কুমিল্লা প্রতিনিধি
কুমিল্লা, ২৫ এপ্রিল ২০২৬ঃ চট্টগ্রামে সরকারি প্রশিক্ষণ শেষ করে ঢাকায় ফেরার পথে নিখোঁজ হয়েছিলেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) অধীন কাস্টমস, এক্সসাইজ ও ভ্যাট বিভাগের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী (৩৫)। নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ১২ ঘণ্টা পর শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকাল পৌনে ৮টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কোটবাড়ি এলাকায় আইরিশ হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টের পাশের ফুটপাত থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করেছে ময়নামতি হাইওয়ে থানা পুলিশ।
পারিবারিক সূত্র ও পুলিশ জানায়, বুলেট বৈরাগী গত ১১ এপ্রিল চট্টগ্রামে ৪৪তম বুনিয়াদি প্রশিক্ষণে যোগ দেন। প্রশিক্ষণ শেষে শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) রাত ১১টার দিকে চট্টগ্রামের অলঙ্কার মোড় থেকে বাসে করে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন। পথে পরিবারের সঙ্গে তার মোবাইলে কথা হয়। সর্বশেষ রাত ২টা ২৫ মিনিটে তিনি ফোন করে জানান, তিনি কুমিল্লা নগরীর টমছমব্রিজ চৌরাস্তার মোড়ে পৌঁছেছেন। এরপর আর কোনো যোগাযোগ হয়নি।
দীর্ঘ সময় কেটে গেলেও বাসায় না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা তার মোবাইলে কল দিলে ফোন বন্ধ পান। সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি করে কোনো সন্ধান না পেয়ে শনিবার সকালে তার বাবা সুশীল বৈরাগী কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
ময়নামতি হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল মোমিন জানান, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করে। দুপুর ১টার দিকে পরিবারের সদস্যরা থানায় এসে মরদেহ শনাক্ত করেন। তিনি বলেন, মরদেহে বড় ধরনের কোনো আঘাতের চিহ্ন না থাকলেও মুখমণ্ডল কিছুটা রক্তাক্ত ছিল।
কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি তৌহিদুল আনোয়ার জানান, নিখোঁজের বিষয়ে পরিবার জিডি করেছিল। মরদেহ উদ্ধারের পর স্বজনরা তা শনাক্ত করেছেন। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
রহস্যজনক কিছু তথ্য
বুলেট বৈরাগী কুমিল্লা কাস্টমস, এক্সসাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটে কর্মরত ছিলেন। তিনি খাদ্য অধিদপ্তরের খাদ্য পরিদর্শক পদ থেকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অধীনে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন।
রাত ২:২৫ মিনিটে কুমিল্লার টমছমব্রিজ এলাকায় অবস্থান জানানোর পর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তিনি নিখোঁজ হন। মরদেহ পাওয়া যায় কোটবাড়ি এলাকায় (ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চট্টগ্রামমুখী লেনে), যা টমছমব্রিজ থেকে কিছুটা দূরে।

মরদেহে বড় আঘাত না থাকায় প্রাথমিকভাবে সড়ক দুর্ঘটনা বা হৃদরোগজনিত কারণে মৃত্যুর সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তবে মুখমণ্ডল রক্তাক্ত থাকায় অনেকে খুনের আশঙ্কা করছেন।
পুলিশ এখনো কোনো নির্দিষ্ট হত্যাকাণ্ডের ইঙ্গিত দেয়নি, তবে তদন্ত চলছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, বুলেট বৈরাগী সাধারণত প্রশিক্ষণ শেষে সময়মতো বাসায় ফিরতেন। হঠাৎ এভাবে নিখোঁজ হয়ে মৃত্যু তাদের স্তম্ভিত করে দিয়েছে। তারা দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন।
বিষয়টি নিয়ে কাস্টমস কর্মকর্তাদের মধ্যেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এনবিআর সূত্র জানায়, কর্মকর্তার মৃত্যুর ঘটনায় তারা খোঁজখবর নিচ্ছেন।
পুলিশ বলছে, সিসিটিভি ফুটেজ, বাসের যাত্রীদের সাক্ষ্য ও মোবাইল লোকেশন পর্যালোচনা করে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণ না হওয়া পর্যন্ত এটিকে রহস্যজনক মৃত্যু হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
