❐ নিজস্ব প্রতিনিধি
চট্টগ্রামে জুলাইর স্মৃতি সংরক্ষণের নামে নির্মিত স্তম্ভ এক বছরের মধ্যেই অবহেলা ও অযত্নের কারণে প্রায় পরিত্যক্ত অবস্থায় পৌঁছেছে।
স্তম্ভের চারপাশে জমে থাকা আবর্জনা, আগাছার বিস্তার এবং অপরিকল্পিত ব্যবস্থাপনার কারণে সেখানে যেতে সাধারণ মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এ অবস্থায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জুলাইযোদ্ধা ও আন্দোলনকারীরা।
তবে প্রশাসন ও সিটি কর্পোরেশন দ্রুত সংস্কার এবং সৌন্দর্যবর্ধনের আশ্বাস দিয়েছে।
চট্টগ্রাম নগরের নিউ মার্কেট এলাকায় অবস্থিত ৬ ফুট প্রস্থ ও ১৮ ফুট উচ্চতার জুলাই স্তম্ভের আশপাশ আবর্জনার স্তূপ ও আগাছায় ছেয়ে গেছে। স্তম্ভের অবস্থান রেলওয়ে স্টেশনের পার্কিং এলাকার ভেতরে হওয়ায় শুরু থেকেই সাধারণ মানুষের সহজ প্রবেশাধিকার নিশ্চিতের পরিকল্পনা ছিল।
পরিকল্পনা অনুযায়ী স্তম্ভের দুই পাশের দেয়াল ভেঙে এটিকে উন্মুক্ত করা হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তা বাস্তবায়িত হয়নি।
ফলে বর্তমানে জুলাই স্তম্ভে যেতে হলে দর্শনার্থীদের আবর্জনার মধ্য দিয়ে পথ অতিক্রম করতে হয়।
জুলাইযোদ্ধাদের অভিযোগ, দিনের বেলায় মালবাহী যানবাহনের জটলা লেগেই থাকে। অন্যদিকে রাতের বেলায় এলাকাটি মাদকসেবীদের আড্ডাস্থলে পরিণত হয়, যা জুলাইর মর্যাদার জন্য হানিকর মনে করেন তারা।
শুধু নিউ মার্কেটের স্মৃতিস্তম্ভই নয়, বহদ্দারহাট, মুরাদপুর, কদমতলী এবং দেওয়ানহাট এলাকাতেও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে ‘জুলাই মেমোরি স্টাম্প’ নির্মাণ করা হয়েছিল। তবে এসব স্থাপনার অনেকগুলোতেই এখনো নামফলক স্থাপন করা হয়নি।
যথাযথ পরিচিতি ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এসব স্মৃতিচিহ্ন বর্তমানে বিভিন্ন পোস্টার, বিজ্ঞাপন ও প্রচারণামূলক কাগজে ঢেকে গেছে। ফলে যে উদ্দেশ্যে এগুলো নির্মাণ করা হয়েছিল, তা অনেকাংশেই ব্যাহত হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয়রা জানান, নগরের অনেক সমস্যা। জুলাইর নামে এসব স্থাপনা নির্মাণে অহেতুক অর্থ খরচ করা হয়েছে। নগরবাসী এসব নিয়ে বিরক্তি প্রকাশ করেন।
এদিকে, জুলাইর স্মৃতিচিহ্নগুলো সংরক্ষণে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা।
চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিয়া বলেন, “রেলওয়ে এবং পিডব্লিউডিকে বলে দেব যাতে এক পাশে ওয়াল দিয়ে আরেক পাশ খুলে দেয়। যাতে সবাই সেখানে যেতে পারে এবং প্রোগ্রাম করতে পারে।”
অন্যদিকে ডা. শাহাদাত বলেন, “জুলাই আমাদের ইমোশনের জায়গা। আমরা অবশ্যই বিষয়টিতে গুরুত্ব দেব, জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ নান্দনিক করবো।”
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালে জুলাইর স্মৃতি সংরক্ষণের নামে ইউনূস সরকার দেশের ৬৪ জেলায় জুলাই স্তম্ভ নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। এর অংশ হিসেবে চট্টগ্রামে এই স্তম্ভ নির্মাণ করা হয়। নির্মাণের অল্প সময়ের মধ্যেই অবহেলা, অপর্যাপ্ত রক্ষণাবেক্ষণ এবং পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ঘাটতির কারণে স্তম্ভের বেহাল দশা হয়েছে।
তবে এসব নির্মাণ নিয়ে বিপুল আর্থিক অনিয়ম, দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে ইতিমধ্যে।
