“রেজিম চেঞ্জ করে যুক্তরাষ্ট্রই ক্ষমতায়, আমাদের হাতে ক্ষমতা নেই”, জুলাইর আধ্যাত্মিক গুরুর কণ্ঠে হঠাৎ উল্টো সুর!

“রেজিম চেঞ্জ করে যুক্তরাষ্ট্রই ক্ষমতায়, আমাদের হাতে ক্ষমতা নেই”, জুলাইর আধ্যাত্মিক গুরুর কণ্ঠে হঠাৎ উল্টো সুর!
শেয়ার করুন

❐ বিশেষ প্রতিবেদক


২০২৪-এর জুলাই সন্ত্রাসের আধ্যাত্মিক গুরু খ্যাত কবি, চিন্তক ফরহাদ মজহার এক বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেছেন, “যুক্তরাষ্ট্র এখানে রেজিম চেইঞ্জ করেছে, তারাই এখন ক্ষমতায় রয়েছে, ক্ষমতা আমাদের হাতে নেই।”

গতকাল মঙ্গলবার হেফাজতে ইসলামের শাপলা চত্বরের ২০১৩ সালের সমাবেশ বিষয়ক একটি আলোচনা সভা ও তথ্যচিত্র প্রদর্শনীতে দেওয়া বক্তব্যে এ কথা বলেন ফরহাদ মজহার।

তার এমন মন্তব্য নিয়ে চলছে তুমুল আলোচনা।

“গণঅভ্যুত্থান ও গঠন: বাংলাদেশে গণরাজনৈতিক ধারার বিকাশ প্রসঙ্গে” নামে ২০২৩ সালের ৫ই আগস্ট প্রকাশিত তার এই বইটি ২০২৪ সালে তরুণদের দিক-নির্দেশনা দিয়েছিল বলে তিনি নিজেই উল্লেখ করেছেন বিভিন্ন বক্তব্যে। এমনকি জুলাই সন্ত্রাসে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণরা অধিকাংশই ফরহাদ মজহারেরই পাঠচক্রের সদস্য ছিলেন। তারা বিগত কয়েক বছর ধরে প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন সেই পাঠচক্রের মাধ্যমে।

এনসিপি-সমর্থিত সংগঠন ন্যাশনাল ওলামা এলায়েন্স আয়োজিত অনুষ্ঠানে ফরহাদ মজহার বলেন, “সামনে অনেক বড় বিপদ। বাইরে হিন্দু্ত্ববাদী বিপদ। আমাদের বিপ্লবী চেতনায় ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।”

অনুষ্ঠানে ২০১৩ সালের মে মাসে মতিঝিলের শাপলা চত্বরের ঘটনা, প্রতিবেশী ভারত এবং যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকাসহ নানা বিষয়ে কথা বলেন ফরহাদ মজহার।

তিনি দাবি করেন, “শাপলা চত্বরে) ৫ই মের ঘটনার অবশ্যই আমরা বিচার করব। কোনো প্রশ্ন নাই তাতে।”

পরে তিনি শ্রোতাদের উদ্দেশ্যে বলেন, “আমি ছোট্ট একটি প্রশ্ন করব, বিচারটা আপনারা কার কাছে চেয়েছেন? বিচার করবার যে শক্তি আমাদের হাতে এসেছিল, যেটাকে বলা হয় গাঠনিক ক্ষমতা, জনগণের সামষ্টিক যে ক্ষমতাটা ২০২৪-এর ৫ই আগস্ট আমাদের হাতে এসেছিল, এটা আমাদের হাত থেকে বেহাত হল কেন?”

ফরহাদ মজহার বলেন, “বিচার তো আমাদেরই করতে হবে। তাহলে সত্যিকার অর্থে আমরা যদি বিচারটা চাই, তাহলে আমাদের নিজেদের দিকে তাকাতে হবে। আমরা যদি ভুলগুলোকে বুঝতে না পারি, ৫ই মে তো বটেই, খুব দ্রুত আপনি অন্যান্য যে সকল গণহত্যা নিয়ে আলোচনা আছে, তার বিচার হবে না।”

তিনি বলেন, “পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেছেন, শেখ হাসিনাকে শাহজালাল বিমানবন্দরে গিয়ে আপনাদেরকে গলায় মারা পরিয়ে আনতে হবে। কারণ? রাষ্ট্রের সকল গুরুত্বপূর্ণ আইনি প্রশ্ন, সাংবিধানিক প্রশ্ন, এনসিপি এটাকে উপেক্ষা করেছে। আমি আপনাদের সঙ্গে আছি, বিনয়ের সঙ্গে বলব। আমি আছি তরুণদের সঙ্গে। আমাদের ভুলগুলো… কোন ঐতিহাসিক কারণে, কোন বাস্তবতার কারণে আমরা একটা হাসিনাহীন হাসিনাব্যবস্থার দিকে এগোচ্ছি, এটা আমাদের পর্যালোচনা করতে হবে। যদি আমরা আসলেই বিচার চাই।”

উগ্রবাদী গোষ্ঠীগুলোর অত্যন্ত আস্থাভাজন কবি ফরহাদ মজহার বলেন, আমরা কিন্তু নির্বাচনের মাধ্যমে শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশ থেকে উৎখাত করি নাই। আমরা যদি এটা মনে করি যে নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আমরা সংস্কার করব, এটা ভুল হবে। এর জন্য জনগণের গাঠনিক শক্তিকে বুঝতে হবে।

তিনি আরও বলেন, “দেশের সব মানুষ, সব রাজনৈতিক দলের মধ্যে শক্তিশালী ঐক্য গড়ে না উঠলে শাপলা চত্বরের গণহত্যার মত আরো গণহত্যা হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।”

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি মাওলানা আশরাফ উদ্দীনের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ-সদস্য আব্দুল্লাহ আল আমিন, এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, সংসদ সদস্য আতিক মুজাহিদ, এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার, যুগ্ম সদস্য সচিব সাইফ মুস্তাফিজ, এনসিপি নেতা ইসহাক সরকার, আহমাদি কাশেমী, মূসা আল হাফিজ, সাংবাদিক রেজাউল রহমান আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন।

Visited 12 times, 1 visit(s) today