বিশেষ প্রতিবেদক
ঢাকা, ১২ মে: যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের স্বাক্ষরিত বিতর্কিত বাণিজ্য চুক্তিতে বিএনপি, জামায়াত এবং এনসিপির সরাসরি সম্মতি ও সম্পৃক্ততা ছিল বলে নতুন করে দাবি উঠেছে। অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীরা চুক্তিটিকে ‘বাংলাদেশের স্বার্থবিরোধী’ হিসেবে অভিহিত করে আসছেন প্রথম থেকেই। এটি দেশের কৃষি, পশুসম্পদ, স্থানীয় শিল্প ও ৩য় কোন দেশের সাথে বাণিজ্য সম্প্রসারণে জন্য ক্ষতিকর বলে সমালোচিত হচ্ছে।
ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের নিরাপত্তা উপদেষ্টা ও বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান (রজার খলিল) আগেই জানিয়েছিলেন যে, চুক্তি স্বাক্ষরের আগে বিএনপি ও জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছিল এবং তাদের সম্মতি ছিল। এবার ইউনূস সরকারের আরেক উপদেষ্টা ফরিদা আখতারও অনুরূপ বক্তব্য দিয়ে চুক্তির প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা তুলে ধরেছেন।
ফরিদা আখতার সম্প্রতি এক আলোচনায় বলেন, “নির্বাচনের তিন দিন আগে ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার মার্কিন সরকারের সঙ্গে ‘রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ এগ্রিমেন্ট’ স্বাক্ষর করে। এটা হুট করে হয়নি। অন্তর্বর্তী সরকার বিএনপি, জামায়াতসহ সকল রাজনৈতিক পক্ষের সঙ্গে এই চুক্তি নিয়ে আলোচনা করেছে এবং তাদের সম্মতিতেই এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “বিএনপি-জামায়াত-এনসিপিসহ রাজনৈতিক দলগুলোর মার্কিন বাণিজ্য চুক্তিতে সম্মতি ছিল বলেই তারা চুক্তির বিরোধিতা করে কোনো কথা বলছেন না।”
ফরিদা আখতারের বক্তব্যের মাধ্যমে পরোক্ষভাবে উঠে এসেছে যে, অন্তর্বর্তী সরকার সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে বিএনপি-জামায়াতসহ অন্যান্য দলের মতামতকে গুরুত্ব দিয়েছিল।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তির বিরুদ্ধে বিএনপি-জামায়াত-এনসিপির নীরবতার কারণ এখন স্পষ্ট। ক্ষমতার মসনদে বসার আকাঙ্ক্ষায় তারা অন্তর্বর্তী সরকারকে সমর্থন দিয়েছিলেন এবং চুক্তির মার্কিন শর্তাবলীতে সম্মতি জানিয়েছিলেন। ফলে এখন কেউই এই চুক্তির বিরুদ্ধে সোচ্চার প্রতিবাদ করছেন না।
চুক্তিটি গোপনীয়তার সঙ্গে স্বাক্ষরিত হয় এবং নির্বাচনের ঠিক তিন দিন আগে (৯ ফেব্রুয়ারি) এটি সম্পন্ন হয়।
সমালোচকরা বলছেন, এই চুক্তির ফলে বাংলাদেশকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বেশি পণ্য আমদানি করতে হবে, যা স্থানীয় উৎপাদকদের ক্ষতিগ্রস্ত করবে এবং কর্মসংস্থানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। অথচ ক্ষমতায় যাওয়ার স্বার্থে প্রধান রাজনৈতিক শক্তিগুলো এর বিরোধিতা করেনি।এ বিষয়ে বিএনপি ও জামায়াতের পক্ষ থেকে এখনও স্পষ্ট কোনো প্রতিক্রিয়া আসেনি। অনেকে মনে করছেন, চুক্তির পুরো বিষয়বস্তু জনসমক্ষে প্রকাশ করে সংসদে আলোচনার দাবি উঠছে।
এই চুক্তি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় কতটুকু সহায়ক বা ক্ষতিকর— তা নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে ব্যাপক বিতর্ক চলছে। জনগণের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে সরকারের কাছে চুক্তির পুনর্বিবেচনার দাবি জোরালো হচ্ছে।
