বিডি ডাইজেস্ট ডেস্ক
আওয়ামী লীগ সরকারের ১৭ বছরে দেশে একটি গ্যাসকূপও খনন করা হয়নি—প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এমন দাবিকে ‘মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর’ এবং ‘অপপ্রচার’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে ফ্যাক্ট ডিটেক্টর বাংলাদেশ।
সম্প্রতি এক বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দাবি করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের ১৭ বছরে দেশের প্রাকৃতিক সম্পদের একটি গ্যাসকূপও খনন করা হয়নি বা করতে দেওয়া হয়নি।
তার এই বক্তব্যের পরই তথ্য যাচাই করে ফ্যাক্ট ডিটেক্টর বাংলাদেশ।
ফ্যাক্ট ডিটেক্টর বাংলাদেশের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০০৯ সাল থেকে ২০২৪ সালের জুলাই পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দেশে ১৫৫টি গ্যাসকূপ খনন করা হয়েছে। ফলে ওই সময়ে একটি গ্যাসকূপও খনন হয়নি—প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের সঙ্গে তথ্যের মিল নেই বলে জানায় প্রতিষ্ঠানটি।
ফ্যাক্ট ডিটেক্টরের তথ্যচিত্রে ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের জুলাই পর্যন্ত গ্যাসকূপ খননের বিভিন্ন পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়েছে। এতে দেখা যায়, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গ্যাস অনুসন্ধান ও কূপ খননের কার্যক্রম অব্যাহত ছিল।
প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য অনুযায়ী, ১৭ বছরে একটি গ্যাসকূপও খনন হয়নি—এমন বক্তব্য বাস্তব তথ্যকে উপেক্ষা করে দেওয়া হয়েছে। এ কারণে দাবিটিকে ‘মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর’ হিসেবে উল্লেখ করেছে ফ্যাক্ট ডিটেক্টর।
তবে গ্যাসকূপ খনন করা এবং সেখান থেকে বাণিজ্যিকভাবে গ্যাস উৎপাদন করা এক বিষয় নয়। কোনো কূপ খননের পর সেখানে গ্যাসের সন্ধান নাও মিলতে পারে কিংবা পাওয়া গ্যাস বাণিজ্যিকভাবে উত্তোলনযোগ্য নাও হতে পারে। ফলে কূপ খননের সংখ্যা দিয়ে দেশের গ্যাস অনুসন্ধান বা জ্বালানি খাতের সামগ্রিক সাফল্য নির্ধারণ করা যায় না।
ফ্যাক্ট ডিটেক্টরের উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে গ্যাসকূপ খননের কার্যক্রম না থাকার দাবি তাই সঠিক নয়। প্রতিষ্ঠানটির অনুসন্ধানে পাওয়া ১৫৫টি কূপ খননের তথ্য প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক।
উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় যেসকল গ্যাসকূপ খনন ও বাস্তবায়িত করা হয়, সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য- সুন্দরপুর গ্যাসক্ষেত্র (২০১১), সুনেত্র গ্যাসক্ষেত্র (২০১১), শ্রীকাইল গ্যাসক্ষেত্র (২০১২), নারায়ণগঞ্জ গ্যাসক্ষেত্র (২০১৪), পাবনা গ্যাসক্ষেত্র (২০১৭), শাহবাজপুর গ্যাসক্ষেত্র (২০১৭), ভাদুড়িয়া গ্যাসক্ষেত্র ভোলা (২০১৮), শ্রীকাইল পূর্ব ১ (২০২০), জকিগঞ্জ গ্যাসক্ষেত্র (২০২১), ইলিশা-১ (২০২২), ভোলা উত্তর-২ (২০২২), টবগি-১ (২০২২)।
এগুলোর মধ্যে নোয়াখালী, কুমিল্লা, নারায়ণগঞ্জ ও ভোলাসহ বিভিন্ন গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কারে রাষ্ট্রায়ত্ত্ব সংস্থা- বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড-বাপেক্স চরম উৎকর্ষতা দেখিয়েছে।
শেখ হাসিনার সরকার বাপেক্সের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য উল্লেখযোগ্য অনেক পদক্ষেপ নেন। খননকার্য পরিচালনার লক্ষ্যে বাপেক্সের জন্য অত্যাধুনিক ৪টি ড্রিলিং রিগ ক্রয় করা হয়।


