ভ্রান্তির মরীচিকা ও একটি ‘উত্তম-মধ্যম’ উপহার: শিবির কর্মীর অনুশোচনার সাত বছর

ভ্রান্তির মরীচিকা ও একটি ‘উত্তম-মধ্যম’ উপহার: শিবির কর্মীর অনুশোচনার সাত বছর
শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি

২০১৭ সালের ২৫ মার্চ। চট্টগ্রাম কলেজের সেই তপ্ত দুপুরে প্রথমবারের মতো ছাত্রলীগের মার খেয়েছিলেন, এক শিবির কর্মী। সেদিন ক্ষোভে ফেটে পড়েছিলেন তিনি, মনে মনে শপথ নিয়েছিলেন সুযোগ পেলে এর বদলা নেবেন। কিন্তু সময়ের আবর্তে ২০২৪-এর ৫ আগস্ট পরবর্তী পরিস্থিতি সেই তিক্ত স্মৃতিকেই আজ জীবনের অন্যতম ‘শ্রেষ্ঠ শিক্ষা’ হিসেবে স্বীকৃতি দিচ্ছে।

আজ থেকে প্রায় ৯ বছর আগে চট্টগ্রাম কলেজে ছাত্রলীগের হাতে প্রহৃত হওয়ার পর সেই তরুণ মনে করেছিলেন, তিনি অন্যায়ের শিকার। কিন্তু বর্তমানের রাজনৈতিক দৃশ্যপট তাকে বাধ্য করেছে পেছনের দিকে তাকাতে। সেই ঘটনার স্মৃতিচারণ করে তিনি আজ ১৬ এপ্রিল, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৬টার দিকে নিজের ফেসবুক একাউন্টের পোস্টের মাধ্যমে বলেন,

“২৫ মার্চ ২০১৭ চট্টগ্রাম কলেজে ছাত্রলীগ থেকে মাইর খাইছিলাম একবার,সেটাই প্রথম সেটাই শেষ..সেদিন ছাত্রলীগের উপর প্রচুর রাগ করছিলাম,সুযোগ পাইলে মেরে চেহারার রঙ চেইন্জ করে দিব বলছিলাম, কিন্তু আজ এসে মনে হচ্ছে সেদিন আমাকে আর কয়েকটা মারলে ভাল হত,এমন একটা জগন্য দলের হয়ে গোপনে কত কাজ করেছি,মাইর টা আমার প্রাপ্য ছিল,সেই ছাত্র লীগ ভাইদের ধন্যবাদ আমাকে সেদিন উত্তম মাধ্যেম দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য, এখন বুঝতেছি শিবির দেখলেই কেন হাসিনা পিটাইত।

সেই জামাত শিবির কে চিনতেছি ৫ আগষ্টের পর, কি ডাকাতরে বাবা,কত গুলো হাদীস মুখস্হ কত গুলো কুরআনের অনুবাদ মুখস্থ অথচ কাজ কাম সব মুনাফেকির,
ভন্ডের দল………..!”

৫ আগস্টের পর ইসলামী ছাত্র শিবিরের আসল রূপ দেখে তিনি স্তব্ধ। যে আদর্শকে তিনি একসময় সমর্থন করেছিলেন, তা আজ তার কাছে কেবলই ‘ভণ্ডদের দল’ হিসেবে পরিচিত।

একজন মানুষের রাজনৈতিক মতাদর্শের পরিবর্তনের এই গল্পটি কেবল ব্যক্তিগত ক্ষোভ নয়, বরং এটি একটি বড় ধরণের সামাজিক ও রাজনৈতিক উপলব্ধির প্রতিফলন। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে তিনি আজ বুঝতে পারছেন, সত্য এবং মিথ্যার দেয়ালটা অনেক সময় অভিজ্ঞতার কষাঘাতেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে। সেদিনের সেই মাইর তাকে হয়তো শারীরিক যন্ত্রণা দিয়েছিল, কিন্তু আজকের এই বোধদয় তাকে মানসিক মুক্তি দিচ্ছে।

 

Visited 166 times, 1 visit(s) today