরেন্দ্র মোদি ও শেখ হাসিনা সরকারের চুক্তিতে নির্মিত ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইন দিয়ে ভারত থেকে আরও বেশি পরিমাণে ডিজেল চেয়ে অনুরোধ জানিয়েছে বিএনপি সরকার।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেছেন, দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ভারতের হাইকমিশনারের সঙ্গে বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

আজ ৬ই আগস্ট, বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী জানান, ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সঙ্গে এটি একটি নিয়মিত সৌজন্য বৈঠক ছিল।

তিনি বলেন, প্রতিবেশী দেশ হিসেবে বাংলাদেশ ও ভারতের বিভিন্ন সহযোগিতার বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এ সময় ভারতের কাছে পাইপলাইনের মাধ্যমে আরও বেশি ডিজেল সরবরাহের অনুরোধও জানানো হয়েছে।

লোডশেডিং প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, গ্যাসের সংকটে কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। তবে এখন গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ায় সেগুলো আবার চালু করা হচ্ছে, ফলে বিদ্যুৎ পরিস্থিতিরও উন্নতি হবে।

বিদ্যুতের অতিরিক্ত বিল নিয়ে অভিযোগ প্রসঙ্গে ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, অভিযোগের ক্ষেত্রে বাস্তব তথ্য যাচাই করা হয়।

বাংলাদেশ-ভারত ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইন দিয়ে ভারত থেকে এলো প্রায় ১ কোটি লিটার ডিজেল

তিনি দাবি করেন, অনেক ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিমাণ বেশি হওয়ায় বিলও বেশি আসে। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, একটি বাসায় একাধিক উচ্চক্ষমতার বৈদ্যুতিক যন্ত্র ব্যবহারের কারণে বিল বেশি হয়েছিল।

এ সময় মন্ত্রী আরও জানান, চলতি বছরের জুন মাস থেকে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০১৬ সালে স্বাক্ষরিত ভারতের সাথে ১৫ বছর মেয়াদি চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ-ভারত ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইন নির্মাণের কাজ শুরু হয়।

শেখ হাসিনার সরকার এবং নরেন্দ্র মোদির সরকারের যৌথ উদ্যোগে স্থাপিত পাইপলাইনটি ২০২৩ সালের মার্চে উদ্বোধন হয়। এর মোট দৈর্ঘ্য ১৩১.৫৭ কিলোমিটার (ভারতে ৫ কি.মি এবং বাংলাদেশে ১২৬.৫৭ কি.মি) এবং ক্ষমতা বার্ষিক ১ মিলিয়ন মেট্রিক টন (এমএমটিপিএ)।

ভারতের নুমালিগড় রিফাইনারি থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে দিনাজপুরের পার্বতীপুরে অবস্থিত রিসিপ্ট টার্মিনালে এসব জ্বালানি পৌঁছায়। পরবর্তীতে সেখান থেকে পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা—এই তিনটি তেল বিপণন কোম্পানির মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা হয়।

আগে রেলপথে সরবরাহ হতো, কিন্তু পাইপলাইন চালু হওয়ায় পরিবহন খরচ কমেছে এবং সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন হয়েছে। ভারতের ৮০ ভাগ অর্থায়নে পাইপলাইনটি নির্মিত হয়েছে।

চুক্তির তথ্য বলছে, দীর্ঘমেয়াদী চুক্তিতে বার্ষিক আমদানি পরিমাণ ধাপে ধাপে বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে: প্রথম তিন বছর ২.৫ লাখ টন, পরবর্তীতে ৩ লাখ, ৩.৫ লাখ এবং শেষে ৪ লাখ টন। এটি দেশের জ্বালানি চাহিদা (বার্ষিক প্রায় ৭৪ লাখ টন রিফাইন্ড ফুয়েল, যার ৮০ শতাংশ আমদানি) মেটাতে সহায়ক।

Visited 9 times, 1 visit(s) today