নিজস্ব প্রতিবেদক
ওয়াশিংটন, ৮ এপ্রিল ২০২৬: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে উদ্দেশ করে দেওয়া একটি তীব্র হুমকিতে বলেছেন, “আজ রাতেই একটি পুরো সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যাবে, যা আর কখনো ফিরিয়ে আনা যাবে না।” ট্রাম্পের এই বক্তব্যকে অনেকে গণহত্যার হুমকি এবং যুদ্ধাপরাধের উস্কানি হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, “আমি চাই না এটা ঘটুক, কিন্তু সম্ভবত তাই ঘটবে।” এই হুমকি দেওয়া হয়েছে স্ট্রেইট অব হরমুজ পুনরায় খুলে দেওয়ার জন্য তার দেওয়া মধ্যরাতের (৮ এপ্রিল রাত ৮টা ইস্টার্ন টাইম) আলটিমেটামের আগে। ইরান যদি এই সময়সীমার মধ্যে চুক্তিতে না আসে, তাহলে মার্কিন হামলায় ইরানের পুরো সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যেতে পারে বলে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন।
এই বক্তব্যের পর বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতা, জাতিসংঘ এবং মানবাধিকার সংস্থাগুলো থেকে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার টার্ক বলেছেন, “সব পক্ষের বক্তব্যের মধ্যে সভ্যতাকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেওয়ার হুমকি এবং বেসামরিক অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করার হুমকি অত্যন্ত নিন্দনীয়।” ইরানের জাতিসংঘ প্রতিনিধি আমির-সাঈদ ইরাভানি এটিকে যুদ্ধাপরাধ ও সম্ভাব্য গণহত্যার উস্কানি বলে অভিহিত করেছেন।
ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যাঁ-নোয়েল বারো বলেছেন, বেসামরিক ও জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা যুদ্ধাপরাধ হতে পারে। ব্রিটিশ এমপিরা ট্রাম্পের এই হুমকির বিরুদ্ধে সরব হয়ে যুক্তরাজ্যের ‘সম্পৃক্ততা’ বন্ধের দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন কংগ্রেসের অনেক সদস্য—ডেমোক্র্যাট ও কিছু রিপাবলিকান—এই বক্তব্যকে ‘অমানবিক’ ও ‘ঐতিহাসিক অপরাধের’ সঙ্গে তুলনা করেছেন।
আন্তর্জাতিক মিডিয়া ও বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্পের এই ভাষা ঐতিহাসিকভাবে ‘দানবীয়’ শাসকদের কথার সঙ্গে মিলে যায়। অনেকে এটিকে ইরানের ৯ কোটি মানুষের বিরুদ্ধে গণহত্যার হুমকি হিসেবে দেখছেন। ইরান সরকার তার নাগরিকদের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও অন্যান্য সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর চারপাশে মানবঢাল গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছে।
ট্রাম্প অবশ্য বলেছেন, তিনি চান না এমন পরিস্থিতি তৈরি হোক, বরং “সম্পূর্ণ ও মোটামুটি শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন” ঘটলে হয়তো ‘বিপ্লবী কিছু ভালো’ ঘটতে পারে। তবে তার এই বক্তব্য বিশ্বজুড়ে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলেছে।বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, বেসামরিক অবকাঠামো—বিশেষ করে সেতু, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও তেল সুবিধা—ধ্বংস করা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করতে পারে। এই পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে আরও বড় যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
