বগুড়ায় সেচ সংকট: শুকিয়ে যাচ্ছে ধানের জমি, ডিজেলের খোঁজে পাম্পে পাম্পে ঘুরছেন কৃষক

বগুড়ায় সেচ সংকট: শুকিয়ে যাচ্ছে ধানের জমি, ডিজেলের খোঁজে পাম্পে পাম্পে ঘুরছেন কৃষক
শেয়ার করুন

স্থানীয় প্রতিনিধি | বগুড়া

ইরি-বোরো মৌসুমের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বগুড়ায় দেখা দিয়েছে তীব্র ডিজেল সংকট। ফলে সেচ পাম্প চালাতে না পেরে ধানের জমি শুকিয়ে যাচ্ছে। কৃষকরা কনটেইনার হাতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা পেট্রোল পাম্পে লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও জ্বালানি পাচ্ছেন না। অনেক ক্ষেত্রে তেল শেষ হয়ে গেলে পাম্প মালিকরা ‘কাল আসেন’ বলে ফিরিয়ে দিচ্ছেন।

বগুড়ার বিভিন্ন উপজেলায় এই চিত্র এখন নিত্যদিনের। মীর্জাপুর এলাকার কৃষক আকরাম হোসেন, শাজাহান আলী ও আব্দুল কাদেরের মতো শত শত কৃষক সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত অপেক্ষা করেও ডিজেল না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরছেন।

একজন কৃষক বলেন, “সকাল ১০টায় এসেছি, এখন বিকেল। এখনো তেল পাইনি। জমিতে পানি না দিতে পারলে ধান মরে যাবে। তখন ক্ষতি কে দেবে?”দুপচাঁচিয়া উপজেলার একটি ফিলিং স্টেশনে বিকেলের আগেই ডিজেল শেষ হয়ে যায়। ডিসপেন্সার মেশিন ঢেকে রাখা হয়েছে। অপেক্ষমাণ কৃষকরা হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন।

একজন কৃষক জানান, “সকাল থেকে বসে আছি। এখন বলছে তেল নেই, কাল আসেন। কিন্তু জমির পানি কি কাল পর্যন্ত থেমে থাকবে?”

বরাদ্দের চেয়ে চাহিদা অনেক বেশি

জেলায় নিবন্ধিত প্রায় ৭২টি পেট্রোল পাম্প রয়েছে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে সরবরাহ কমে যাওয়ায় প্রায় সব পাম্পেই অতিরিক্ত চাপ পড়েছে। কোথাও নির্দিষ্ট পরিমাণের বেশি তেল বিক্রি করা হচ্ছে না, কোথাও আবার কিছু সময়ের জন্য বিক্রি বন্ধ রাখা হচ্ছে।

পাম্প মালিক ও রাজশাহী বিভাগীয় পেট্রোলিয়াম ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের বগুড়া জেলা শাখার সভাপতি মিজানুর রহমান রতন জানান, অনিয়মিত সরবরাহের কারণে চাপ তৈরি হয়েছে। পরিবহন খাতের স্বাভাবিক চাহিদার পাশাপাশি বোরো মৌসুমে সেচের বাড়তি চাহিদা যোগ হয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। বরাদ্দের তুলনায় চাহিদা অনেক বেশি হওয়ায় পাম্প মালিকরা হিমশিম খাচ্ছেন।

কয়েক দিনের ঘাটতিতেই বড় ক্ষতির শঙ্কা

কৃষকরা বলছেন, এখন ধানের বৃদ্ধির সবচেয়ে সংবেদনশীল সময়। মাত্র কয়েক দিন সেচ না দিতে পারলেই জমির ধান শুকিয়ে যাবে এবং ফলন মারাত্মকভাবে কমে যাবে। অনেকে আশঙ্কা করছেন, এই সংকট অব্যাহত থাকলে চলতি মৌসুমে বোরো ধানের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।

বগুড়া জেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জেলার বেশিরভাগ বোরো চাষ এখনো ডিজেলচালিত গভীর ও অগভীর নলকূপের ওপর নির্ভরশীল। বিদ্যুৎচালিত সেচের সুবিধা সব জায়গায় পৌঁছায়নি। ফলে জ্বালানি সংকট সরাসরি কৃষি উৎপাদনে আঘাত হানছে।

কৃষকদের দাবি, সরকার যেন দ্রুত ডিজেল সরবরাহ বাড়িয়ে দেয় এবং সেচ মৌসুমে কৃষকদের জন্য বিশেষ বরাদ্দ নিশ্চিত করে। অন্যথায় এই মৌসুমে বড় ধরনের ফলন হ্রাস অনিবার্য।

Visited 17 times, 1 visit(s) today