বিডি ডাইজেস্ট প্রতিবেদক
কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও অভিনেত্রী কারিনা কায়সার-এর মৃত্যুতে যখন শোবিজ অঙ্গনে শোকের ছায়া, তখন তাঁর মৃত্যুতে শোক প্রকাশে অস্বীকৃতি জানিয়ে প্রতিবাদ করেছেন প্রবীণ অভিনেতা আবদুল্লাহ রানা।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক বক্তব্যে আবদুল্লাহ রানা বলেন, কারিনার মৃত্যুতে হয়তো আমার দুঃখ প্রকাশ করা উচিত, কিন্তু আমি করব না। তার এই মন্তব্য ঘিরে অনলাইনে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা।
অভিনেতা আবদুল্লাহ রানার দাবি, কারিনা কায়সারের রাজনৈতিক অবস্থান ও আদর্শ তার ব্যক্তিগত বিশ্বাস এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এ কারণেই তিনি লোকদেখানো শোক প্রকাশে বিশ্বাসী নন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার এই অবস্থানের পক্ষে-বিপক্ষে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন নেটিজেনরা। একপক্ষের দাবি, একজন মানুষের মৃত্যুর পর রাজনৈতিক বিভাজন সামনে আনা অমানবিক ও অসংবেদনশীল। অন্যদিকে আরেক পক্ষ মনে করছে, ব্যক্তিগত রাজনৈতিক অবস্থান থেকে নিজের মতামত স্পষ্টভাবে তুলে ধরার অধিকার সবারই আছে।
এদিকে কিছু অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ও ব্যবহারকারী দাবি করছেন, জুলাই আন্দোলনের সময় দেশের অস্থিরতা, সহিংসতা ও বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে কারিনা কায়সারের অবস্থান নিয়ে আগে থেকেই সমালোচনা ছিল। তাদের ভাষ্য, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও রাষ্ট্রীয় মূল্যবোধের প্রশ্নে আপস না করেই নিজের অবস্থান ব্যক্ত করেছেন আবদুল্লাহ রানা।
তবে কারিনা কায়সারের বিরুদ্ধে উত্থাপিত এসব অভিযোগের বিষয়ে একাধিক ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। গণভবনেলেুট, মার্কিন এজেন্সি- রাষ্ট্রদূতের সাথে কুশল বিনিময় সব আছে সেখানে।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার (১৬ মে) ভারতের চেন্নাই-এর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান কারিনা কায়সার। তিনি জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক তারকা কায়সার হামিদ-এর কন্যা। তার মৃত্যুতে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনসহ শোবিজ অঙ্গনের অনেক তারকা শোক প্রকাশ করেছেন।
কারিনা কায়সারের মৃত্যু নিয়ে শোকের আবহের মধ্যেই আবদুল্লাহ রানার মন্তব্য চলমান রাজনৈতিক বিভাজন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং মানবিকতার প্রশ্নে যেন পাল্টা প্রতিবাদ। কেননা আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা মারা গেলে বা তাদের পিটিয়ে মেরে এই কথিত জুলাই যোদ্ধারা উল্লাস করেছে বা এখনও করছে।
