❐ নিজস্ব সংবাদদাতা
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত তিন মাসে মোট ৮৭১ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল ১২ হাজার ৫১৪ জন শিশু। অর্থাৎ গড়ে প্রতিদিন অন্তত ১০ জন শিশুর প্রাণহানি ঘটেছে। এই সংখ্যা উত্তরাঞ্চলের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
এতো বিপুল সংখ্যক শিশু মৃত্যুর ঘটনা স্মরণাতীতকালে দেখা যায়নি, এমনটাই অভিমত সুধীমহলের। স্বাস্থ্য খাতের অব্যবস্থাপনা ও দায়িত্বে অবহেলাজনিত কারণকে দায়ী করে সাধারণ মানুষ ক্ষোভ প্রকাশের পাশাপাশি প্রশ্ন তুলেছেন, এতো মৃত্যুর দায় কি রাষ্ট্রের নয়?
হাসপাতাল সূত্র জানায়, মৃত্যুর মধ্যে অনেকগুলোই হামের উপসর্গ নিয়ে হয়েছে। এ পর্যন্ত হাম সংক্রান্ত জটিলতায় অন্তত ৫২ জন শিশুর মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালে শতাধিক শিশু হামের লক্ষণ নিয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
এ ছাড়া নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) ও ভেন্টিলেটরের অভাবে অনেক শিশু আইসিইউয়ের অপেক্ষায় থেকে মারা গেছে। মার্চ মাসে মাত্র ১১ দিনেই ৩৩ জন শিশু এভাবে প্রাণ হারিয়েছে বলে জানা গেছে।
রামেক হাসপাতাল উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা গরিব ও সাধারণ মানুষের চিকিৎসার প্রধান ভরসাস্থল। কিন্তু সীমিত সুযোগ-সুবিধা, আইসিইউ বেডের সংকট এবং হামের মতো সংক্রামক রোগের প্রাদুর্ভাবের কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুসারে, পুরো রাজশাহী বিভাগে হাম সংক্রান্ত শিশু মৃত্যুর সংখ্যা ৬৬ জনের মতো নিশ্চিত হয়েছে, যার মধ্যে রামেকের অংশই সবচেয়ে বেশি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনসহ সরকারি কর্মকর্তারা এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। মন্ত্রী আইসিইউ ও ভেন্টিলেটরের অভাবের জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সমালোচনা করেছেন। স্বাস্থ্য সচিবও শিশু মৃত্যুর ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। হাসপাতালে মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে এবং হামের টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম প্রতিরোধে টিকাদানের হার বাড়ানো, আইসিইউ সুবিধা সম্প্রসারণ এবং হাসপাতালের অবকাঠামো উন্নয়ন জরুরি। অন্যথায় এ ধরনের মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
এ ঘটনায় শোকাহত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের দাবি উঠেছে। রামেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, তারা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
