সুপারস্টার হয়েও রোনালদো ভুলে যাননি জীবনের কঠিন সময়ে পাশে থাকা মানুষগুলোকে

সুপারস্টার হয়েও রোনালদো ভুলে যাননি জীবনের কঠিন সময়ে পাশে থাকা মানুষগুলোকে
শেয়ার করুন

❐ স্পোর্টস ডেস্ক


১৯৯৭ সালে মাত্র ১২ বছর বয়সে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো নিজ শহর মেইদেইরা ছেড়ে পর্তুগালের রাজধানী লিসবনে আসেন স্পোর্টিং সিপির অ্যাকাডেমিতে যোগ দিতে।

একবার এক সাক্ষাৎকারে রোনালদো বলেছিলেন, “আমরা তখন বাচ্চা, বয়স ১১-১২ বছর। আমাদের কোনো টাকা-পয়সা ছিলো না। আমরা অ্যাকাডেমির একই ব্যারাকে থাকতাম। প্রতি রাতে আমাদের খুব ক্ষুধা পেতো। স্টেডিয়ামের পাশেই একটা ম্যাকডোনাল্ডস ছিলো, আমরা পেছনের দরজায় গিয়ে নক করে বলতাম, “হ্যালো, তোমাদের কোনো বার্গার কি বেঁচে গেছে?”

“সেখানে কয়েকজন নারী কর্মী ছিলেন, যাদের একজনের নাম এডনা। তারা আমাদের কিছু বেঁচে যাওয়া বার্গার দিয়ে দিতেন। আমি সেই নারীদের আর কখনো খুঁজে পাইনি। আমি পর্তুগালে অনেকের কাছে তাদের খোঁজ করেছি, জানলাম ম্যাকডোনাল্ডস তাদের সেই শাখা বন্ধ করে দিয়েছে। এই সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে যদি তাদের খোঁজ পাওয়া যায়, আমি খুব খুশি হবো। আমি তুরিন কিংবা লিসবনে আমার বাড়িতে তাদের নৈশভোজে আমন্ত্রণ জানাতে চাই। আমি তাদের সেই ঋণ শোধ করতে চাই,” বলেন সুপারস্টার ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো।

সাক্ষাৎকারটি প্রচারিত হওয়ার পর বিশ্বজুড়ে তুমুল সাড়া পড়ে যায়। পর্তুগালের সংবাদমাধ্যমগুলো সেই নারীদের খুঁজতে মরিয়া হয়ে ওঠে। অবশেষে সেই তিন নারীর মধ্যে দুজনের খোঁজ মেলে।

পর্তুগালের একটি রেডিও স্টেশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পলা ক্রুস নামের এক নারী নিশ্চিত করেন যে, তিনি সেই সময় ম্যাকডোনাল্ডসে কাজ করতেন।

রোনালদো যার নাম বিশেষভাবে মনে রেখেছিলেন, সেই এডনাকেও খুঁজে পাওয়া যায়। তিনি সুপারস্টার বনে যাওয়া সেই ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর এই কৃতজ্ঞতাবোধ দেখে অত্যন্ত আপ্লুত হয়েছিলেন।

রোনালদো শুধু কথাগুলো মুখে বলেই থেমে যাননি। খোঁজ পাওয়ার পর তিনি এডনা এবং পলাকে ধন্যবাদ জানান। রোনালদো তাদের লিসবনে তার ব্যক্তিগত রেস্তোরাঁয় এবং জুভেন্টাসের ম্যাচে বিশেষ অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানোর ব্যবস্থা করেছিলেন।

জীবনের চরম সাফল্যের চূড়ায় পৌঁছে, শত কোটি টাকার মালিক হয়েও, ১২ বছর বয়সের সেই ক্ষুধায় কাতর দিনগুলোতে সামান্য কিছু ফ্রি বার্গার খাওয়ানো নারীদের কথা ভুলে না যাওয়াটাই প্রমাণ করে কেন সিআর৭ মাঠ এবং মাঠের বাইরে এত বড় মাপের একজন মানুষ।

রোনালদোর জীবনের এই অসামান্য গল্পটি শেখায়, আমরা সাফল্যের আকাশে যতই উঁচুতেই উড়ি না কেন, নিজের শিকড় এবং কঠিন সময়ে বাড়িয়ে দেওয়া সাহায্যের হাতগুলোকে যেন ভুলে না যাই। একটু সৌজন্যতা, কৃতজ্ঞতাবোধের প্রকাশও অন্যের জীবনে গভীর প্রভাব ফেলতে পারে। যার সবচেয়ে বড় উদাহরণ ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর জীবনের এই ঘটনাটি।

Visited 6 times, 1 visit(s) today