❐ নিজস্ব প্রতিবেদক
কাউকে ঘটনা বলে দিলে ‘জানে মেরে ফেলব’ হুমকি দিয়ে শ্বশুরবাড়ির কিশোরী গৃহকর্মীকে দিনের পর দিন ধর্ষণ করে গেছেন জামায়াতে ইসলামীর নেতা ও ব্যবসায়ী ড. মো. মাহমুদুল হাসান।
গত সোমবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে রাজধানীর মিরপুরের ৩৫১/৫ পশ্চিম শ্যাওড়াপাড়ায় আবারও একই অপকর্মের পর ঘটনাটি প্রকাশ্যে এলো।
পরে গতকাল বুধবার মধ্যরাতে ১৪ বছরের ভুক্তভোগী ওই গৃহকর্মী বাদী হয়ে ড. মাহমুদুল হাসানের বিরুদ্ধে মিরপুর থানায় নারীশিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করে। রাতেই গ্রেপ্তার করা হয় ড. মাহমুদুল হাসানকে।
শারীরিক পরীক্ষার জন্য ওই কিশোরীকে আজ ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) পাঠিয়েছে পুলিশ। আজ ড. মাহমুদুল হাসানকে আদালতে তোলা হলে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন বিচারক।
ভুক্তভোগী গৃহকর্মী জানান, অনেক আগে তার মা-বাবা মারা যান। দেড় বছর ধরে ড. মো. মাহমুদুল হাসানের শ্বশুরের (মিরপুরের ৩৫১/৫ পশ্চিম শ্যাওড়াপাড়া) বাড়িতে গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করছেন তিনি।এই বাড়িতে থাকেন তার স্ত্রী। স্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার সুবাদে প্রায়ই শ্বশুরের বাসায় আসেন হাসান।
গত বছরের ২০শে ডিসেম্বর রাতের কাজ শেষ করে ওই কিশোরী তার কক্ষে ঘুমিয়ে পড়েন। রাত ১টার দিকে ঘুমন্ত অবস্থায় মেয়েটির স্পর্শকাতর স্থানে হাত দিলে তার ঘুম ভেঙে যায়। এ সময় চিৎকার দেওয়ার চেষ্টা করলে তার মুখে হাত চাপা দিয়ে হত্যার হুমকি দিয়ে মেয়েটিকে ধর্ষণ করে হাসান। পরে বিভিন্ন সময় একই হুমকি দিয়ে মেয়েটিকে ধর্ষণ করেন তিনি। কাজ না পেলে কোথায় যাবে সে চিন্তা থেকে সব কিছু সহ্য করছিলেন কিশোরী।
সর্বশেষ গত সোমবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে গৃহকর্মীকে ফের ধর্ষণ করেন জামায়াতে ইসলামীর এই নেতা ও ব্যবসায়ী। একপর্যায়ে বাধ্য হয়ে ওই কিশোরী তার অপকর্মের কথা ধর্ষকের স্ত্রীকে জানালে তিনিই মামলা দায়েরের পরামর্শ দেন।
ড. মাহমুদুল হাসানের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করে ভুক্তভোগী কিশোরী।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মিরপুর থানার এসআই আবদুল কাদের বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পরপরই ড. মো. মাহমুদুল হাসানকে গ্রেপ্তার করা হয়। আজ আদালতের নির্দেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। বাদীর শারীরিক পরীক্ষার প্রতিবেদন পেলে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সংযুক্তি: ধর্ষণের দায়ে কারাবরণ করা ড. মো. মাহমুদুল হাসান বর্তমানে কারামুক্ত এবং তিনি জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্ট হিসেবে দায়িত্বরত।
