দেড়মাসে দুই দফায় জ্বালানি তেল লিটারে ২৪.৫০ টাকা বৃদ্ধি: রাজস্ব ঘাটতি পূরণের দায় চাপল জনগণের ঘাড়ে!

দেড়মাসে দুই দফায় জ্বালানি তেল লিটারে ২৪.৫০ টাকা বৃদ্ধি: রাজস্ব ঘাটতি পূরণের দায় চাপল জনগণের ঘাড়ে!
শেয়ার করুন

অর্থনীতি ডেস্ক

জুন ২, ২০২৬।

 

ঈদুল আজহার ছুটি ও যাতায়াতের ব্যস্ততার মধ্যে পেট্রোল ও অকটেনের দাম লিটারপ্রতি ৫ টাকা বাড়িয়েছে সরকার। এর মাত্র দেড় মাস আগে ১৯ এপ্রিল জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি গড়ে ১৯.৫০ টাকা বাড়ানো হয়েছিল। ফলে চলতি বছর দুই দফায় জ্বালানি তেলের দাম গড়ে লিটারপ্রতি ২৪.৫০ টাকা বেড়েছে।

 

নতুন কোনো তেলের জাহাজ দেশে না আসা সত্ত্বেও এবং দেশে ৭০ শতাংশ অকটেন ও পেট্রোল উৎপাদিত হওয়ার পরও ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ ও হরমুজ প্রণালী বন্ধের সম্ভাবনাকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে দাম বাড়ানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

 

চাহিদা ও উৎপাদন

দেশে বার্ষিক পেট্রোলিয়ামের চাহিদা প্রায় ৭০ লাখ টন বা ১২০ কোটি লিটার। মাসিক চাহিদা প্রায় ৯০ লাখ লিটারের কাছাকাছি। এর মধ্যে ৭০ শতাংশ দেশীয় উৎপাদন থেকে আসলেও দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্তে সরকার বছরে অতিরিক্ত ২,৬৯৫ কোটি টাকা আয় করবে। মাসিক অতিরিক্ত আয়ের পরিমাণ দাঁড়াবে প্রায় ২২৫ কোটি টাকা।

 

বিশেষজ্ঞদের মূল্যায়ন

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, রাজস্ব আদায়ে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ১ লাখ কোটি টাকা ঘাটতির কারণে সরকারের ব্যয় নির্বাহে যে চাপ তৈরি হয়েছে, তা মেটানোর জন্যই জ্বালানি তেলের দাম বারবার বাড়ানো হচ্ছে। এই ঘাটতি পূরণে সাধারণ মানুষের পকেট থেকে অর্থ তোলার এই পথকে অনেকে ‘সহজ কিন্তু জনবিরোধী’ বলে আখ্যায়িত করছেন।

 

ঈদের সময় যাত্রী ও পণ্য পরিবহন বেড়ে যাওয়ায় জ্বালানির চাহিদা স্বাভাবিকভাবেই বৃদ্ধি পায়। এমন সময়ে দাম বাড়ানো সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী ও পরিবহন খাতকে চাপে ফেলবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এর প্রভাব সরাসরি পড়বে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের পরিবহন ব্যয় ও মূল্যস্ফীতিতে।

 

সরকারের এই সিদ্ধান্তকে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে দাবি করা হলেও, দেশীয় উৎপাদনের উল্লেখযোগ্য অংশ থাকা সত্ত্বেও দাম বৃদ্ধির যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অর্থনীতিবিদ ও ভোক্তা অধিকারকর্মীরা।

 

Visited 7 times, 1 visit(s) today