❐ আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাতের মধ্যে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সব ধরনের ডিপ্লোম্যাটিক ও পরোক্ষ যোগাযোগ চ্যানেল বন্ধ করে দিয়েছে। এর ফলে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া ৮ এপ্রিল রাত ৮টা (ইস্টার্ন টাইম) আলটিমেটামের মধ্যে ইরানের বিভিন্ন অবকাঠামোয় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা চলছে।
প্রদত্ত তথ্য অনুসারে ইরান গাল্ফ স্টেটগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে তাদের অবকাঠামো টার্গেট করার এবং তেল সরবরাহ বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে। বাস্তবে ইরান স্ট্রেইট অব হরমুজে নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে, যার ফলে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। ইরান গাল্ফ দেশগুলোর (সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত) জ্বালানি ও অন্যান্য অবকাঠামোয় হামলা চালিয়েছে বলে খবর রয়েছে।
অপরদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের খার্গ দ্বীপে (প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র) সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা করেছে। ইরানের উত্তরাঞ্চলে (পারদিসসহ) ভবন ধ্বংস হয়েছে, রেলওয়ে, সেতু ও পেট্রোকেমিক্যাল প্ল্যান্টে হামলা হয়েছে।
ইরানি কর্মকর্তারা যুবকদের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুর সামনে মানবঢাল গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন। ইরান বলছে, বেসামরিক অবকাঠামোয় হামলা হলে তারা আঞ্চলিক সীমানা ছাড়িয়ে প্রতিক্রিয়া দেখাবে।
ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, স্ট্রেইট অব হরমুজ পুরোপুরি না খুললে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতু ধ্বংস করে দেওয়া হবে এবং “একটি পুরো সভ্যতা এক রাতেই ধ্বংস হয়ে যেতে পারে”। তিনি বলেছেন, “খুব কম কিছুই সীমার বাইরে”।
এই বক্তব্যকে অনেকে যুদ্ধাপরাধের উস্কানি হিসেবে সমালোচনা করেছেন।
ইরান সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে এবং স্থায়ী সমাধান চায়। পাকিস্তানসহ কয়েকটি দেশ মধ্যস্থতার চেষ্টা চালাচ্ছে, কিন্তু সরাসরি আলোচনা জটিল হয়ে পড়েছে।
পরিস্থিতি অত্যন্ত উত্তপ্ত। ইরানের অভ্যন্তরে অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দেশটির অর্থনীতি ও জনজীবন মারাত্মকভাবে প্রভাবিত হচ্ছে। বিশ্বব্যাপী তেলের দাম বেড়েছে এবং জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে। ট্রাম্পের আলটিমেটামের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরবর্তী ঘটনা এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, আরও বড় মাত্রার যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়লে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্ব অর্থনীতিতে মারাত্মক প্রভাব পড়তে পারে।
