প্রকাশ্য দিবালোকে যুবদলের সন্ত্রাসীদের অপহরণ-নির্যাতনের শিকার দুই ছাত্র নেতা, মুক্তিপণ দাবি

প্রকাশ্য দিবালোকে যুবদলের সন্ত্রাসীদের অপহরণ-নির্যাতনের শিকার দুই ছাত্র নেতা, মুক্তিপণ দাবি
শেয়ার করুন

❐ নিজস্ব সংবাদদাতা


চট্টগ্রামের জনবহুল এলাকায় এক দুঃসাহসিক ও রোমহর্ষক অপহরণের ঘটনা ঘটেছে।

সন্দ্বীপের এক চিকিৎসাধীন আওয়ামী লীগ নেতাকে দেখতে গিয়ে নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়েছেন চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজের ছাত্র সংসদের জিএস, ছাত্রলীগ নেতা মাকসুদুর রহমান এবং দক্ষিণ সন্দ্বীপ কলেজের ছাত্রলীগের সভাপতি রেজাউল করিম ফাহাদ। অপহরণকারীরা কেবল মারধর করেই ক্ষান্ত হয়নি, রীতিমতো মুক্তিপণ দাবি করে এই দুই ছাত্রনেতার ওপর চালিয়েছে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন।

জানা গেছে, সন্দ্বীপ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু তাহের বর্তমানে নগরীর গ্রিন শেফা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাকে দেখতেই সেখানে গিয়েছিলেন মাকসুদুর রহমান ও রেজাউল করিম ফাহাদ। হাসপাতাল থেকে বের হয়ে পাশের একটি গলিতে চা খেতে গেলে ওত পেতে থাকা ৮-৯ জন যুবক তাদের পথরোধ করে। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই তাদের দুজনকে জোরপূর্বক অপহরণ করে নিয়ে যাওয়া হয় স্থানীয় আবাহনী মাঠে। আবাহনী মাঠে নিয়ে যাওয়ার পর দুই ছাত্রনেতাকে আলাদা করে ফেলা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগীদের ভাষ্যমতে, শুরু হয় নির্মম প্রহার। ফাহাদ অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা তার কাছে ১ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। টাকা দিতে অস্বীকার করায় নির্যাতনের মাত্রা বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়।

ভুক্তভোগী রেজাউল করিম ফাহাদ বলেন, “আমাকে লাঠি দিয়ে মারতে মারতে তারা তিনটি লাঠি ভেঙে ফেলেছে। শরীরের বিভিন্ন স্থানে লাথি ও উপর্যুপরি আঘাত করা হয়েছে। একপর্যায়ে গলায় এমনভাবে চাপ দেওয়া হয় যে, নাক ও মুখ দিয়ে রক্তক্ষরণ শুরু হয়।”

একই সময়ে মাকসুদুর রহমানকেও অন্য পাশে নিয়ে গিয়ে অমানবিক নির্যাতন চালানো হয় বলে জানা গেছে। একপর্যায়ে ফাহাদ সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়লেও হামলাকারীরা ক্ষান্ত হয়নি; জ্ঞান ফেরার পর আবারও তাকে টাকার জন্য চাপ দেওয়া হয়।

স্থানীয় সূত্র এবং ভুক্তভোগীদের দাবি অনুযায়ী, এই বর্বরোচিত হামলার পেছনে জড়িতরা স্থানীয় সংসদ সদস্য সাইদ আল নোমানের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। হামলাকারীদের মধ্যে মুয়াজ্জিন, নুরু, সাব্বির এবং ফারহানসহ অজ্ঞাত আরও ১০-১৫ জনের নাম উঠে এসেছে। এলাকায় তারা ‘যুবদল ক্যাডার’ হিসেবে পরিচিত।

বর্বর এই নির্যাতনের শিকার দুই শিক্ষার্থী বর্তমানে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ও শারীরিকভাবে গুরুতর আহত। তবে এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ঘটনার বিষয়ে ভুক্তভোগী পক্ষ থেকে থানায় কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। প্রাণের ভয়ে নাকি অন্য কোনো চাপে তারা আইনি পদক্ষেপ নিতে দ্বিধা করছেন, তা নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

শহরের কেন্দ্রস্থলে এমন প্রকাশ্যে অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবির ঘটনায় সাধারণ শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও নিরাপত্তাহীনতা বিরাজ করছে।

Visited 17 times, 1 visit(s) today