‘তেল গেলে ফুরাইয়া, পুলিশের গাড়ি চলে ঠেলিয়া’, তবুও জ্বালানি সংকটের কথা মানতে নারাজ সরকার

‘তেল গেলে ফুরাইয়া, পুলিশের গাড়ি চলে ঠেলিয়া’, তবুও জ্বালানি সংকটের কথা মানতে নারাজ সরকার
শেয়ার করুন

❐ নিজস্ব সংবাদদাতা


রাজশাহীতে দেখা দিয়েছে চরম জ্বালানি সংকট। বন্ধ হয়ে গেছে বেশিরভাগ ফিলিং স্টেশন। তবে যে কয়টিতে তেল আছে সেখানে যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যাচ্ছে। আজ সকালে নগরীর শিরোইল স্টেশন রোডের পাশে শুভ পেট্রোলিয়াম ফিলিং স্টেশনে দেখা যায় যানবাহনের দীর্ঘ সারি।

অনেকেই মধ্য রাত থেকেই অপেক্ষা করছেন তেলের জন্য। মোটরসাইকেল, প্রাইভেট কারসহ অন্যান্য যানবাহনের দীর্ঘ সারি এক কিলোমিটার এলাকা জুড়ে। পাশাপাশি হঠাৎ এলপিজি গ্যাসের দাম বাড়ায় দিশেহারা ভোক্তারা। বাড়তি দাম কমাতে ও কৃত্রিম সংকট মোকাবেলায় চান প্রশাসনের নজরদারি।

বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি যাতে না হয় সেজন্য পুলিশ ও ডিবি সার্বক্ষণিক কাজ করে যাচ্ছে। তেল দেওয়ার আগে গ্রাহকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স ও গাড়ির লাইসেন্স দেখা হচ্ছে।

এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে তেল ফুরিয়ে যাওয়া পুলিশের গাড়ি ঠেলার দৃশ্য। বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা গেছে, পুলিশ সসদস্যরা নিজেরাই অচল পিকআপ গাড়ি ঠেলে নিয়ে যাচ্ছেন।

এ নিয়ে সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছেন নেটিজেনরা। অনেকেই ছবি শেয়ার করে তাতে ‘তেল গেলে ফুরাইয়া, বাত্তি যায় নিভিয়া’ শীর্ষক গান জুড়ে দিয়েছেন।

এমন সংকটের মধ্যেও সরকারের কর্তা ব্যক্তিরা জ্বালানি সংকটের কথা মানতে নারাজ। দায়িত্বশীলদের দাবি, দেশে জ্বালানির পর্যাপ্ত মজুদ আছে। মানুষ আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত তেল কিনছেন, মজুদ করছেন। এতেই নাকি একটু ভোগান্তি দেখা দিয়েছে!

জানা গেছে, সিএনজিচালিত অটোরিককশা অনেকেই এলপিজি কিট লাগিয়ে কনভার্ট করে ফেলেছেন সিএনজি সংকটে। এলপিজির দাম কয়েকগুণ হলেও সিলিন্ডার গ্যাস থেকে রিফিল করে অটোরিকশা চালাতে বাধ্য হচ্ছেন চালকরা। এতে একদিকে রান্নার গ্যাসের সংকট এবং দাম বৃদ্ধি চাপে ফেলেছে গৃহস্থালী ব্যবহারকারীদের।

গ্রাহকরা অভিযোগ করে জানান, অনেকের গাড়িতে তেল থাকার পরও আবার তেল নিতে আসছে। ফলে যাদের আসলেই তেল প্রয়োজন তারা পাচ্ছে না। যার ফলে এমন ভোগান্তি তৈরি হচ্ছে। প্রশাসনের নজরদারি ও হস্তক্ষেপে যাতে এই সংকট নিরসন করা হয় সেটারও আহবান করেন তারা।

এদিকে, নগরীতে পুলিশের ভুয়া পরিচয়ে নিয়ম ভেঙে জ্বালানি তেল নেয়ার চেষ্টা করায় এক যুবককে জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। জরিমানা পরিশোধ না করায় তাকে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। গতকাল দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নগরীর বোয়ালিয়া থানার গুল গফুর পেট্রোল পাম্পে এ ঘটনা ঘটে।

দণ্ডপ্রাপ্ত যুবকের নাম মো. তৌহিদুর রহমান (২৯)। তিনি নগরীর কাশিয়াডাঙ্গা থানার রায়পাড়া এলাকার মো. মোবারক হোসেনের ছেলে।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, তৌহিদুর রহমান পুলিশের ভুয়া পরিচয় দিয়ে পেট্রোল পাম্পে জ্বালানি নিতে যান। সেখানে অপেক্ষমাণ অন্যদের নিষেধ না মেনে তিনি নিজেকে পুলিশ পরিচয় দিয়ে বরাদ্দ তেল নেয়ার কথা বলে নিয়ম ভেঙে তেল নিতে এগিয়ে যান।

বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে এলে ঘটনাস্থলে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালায়। অভিযানে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. বোরহান উদ্দিন অন্তর তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।

জরিমানার অর্থ পরিশোধ না করায় তাকে ৬ মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়। সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ এর ৯২ (১) ধারায় এই দণ্ড দেয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জানান, জ্বালানি সংকটের কারণে দেশের পেট্রোল পাম্পগুলোতে নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে। অতিরিক্ত তেল নেয়া, মজুত রাখা, প্রতারণা ও অনিয়ম ঠেকাতে এ ধরনের অভিযান চালানো হচ্ছে। সরকারি নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত জনস্বার্থে এ কার্যক্রম চালু থাকবে বলে তিনি জানান।

Visited 8 times, 1 visit(s) today