নিজস্ব প্রতিবেদক::
সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী দেশের সব দোকানপাট ও শপিং মল সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে বন্ধ রাখার কথা থাকলেও রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় এ নিয়ম মানার ক্ষেত্রে দেখা গেছে স্পষ্ট শিথিলতা। রবিবার (৫ এপ্রিল) সন্ধ্যায় সরেজমিনে এমন চিত্রই উঠে এসেছে। সারাদেশেই এই চিত্র দেখা হেছে।
পল্টন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, কিছু মার্কেট নির্ধারিত সময়ের আগেই বন্ধ হয়ে গেলেও আশপাশের অনেক দোকান তখনও খোলা ছিল। চায়না মার্কেট ও পলওয়েল মার্কেট বন্ধ থাকলেও আশপাশের ছোট দোকানগুলো আংশিকভাবে খোলা রাখা হয়েছে। একইভাবে বসুন্ধরা শপিং সেন্টার বন্ধ থাকলেও পাশের ফার্নিচারের দোকানগুলোতে তখনও বেচাকেনা চলছিল এবং আলো জ্বলছিল। সিলেটের বন্দরবাজার, জিন্দাবাজার, শেখঘাট, কাজির বাজার, আম্বরখানা,রিকাবিবাজারসহ বিভিন্ন এলাকা অন্যান্য সময়ের মতো রাতে খোলা ছিল।
তবে হাতেগোণা কিছু ব্যবসায়ী রকারি কেউ নির্দেশনা মেনে সময়মতো দোকান বন্ধ করছেন। অধিকাংশ ব্যবসায়ী নিজের মতো করে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন।
এর আগে দুপুরে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানান, ব্যবসায়ীদের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে দোকানপাট ও শপিং মল সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত খোলা রাখার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, জরুরি সেবা ছাড়া অন্য সব প্রতিষ্ঠানকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বন্ধ রাখতে হবে এবং বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সচেতন হতে হবে।
সরকারের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, এই নির্দেশনা অমান্য করলে প্রয়োজনে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করতেই এ সিদ্ধান্ত কঠোরভাবে বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছে।
উল্লেখ্য, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় গত বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) মন্ত্রিসভা প্রথমে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে দোকানপাট বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়। পরে ব্যবসায়ীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সময় বাড়িয়ে সন্ধ্যা ৭টা করা হয়। তবে বাস্তব পরিস্থিতিতে এই সিদ্ধান্ত কতটা কার্যকর হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
