❐ বিডি ডাইজেস্ট ডেস্ক
বাংলাদেশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ গভীর উদ্বেগ, ক্ষোভ ও তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বলেছে, গত ২৩শে এপ্রিল রাজশাহীর দাওকান্দি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ-এ ডিগ্রি পরীক্ষা চলাকালে সহিংস হামলার ঘটনা অত্যন্ত নিন্দনীয় ও উদ্বেগজনক।
বিবৃতিতে বলা হয়, দুর্গাপুর উপজেলা-এর জয়নগর ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি আকবর আলী-এর নেতৃত্বে একটি দল ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে কলেজে প্রবেশ করে। তারা নারী শিক্ষিকা আলেয়া খাতুন হীরা, অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাক, অধ্যাপক রেজাউল করিম আলমসহ আরও কয়েকজন শিক্ষক ও কর্মচারীর ওপর হামলা চালায়।
সংগঠনটি এ ঘটনাকে “বর্বরোচিত” আখ্যা দিয়ে অবিলম্বে জড়িতদের গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ড. ইউনূস-এর নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে দেশের শিক্ষাঙ্গনে অস্থিরতা, সহিংসতা ও নিপীড়নের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এতে শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
তাদের অভিযোগ, মব সন্ত্রাস ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে বহু শিক্ষক হামলার শিকার হয়েছেন, অনেকে নিহত ও আহত হয়েছেন। একই সঙ্গে, বিপুলসংখ্যক শিক্ষক ও শিক্ষার্থী প্রশাসনিক ও আইনি জটিলতায় পড়েছেন।
বর্তমান পরিস্থিতিতে শিক্ষকদের নিরাপত্তাহীনতার কথা তুলে ধরে সংগঠনটি জানায়, দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকরা প্রতিনিয়ত ঝুঁকির মধ্যে কাজ করছেন, যা শিক্ষাব্যবস্থাকে গভীর সংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
সংগঠনের ৯ দফা দাবি
১। দাওকান্দি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের শিক্ষকদের ওপর হামলাকারীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
২। মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলায় গ্রেপ্তারকৃত সম্মানিত শিক্ষকবৃন্দ—অধ্যাপক আ ক ম জামাল উদ্দীন, অধ্যাপক ড. আবুল বারাকাত, অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ এবং অধ্যাপক শিবলী রুবায়েতুল ইসলাম—এর অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি নিশ্চিত করতে হবে।
৩। রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক মামলায় গ্রেপ্তারকৃত সকল স্তরের শিক্ষকদের দ্রুত ও নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে। একই সঙ্গে, অন্যায়ভাবে বহিষ্কৃত শিক্ষকদের বহিষ্কারাদেশ ও সাময়িক বরখাস্তাদেশ প্রত্যাহার করে তাঁদের শ্রেণিকক্ষে ফিরে যাওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।
৪। গত ২০ মাস ধরে শিক্ষকদের ওপর হামলাকারী সকল মব সন্ত্রাসীকে চিহ্নিত করে অবিলম্বে গ্রেপ্তার এবং কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
৫। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও প্রহসনমূলক রায়ের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষকবৃন্দ—সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. হাসিবুর রশিদ, সহযোগী অধ্যাপক মো. মশিউর রহমান, সহযোগী অধ্যাপক ও সাবেক প্রক্টর মো. শরিফুল ইসলাম এবং সহযোগী অধ্যাপক আসাদুজ্জামান মন্ডল—এর বিরুদ্ধে প্রদত্ত সকল রায় অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে।
৬। শিক্ষকদের স্থগিত রাখা বেতন-ভাতা অবিলম্বে চালু করতে হবে এবং বকেয়া সকল পাওনা দ্রুত পরিশোধ করতে হবে।
৭। সারাদেশে প্রাথমিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায় পর্যন্ত যেসব অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষকসহ অন্যান্য শিক্ষককে জোরপূর্বক পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে, তাঁদের পুনঃনিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে এবং উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদান করতে হবে।
৮। বহিষ্কৃত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দ্রুত স্বপদে পুনর্বহাল করতে হবে।
৯। অন্যায়ভাবে বহিষ্কৃত হাজার হাজার শিক্ষার্থীর বহিষ্কারাদেশ এবং ডিগ্রিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সার্টিফিকেট বাতিলের সিদ্ধান্ত অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে।
বিবৃতি প্রদানকারী
ড. মাহবুব আলম প্রদীপ, সহযোগী অধ্যাপক, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
দপ্তর সম্পাদক, বাংলাদেশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ
