এভারেস্টের পথে বিশাল হিমবাহের বাধা, চূড়ায় ওঠার মৌসুমে বাড়ছে উদ্বেগ

এভারেস্টের পথে বিশাল হিমবাহের বাধা, চূড়ায় ওঠার মৌসুমে বাড়ছে উদ্বেগ
শেয়ার করুন

❐ আন্তর্জাতিক ডেস্ক


হিমালয়ের ব্যস্ত আরোহন মৌসুমের শুরুতেই নেপালের বেস ক্যাম্প থেকে বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বত মাউন্ট এভারেস্ট-এর পথে বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে একটি বিশাল ও অস্থিতিশীল হিমবাহের খণ্ড।

প্রায় ১০০ ফুট (প্রায় ৩০ মিটার) উচ্চতার এই বরফখণ্ডটি ক্যাম্প-১ এর ঠিক নিচে অবস্থান করছে এবং এটি আরোহীদের জন্য নির্ধারিত প্রধান পথ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দিয়েছে। নিচের অংশে দড়ি ও মই স্থাপনের দায়িত্বে থাকা বিশেষজ্ঞ দল, যাদের সাধারণভাবে “আইসফল ডাক্তার” বলা হয়, জানিয়েছেন যে তারা এখনো পর্যন্ত এই বাধা পাশ কাটানোর কোনো নিরাপদ উপায় খুঁজে পাননি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বরফের এই বিশাল খণ্ডটি একটি “সেরাক” ধরনের গঠন, যা স্বাভাবিকভাবে ভেঙে পড়া বা গলে যাওয়ার জন্য অপেক্ষা করা ছাড়া আপাতত আর কোনো কার্যকর সমাধান নেই।

তারা আশা করছেন, কয়েক দিনের মধ্যেই এটি ভেঙে পড়তে পারে। তবে ততদিন পর্যন্ত আরোহন কার্যক্রম কার্যত স্থগিত থাকবে।

এই অপ্রত্যাশিত বিলম্বের কারণে বসন্ত মৌসুমের প্রস্তুতি উল্লেখযোগ্যভাবে পিছিয়ে পড়েছে। সাধারণত এপ্রিলের এই সময়ের মধ্যে পথ ক্যাম্প-৩ পর্যন্ত প্রস্তুত হয়ে যায়, কিন্তু এবার এখনো ক্যাম্প-১ এর নিচেই কাজ আটকে আছে। ফলে পুরো মৌসুমের সময়সূচি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

অভিযাত্রীরা বর্তমানে বেস ক্যাম্পে অবস্থান করে ধীরে ধীরে উচ্চতার সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নিচ্ছেন। এই প্রক্রিয়ায় সাধারণত তারা ক্যাম্প-১, ক্যাম্প-২ ও ক্যাম্প-৩ এর মধ্যে কয়েকবার যাতায়াত করেন। কিন্তু পথ বন্ধ থাকায় এই স্বাভাবিক অনুশীলনেও ব্যাঘাত ঘটছে।

অভিজ্ঞ পর্বতারোহীরা আশঙ্কা করছেন, যদি পথ দেরিতে খোলা হয়, তাহলে স্বল্প সময়ের মধ্যে বিপুল সংখ্যক আরোহী একসঙ্গে শীর্ষে ওঠার চেষ্টা করবেন। এতে করে আবারও “ট্রাফিক জ্যাম” বা ভিড়ের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে, যা অতীতে প্রাণহানির কারণও হয়েছে।

বরফখণ্ডটির নিচের অংশ ইতিমধ্যে দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং সেখানে ফাটল ও গলনের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। তবে এটি পুরোপুরি ধসে পড়ার আগে এর পাশ দিয়ে বিকল্প পথ তৈরি করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা কয়েকদিন ধরে এলাকাটি পরীক্ষা করেও নিরাপদ কোনো পথ খুঁজে পাননি।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় নেপালের পর্যটন কর্তৃপক্ষ বিকল্প পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। এর মধ্যে হেলিকপ্টারের মাধ্যমে দড়ি স্থাপনকারী দল ও তাদের সরঞ্জাম সরাসরি ক্যাম্প-২ এ পৌঁছে দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে, যাতে অন্তত ওপরের অংশের পথ প্রস্তুত করা যায়। তবে নিচের অংশে বাধা না সরা পর্যন্ত পুরো রুট চালু করা সম্ভব হবে না।

আবহাওয়ার অনুকূল সময় সাধারণত মে মাসের শেষ পর্যন্ত থাকে। ফলে এই সময়ের মধ্যে বরফ গলে পথ পরিষ্কার না হলে আরোহীদের জন্য সুযোগের জানালা সংকুচিত হয়ে পড়বে। এতে করে অল্প সময়ের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ ভিড় তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা আরও বাড়বে।

এ বছরও বিপুল সংখ্যক পর্বতারোহী এভারেস্ট জয়ের লক্ষ্যে প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ইতোমধ্যে শতাধিক বিদেশি আরোহী অনুমতি পেয়েছেন, এবং বেশিরভাগই নেপাল দিক থেকেই আরোহণের পরিকল্পনা করছেন, যা ঐতিহ্যগতভাবে সবচেয়ে জনপ্রিয় রুট হিসেবে বিবেচিত।

সব মিলিয়ে, প্রকৃতির এই অপ্রত্যাশিত বাধা এভারেস্ট আরোহনের মৌসুমে নতুন করে অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ তৈরি করেছে। এখন সবার নজর সেই বিশাল বরফখণ্ডটির দিকে, যা গলে বা ভেঙে পড়লেই আবারও খুলে যাবে বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গে পৌঁছানোর পথ।

Visited 11 times, 1 visit(s) today