❐ নিজস্ব প্রতিবেদক
সারাদেশে হাজার হাজার শিশু হামে আক্রান্ত এবং কয়েক শত শিশুর মৃত্যুর পরেও পরিস্থিতি জরুরি অবস্থা জারির মতো নয় বলে মনে করেন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনামন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল।
তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিকে মহামারি হিসেবেও দেখার সুযোগ নেই।
সোমবার নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার জিন্দা পার্কে লিটল অ্যাঞ্জেল সেমিনারিতে হাম ও রুবেলার টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
জরুরি অবস্থা জারির দাবি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতি মহামারি নয়। রোগীর সংখ্যা ধীরে ধীরে কমছে। জরুরি অবস্থা দেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।’
তিনি বলেন, প্রথম শিশুর মৃত্যুর পরপরই সরকার দ্রুত আইসিইউ সুবিধা বাড়ানোসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহের উদ্যোগ নেয়। একই সঙ্গে বিভিন্ন জেলায় ভেন্টিলেটর দেওয়া হয়েছে।
তার দাবি, পূর্ববর্তী সরকার পর্যাপ্ত ভ্যাকসিন সরবরাহ রেখে যায়নি, ফলে আন্তর্জাতিক সংস্থা গ্যাভি ও ইউনিসেফের সহায়তায় দ্রুত টিকা সংগ্রহ করতে হয়েছে।
তিনি বলেন, চলতি মাসের ৫ তারিখ থেকে দেশের ১৮ জেলার ৩০টি উপজেলায় টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সোমবার থেকে তা সারা দেশে বিস্তৃত করা হয়েছে। কয়েক দিনের মধ্যে হামে আক্রান্তের সংখ্যা কমে আসবে বলেও আশা প্রকাশ করেন মন্ত্রী।
তিনি জানান, রাজধানীতে তুলনামূলকভাবে সংক্রমণ কম। ঢাকার হাসপাতালে যেসব রোগী ভর্তি হচ্ছে, তাদের অনেকেই অন্য জেলা থেকে আসছে। এ অবস্থায় ঢাকাতেও টিকাদান কার্যক্রম আরও জোরদার করা হচ্ছে।
এর আগে সকাল ৮টায় টিকাদান ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ভুইয়া, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, জেলা প্রশাসক রায়হান কবির, জেলা সিভিল সার্জন এ এফ এম মুশিউর রহমানসহ সংশ্লিষ্টরা।
দেশব্যাপী বিশেষ হাম-রুবেলার টিকাদান কর্মসূচির আওতায় ছয় মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সি প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ শিশুকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। সাপ্তাহিক ছুটি ছাড়া প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে নির্ধারিত টিকাদান কেন্দ্রে এ কার্যক্রম চলবে। সিটি কর্পোরেশন এলাকায় এ কর্মসূচি চলবে আগামী ২০শে মে পর্যন্ত এবং অন্যান্য এলাকায় ১২ই মে পর্যন্ত।
