ইরানের ফুটবল প্রধান মোস্তাফিজুর রহমান সরি, মেহেদি তাজ বুধবার জানিয়েছেন যে, আগামী তিন বা চার দিনের মধ্যে তিনি ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সঙ্গে একটি বৈঠক করবেন। সেখানে তিনি এই নিশ্চয়তা চাইবেন যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপে তাঁর দেশকে সম্মান জানানো হবে।
কানাডা, যারা যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোর সঙ্গে ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত হতে যাওয়া এই বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক, তারা জানিয়েছে যে গত সপ্তাহে তারা তাজকে প্রবেশাধিকার দিতে অস্বীকার করেছে। এর কারণ হিসেবে তারা ইসলামি রেভোল্যুশনারি গার্ড কোর (IRGC)-এর সঙ্গে তাঁর সংশ্লিষ্টতাকে উল্লেখ করেছে।
তাজ মঙ্গলবার বলেছেন যে, ফিফা যদি যুক্তরাষ্ট্রে দেশের প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি শ্রদ্ধার নিশ্চয়তা দিতে না পারে, তবে ইরান এই টুর্নামেন্টে অংশ নেবে না। ইরান দলের সবকটি গ্রুপ পর্বের ম্যাচ সেখানেই অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
বুধবার তেহরানে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম আইআরআইবি-কে এফএফআইআরআই (FFIRI) সভাপতি বলেন, ‘আমরা (ফিফা-কে) জানাব আমাদের প্রত্যাশা কী। তারা যদি সেগুলো পূরণ করতে পারে, তবে আমরা অবশ্যই অংশগ্রহণ করব।’
‘কিন্তু যদি সেগুলো পূরণের কোনো নিশ্চয়তা না থাকে, তবে আমাদের বা আমাদের ব্যবস্থার স্তম্ভগুলোকে অপমান করার অধিকার কারো নেই।’
‘এবং যদি তারা অসম্মানের পথ অব্যাহত রাখে, এমনকি আমাদের খেলোয়াড়দের সেই ধরণের প্রশ্ন করা হয়, তবে আমরা ভিন্ন কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারি।’
যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা উভয় দেশই আইআরআইবি-কে একটি ‘সন্ত্রাসী সত্তা’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে এবং স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, এই অভিজাত সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের তারা প্রবেশাধিকার দেবে না।
ফুটবল প্রশাসনে আসার আগে আইআরআইবি-র একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করা তাজ, বুধবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাইয়ের সমর্থন পেয়েছেন।
বাঘাই তেহরানে সাংবাদিকদের বলেন, ‘দেখুন, আমাদের জাতীয় ফুটবল দল কেবল যুক্তরাষ্ট্রে ‘ভ্রমণ’ করতে যাচ্ছে না, বরং আমরা সেখানে ফিফা বিশ্বকাপে অংশ নিতে যাচ্ছি।’
‘তাই প্রয়োজনীয় সব সুযোগ-সুবিধা ও পরিবেশ নিশ্চিত করা ফিফার দায়িত্ব।’
‘আয়োজক সরকারগুলোরও ফিফার নিয়ম অনুযায়ী একটি অত্যন্ত স্পষ্ট বাধ্যবাধকতা রয়েছে যে, কোনো রাজনৈতিক বিবেচনা বা উদ্দেশ্য আমলে না নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা এবং প্রয়োজনীয় ভিসা প্রদান করা।’
‘আমরা আশা করি যে, ফিফা অন্তত নিজস্ব মর্যাদা রক্ষার স্বার্থে হলেও অবশ্যই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।’
ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরান অভিমুখে বিমান হামলা চালানোর পর থেকে বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে, যা ওই অঞ্চলে যুদ্ধের সূত্রপাত করেছে।
তাজ আরও জানিয়েছেন যে, এই সপ্তাহে টুর্নামেন্টের জন্য প্রাথমিক ৩০ জনের একটি দল নির্বাচন করা হবে। এরপর তুরস্কে একটি প্রশিক্ষণ শিবিরের পর তা চূড়ান্ত ২৬ জনে কমিয়ে আনা হবে।
ইরানের কোচ আমির গ্যালেনোই রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, দুই সপ্তাহের ওই ক্যাম্প শেষে টুর্নামেন্ট শুরুর ১৪ দিন আগে দলের যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
গ্যালেনোই বলেন, তিনি চেয়েছিলেন দলের জন্য দুটি বা তিনটি প্রস্তুতি ম্যাচ থাকুক, কিন্তু শেষ মুহূর্তে দলগুলো সরে দাঁড়ানোয় আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচের আয়োজন করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
তাই দলটি আরও এক সপ্তাহ তেহরানে অবস্থান করবে। এরপর ১৬ মে তারা তুরস্কের উদ্দেশ্যে রওনা হবে, যেখানে ইরান গত মার্চের শেষের দিকে কোস্টারিকা ও নাইজেরিয়ার সঙ্গে প্রীতি ম্যাচ খেলেছিল।
১৫ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে ‘টিম মেল্লি’র অভিযান শুরু করার কথা রয়েছে। অ্যারিজোনার টুসনের কিনো স্পোর্টস কমপ্লেক্সে হবে দলটির মার্কিন ঘাঁটি।
