বিশেষ প্রতিবেদক
সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে এক কিশোরীর অন্তরঙ্গ মুহূর্তের একটি ভিডিও গত ২০ জুলাই রাত থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর তা সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে তুমুল আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
গাজী নজরুল ইসলাম বর্তমানে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য এবং সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলা জামায়াতের আমির। তিনি অতীতেও একাধিকবার সাতক্ষীরা-৪ আসন থেকে নির্বাচন করেছেন।
ঘটনার বিষয়ে সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান মাওলানা আজিজুর রহমান বক্তব্য দিয়েছেন। জেলা জামায়াতের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ভিডিওতে দেখা নারীটি এমপি গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী এবং পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ফ্যাক্টচেক প্রতিষ্ঠান রিউমর স্ক্যানার জানিয়েছে, ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি প্রকৃতপক্ষেই আসল, অর্থাৎ এটি কোনো সম্পাদিত বা বিকৃত ভিডিও নয়। এ বিষয়ে জানতে একাধিকবার এমপি গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি বলে সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।
তবে বিডিডাইজেস্টের অনুসন্ধানে প্রাপ্ত তথ্যমতে সাংসদ সদস্যের সাথে ধৃত একজন সদ্য বালেগ হওয়া কিশোরী। তার নাম ‘মরিয়ম খাতুন”, জন্ম ২০০৮ সালের মে মাসে। তিনি ২০২৬ সালের অনুষ্ঠিত এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছেন এবং তার বায়োডাটাতে তার বৈবাহিক অবস্থা অবিবাহিত বলে উল্লেখ করা রয়েছে।

উক্ত বায়োডাটা মোতাবেক ২০২৬ এর জুন মাসে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম উক্ত কিশোরীকে সরকারী চাকরীর জন্য জোর সুপারিশ করেন।
ঘটনাটি সামনে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে এটিকে হেফাজতে ইসলামের নেতা মামুনুল হকের ২০২১ সালের রিসোর্ট-কাণ্ডের ৫০১এর সঙ্গে তুলনা করছেন, যেখানেও পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট পক্ষ নারীটিকে “মানবিক স্ত্রী” হিসেবে দাবি করেছিল।
