ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর নেতৃত্ব আর একঝাঁক বিশ্বসেরা তারকা নিয়ে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে শিরোপার অন্যতম দাবিদার পর্তুগাল। তবে এবার পর্তুগিজদের আসল শক্তি কেবল তাদের আক্রমণভাগ নয়, বরং ডিফেন্স ও অ্যাটাকিং লাইনের মধ্যকার নিখুঁত ভারসাম্য। উত্তর আমেরিকায় ইতিহাস গড়তে সম্পূর্ণ নতুন এক রণকৌশল নিয়ে নামছে দলটি।
-
নেশনস লিগ জয়ের আত্মবিশ্বাস নিয়ে বিশ্বকাপের হট ফেভারিট পর্তুগাল।
-
তারকাখচিত আক্রমণভাগের পাশাপাশি বিশ্বমানের ডিফেন্সই পর্তুগিজদের প্রধান অস্ত্র।
-
গ্রুপ ‘কে’-তে তাদের তিন প্রতিপক্ষ—কঙ্গো ডিআর, উজবেকিস্তান ও কলম্বিয়া।
অল-রাউন্ডার দল হিসেবে আবির্ভাব
পর্তুগালের আক্রমণভাগে প্রতিভার অভাব নেই, যা সংবাদপত্রের শিরোনাম কেড়ে নেওয়ার জন্য যথেষ্ট। তবে এবারের বিশ্বকাপে দলটির আসল সৌন্দর্য তাদের ভারসাম্যপূর্ণ স্কোয়াড। রক্ষণের অতন্দ্র প্রহরী থেকে শুরু করে ফরোয়ার্ড লাইন—সবখানেই রয়েছে বিশ্বমানের ফুটবলারদের উপস্থিতি।
দলটির প্রতিটি সদস্য প্রতিনিয়ত ক্লাব ফুটবলের সর্বোচ্চ স্তরে খেলছেন। ফলে মেগা আসরের আকাশচুম্বী চাপ কীভাবে সামলাতে হয়, তা তাদের ভালো করেই জানা। গত বছরই জার্মানি ও স্পেনের মতো পরাশক্তিদের হারিয়ে নেশনস লিগের ট্রফি জেতা দলটি এবার বিশ্বমঞ্চেও সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে মরিয়া।
রোনালদোর নেতৃত্ব ও মাঠের স্ট্র্যাটেজি
কোচ রবার্তো মার্তিনেসের সুনিপুণ ট্যাকটিকস মাঠের ভেতর বাস্তবায়ন করার জন্য এবার পর্তুগাল দলে অভিজ্ঞ ফুটবলারের কমতি নেই। অধিনায়ক ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর উপস্থিতি ড্রেসিংরুমের বাকি সদস্যদের জন্য এক বিশাল অনুপ্রেরণা। ফুটবল ও জীবন নিয়ে রোনালদোর যে অভিজ্ঞতা, তা দলের তরুণদের প্রতিনিয়ত সমৃদ্ধ করছে। তার এই কিংবদন্তিতুল্য নেতৃত্ব আর মাঠের কৌশলী ফুটবল পর্তুগালকে যেকোনো কঠিন পরিস্থিতি থেকে বের করে আনতে সাহায্য করবে।
বিশ্বকাপের কঠিন রোডম্যাপ
আগামী ১৭ জুন হিউস্টন স্টেডিয়ামে কঙ্গো ডিআর-এর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে পর্তুগাল। ছয় দিন পর একই ভেন্যুতে তাদের লড়তে হবে উজবেকিস্তানের সঙ্গে। আর ২৬ জুন মায়ামিতে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে তাদের মুখোমুখি হতে হবে লাতিন আমেরিকার শক্তিশালী দল কলম্বিয়ার।
পর্তুগাল শিবিরের মতে, প্রতিটি টুর্নামেন্টই একটি নতুন সূচনা। মাঠের প্রথম দিকের কঠিন পরিস্থিতিগুলোই মূলত নির্ধারণ করে দেয় দল কতদূর যাবে। প্রথম রাউন্ডের বাধাগুলো পেরিয়ে নক-আউটের চাপ সামলানোর সব রকম রসদই এবার দলটির রয়েছে।
লক্ষ্য এবার আকাশছোঁয়া
১৯৬৬ সালে কিংবদন্তি ইউসেবিওর হাত ধরে বিশ্বকাপে তৃতীয় হয়েছিল পর্তুগাল, যা এখনো পর্যন্ত বিশ্বমঞ্চে তাদের সেরা সাফল্য। এবার কি সেই রেকর্ড ভেঙে ট্রফি নিয়ে ঘরে ফিরতে পারবে রোনালদোর দল?
পর্তুগাল ক্যাম্পের মনোভাব এবার বেশ বাস্তবসম্মত। তারা কেবল অন্ধ বিশ্বাসের ওপর ভর করে মাঠে নামছে না, বরং তাদের চালিকাশক্তি হচ্ছে ট্রফি জেতার এক তীব্র ক্ষুধা। মাটিতে পা রেখেই তারা পুরো টুর্নামেন্টের পরিকল্পনা সাজাচ্ছে। প্রতিটি ম্যাচের পর ধাপে ধাপে আত্মবিশ্বাস বাড়ানোই তাদের লক্ষ্য। আর এই বিনয়ী অথচ আক্রমণাত্মক মানসিকতাই হয়তো এবার পর্তুগালকে এনে দিতে পারে তাদের ইতিহাসের প্রথম বিশ্বকাপ ট্রফি।
